ঝোলানস্কির মতিভ্রম

শুনলাম ঝোলানস্কির মতিভ্রম নাকি কেটে গেছে তিনি আবার আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে

শুনলাম, ঝোলানস্কির মতিভ্রম নাকি কেটে গেছে, তিনি আবার আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে। কূটনীতির শক্তিটাই এমন। শান্তিচুক্তির পথ উন্মোচিত হোক। মাঝখান থেকে ইউক্রেনের মাটির তলার সকল খনিজ সম্পদ মার্কিনীদের হস্তগত হচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটাই বোধকরি মার্কিনীদের বড় অর্জন। তখন, ব্রিটিশ আর ফ্রান্সকে তারা বাধ্য করেছিল কলোনিগুলোর স্বাধীনতা দিতে, সেই সুবাদে মার্কিন উঠতি পুঁজি চমৎকারভাবে জায়গা করে নিতে পেরেছিল সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশগুলোতে। ভারতও ব্যতিক্রম ছিল না। টাটা-বিড়লা দুই গ্রুপই মার্কিন আশীর্বাদ পেয়ে ধন্য হয়েছিল। আর ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ড. আম্বেদকর সম্ভব করেছিলেন আইআইটি প্রতিষ্ঠায়। হুবহু, এআইটির আদলে। এ যুগে মার্কিন প্রশাসনে ও বড়-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভারতীয়দের যে আধিপত্য, তার কারণ ওই আইআইটি। কূটনীতিতে ভারত যে বিস্ময়কর উন্নতি করেছে, সেটা ওই পড়ালেখার গুনেই। ড. জয়শঙ্করের কথাই ভাবুন! হেনরি কিসিঞ্জারের চেয়ে কম কী?

কূটনীতিতে বাংলাদেশ কখনোই মন্দ ছিল না। বলা যায়, আমাদেরও ছিল গর্ব করার মতো দক্ষ কূটনীতিক, যাদের কারণে মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশ্বে বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্খার সঠিক বয়ানটি হাজির করা সম্ভব হয়েছিল। আর স্বাধীনতার পরে পশ্চিমা থেকে সমাজতন্ত্র– সকল বিশ্বের স্বীকৃতি আদায়।

- Advertisement -

বাংলাদেশের সাথে ভারতের বড় বড় সমস্যার সবগুলো কুটনীতির মধ্য দিয়েই দূর করা হয়েছে। সীমান্ত চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে ১০ হাজার একর বাড়তি জমি পেয়েছে, শান্তিবাহিনীকে নিরস্ত্র করা সম্ভব হয়েছে, পদ্মায় পানি পেয়েছে, সমুদ্র-সীমা নির্দ্ধারণও সম্ভব হয়েছে। বিগত তিন বছর ধরে বাংলাদেশ থেকে আড়াই বিলিয়ন ডলারের পণ্য ভারতে রপ্তানী হচ্ছে, যার সবই শিল্পজাত। বাংলাদেশ টেক্সটাইলে শিল্প-বিপ্লব করে ফেলেছে ভারতীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে। এসব আমাদের দৃষ্টিতে পড়ে না, কারণ, ওই যে ভারতফোবিয়া। সেটা মারাত্মক। সেটা কাটাতে পারলে আমাদের উদ্যোক্তাদের প্রাণশক্তির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে পারতাম।

বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভারতের অংশগ্রহনকে অনেকে পাকিস্তান ভাঙার চক্রান্ত বলে আনন্দ পায়। সেটা যে ফোবিয়ার কারণে, তা বলা বাহুল্য। কারো চক্রান্তে বাংলাদেশের জন্ম হয়নি। পুঁজিবাদের ঐতিহাসিক বিকাশ এবং বাঙালি পরিচয়, এই দুই প্রত্যয় বাংলাদেশের জন্মকে অবশ্যম্ভাবী করেছিল। আমাদের মিলিটারি ঐতিহ্য তিন হাজার বছরের পুরোনো। মহাভারতে বঙ্গ আর পুন্ড্র নামক জাতিদ্বয়ের বীরত্বের কথা নিশ্চয়ই জানা। তা যদি নাও জানেন, তো আলেকজান্ডার কেন ভাগিরথির তীর থেকে যুদ্ধ না করে ফিরে গেল, সেটা তো পড়তেই হবে। আর বাণিজ্য? সেটা কয়েক হাজার বছরের পুরোনো। সমুদ্র বাণিজ্য করতে বাঙালিরা কতদূর গিয়েছিল, জানেন নিশ্চয়। আর শ্রীলঙ্কায় যে সিংহল জাতি, সেটা আমাদের এই বাংলাদেশ থেকে হিজরত করা বিজয়সিংহের দল। এটা আরেক ইতিহাস।

ড. ইউনুস এ অঞ্চলের ঝোলনস্কি হয়ে ওঠার হওয়ার বিপদ থেকে দূরে থাকুক। কূটনীতির বিকল্প অধিকতর কূটনীতি, যেমন গণতন্ত্রের বিকল্প অধিকতর গণতন্ত্র। ঝোলানস্কি যুদ্ধের দোহাই দিয়ে ইউক্রেসবাসীকে গণতন্ত্রবঞ্চিত করে রেখেছে এক যুগ ধরে। দোহাই ইউনুস, বাংলাদেশে সেই কাজটি করতে যাবেন না। ট্রাম্প যখন ভারত সফরে আসছে, তখন আপনার উচিত ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে সম্পর্ক ঠিক করে ভারতের সাথে এনগেজ হওয়ার সুযোগ গ্রহন করা। ডিপ স্টেট সেটা চাইবে না, তারা আপনাকে চীনে যেতে বলবে। জানেন নিশ্চয়ই, তারা ঝোলানস্কিকে রীতিমতো গর্তে ফেলে দিয়েছিল।

 

ক্যালগেরি, আলবার্টা

- Advertisement -

Read More

Recent