ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ

ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ যখন শুরু হয় তখন যুদ্ধ থামানোর জন্য বেশ কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতা করার জন্য এগিয়ে এসেছিল

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ যখন শুরু হয় তখন যুদ্ধ থামানোর জন্য বেশ কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতা করার জন্য এগিয়ে এসেছিল। যতদূর মনে পড়ে যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য  তুরষ্ক, ফ্রান্স, চীন, ইসরাইল বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছিল।সবচেয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছিল তুরষ্ক। সেই সময় আমরা সংবাদ মাধ্যমে জেনেছিলাম, চার,পাঁটি শর্তে রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধ করতে প্রায় রাজি হয়ে গিয়েছিল। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিও শর্ত মেনে নিতে  প্রায় সম্মত ছিল।

কিন্তু এই শান্তি প্রক্রিয়াকে পেছন থেকে কলকাঠি নেড়ে নৎসাত করে দিয়েছিল যুদ্ধবাজ বাইডেন সরকার।

- Advertisement -

জেলেনস্কিকে বিপুল পরিমান অস্ত্র এবং অর্থ সাহায্য দিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয় যুদ্ধবাজ বাইডেন। উদ্দেশ্য হচ্ছে, রাশিয়াকে শিক্ষা দেওয়া এবং পদানত করা। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনও দমে না গিয়ে ক্রমাগত আক্রমণ চালিয়ে গেছে।আমেরিকা এবং ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো থেকে অস্ত্র এবং আর্থিক সাহায্য না পেলে ইউক্রেনের পক্ষে এত দিন টিকে থাকা সম্ভব ছিল না।

ইউক্রেনের মূল শক্তিই হচ্ছে আমেরিকার সাহায্য। আমেরিকার সাহায্য না বলে যুদ্ধবাজ বাইডেনের সাহায্য বললে অত্যুক্তি হবে না।

তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনেস্কির বুঝা উচিত ছিল, আমেরিকা হঠাৎ করে সাহায্য বন্ধ করে দিলে তাকে বিপদে পড়তে হবে। আমেরিকা বহুবার বহু দেশকে মই দিয়ে উপরে উঠিয়ে মই কেড়ে নিয়েছে।আফগানিস্থান হচ্ছে তার জ্বলন্ত উদাহরণ। টু ইন টাওয়ার আক্রমণের পর আমেরিকা  আফগানিস্থান আক্রমন করে। তাদের মূল টার্গেট ছিল ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করা। সেই সাথে আফগানিস্থানে তালেবানি সরকারকে বিতাড়িত করে তাদের পাপেট সরকার হামিদ কারজাইকে গদিতে বসানো। ২০০১ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২০ বছর আমেরিকান সৈন্য আফগানিস্থানে উপস্থিত ছিল।

২০২১ সালে ট্র‍্যাম্পের করা চুক্তি অনুযায়ী পরবর্তী আমেরিকার নির্বাচিত বাইডেন সরকার ক্ষমতায় এসে অফগানিস্থান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয়।প্রত্যাহারের সংগে সংগে তালেবানরা আবার কাবুলের দখন নিয়ে নেয়। আফগানিস্থানের হাজার হাজার  নাগরিক সেই সময় আমেরিকার কার্গো বিমানে চড়ে বসে। সেই দৃশ্য ছিল হৃদয়বিদারক।সেই সময়ে আফগানিস্থানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি দেশ থেকে পালিয়ে কোন রকমে প্রানে রক্ষা পায়।

আফগানিস্থানে উদাহরণ দিলাম এই কারনে যে,ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির এইটুকু জ্ঞান রাখা উচিত ছিল আমেরিকা  যে সাহায্য দিচ্ছে তা একসময় প্রত্যাহার করে নিতে পারে। ট্র‍্যাম্প জয়ী হবার পর প্রকৃতপক্ষে সেটিই হয়েছে। ট্র‍্যাম্প ইউক্রেনকে দেওয়া অস্ত্র এবং অর্থ সাহায্য আর অব্যাহত রাখবে না। এই অবস্থায় ইউক্রেনের পক্ষে রাশিয়ার বিরুদ্ধে টিকে থাকা কঠিন।

যুদ্ধাবাজ বাইডেনের প্ররোচনায় না পড়ে  জেলেনস্কির উচিত ছিল  রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর প্রারাম্ভেই শান্তি আলোচনার যে সব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল সেই সব আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে যুদ্ধের অবসান ঘটানো।

কিন্তু তিনি সেই পথে না গিয়ে বাইডেনের প্ররোচনায় পা দিয়ে যুদ্ধকে জিয়ে রেখে নিজের দেশকে ধ্বংস এবং সেই সাথে বিশ্বশান্তি বিঘ্নের কারন হয়েছেন তিনি।

এখন যদি ট্র‍্যাম্প কোন রকম শান্তিপূর্ণ সমাধান না করে ইউক্রেনের সব সাহায্য বন্ধ করে দেন তবে জেলেনস্কির কিছু করার থাকবে না।

আমেরিকার মই দিয়ে উঠিয়ে মই কেড়ে নেওয়ার পুরাতন অভ্যাসটা  জেলেনস্কির বুঝা উচিত ছিল।

 

স্কারবোরো, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent