
একা হাঁটতে হাঁটতে চা বাগানের অনেক ভিতরে চলে গেছি, কখন যে সন্ধ্যা হয়ে গেল বুঝতেই পারিনি। অন্ধকারে পাহাড়ের উপরে আমাদের বাংলোর রাস্তাটা ঠিকভাবে বুজতে পারছি না। এদিক ওদিক দেখছি যে কাউকে পাওয়া যায় কিনা। তখনই কিছুটা দূরে হারিকেন নিয়ে ছোট্ট একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিছুটা অবাক হলেও মেয়েটাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম বাংলোর রাস্তাটা চিনে কিনে না।
কোন কথা না বলে হাতের ইশারায় তার সাথে যেতে বলল। গা ছমছমে অন্ধকার কিন্তু অন্য কোন উপায় নেই তাকে অনুসরণ করা ছাড়া। মাঝখানে কত কিছু জিজ্ঞেস করলাম কিন্তু কোন কথারই জবাব দিল না। কিছুটা ভয় পেলেও যে পথে যাচ্ছি, এতটুকু বুঝতে পারলাম যে আমি ঠিক পথেই আছি। মাঝেমধ্যেই দূর থেকে পাহাড়ের উপরে আমাদের বাংলোর আলো দেখা যাচ্ছে।
হাঁটতে হাঁটতে আমরা বাংলোর একেবারে কাছে চলে এসেছি। খেয়াল করলাম যে পায়ের জুতার ফিতা খুলে গেছে, কখন আবার হোঁচট খাই এজন্য ফিতাটা মাত্র দু সেকেন্ডেই বেধে নিলাম। যখনই মাথা উঠিয়ে আবার হাঁটা শুরূ করলাম আমার সামনে কেউ নেই । আমি মাত্র দু মিনিট দূরে আমাদের বাংলো থেকে, সোজা রাস্তায় অন্য কোন পার্শ্ব রাস্তাও নেই, এদিক ওদিক তাকিয়ে কোথাও আর মেয়েটিকে দেখতে পেলাম না, নাম ও জানিনা যে নাম ধরে ডাকব।
এখানে দাড়িয়ে বাংলোর ভিতর থেকে বন্ধুদের আড্ডার শব্দ কানে আসছে, আমিও তাদের সাথে জয়েন করার জন্য এগিয়ে গেলাম। রাতের আড্ডায় চা বাগানের ম্যানেজার থেকে এরকম আরো কত গল্প শুনলাম যার হিসাব মেলানো যায় না। কিছু ঘটনার আসলে হিসাব না মেলাটাই ভালো ।
নোয়াখালী থেকে মামুন, ঢাকা থেকে আমি আর বাবু গেলাম হবিগঞ্জে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু জাহিদের ওখানে। জাহিদ এখন হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক। কতদিন পর আজকে আবার পুরোনো বন্ধুরা একসাথে হব।
নেমেই সার্কটি হাউজে দুপুরের খাবার খেয়ে চলে গেলাম চা বাগানের দিকে । বংলাদেশের বড় বড় সব চা বাগান গুলোই শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার এর দিকে। খাসিয়া পল্লি ঘুরে রাতে আমরা থাকলাম আমতলি টি স্টেট এর বাংলোতে। পাহাড়ের উপর কি সে সুন্দর করে সাজানো বাংলো। রাতভর আড্ডা, খানাপিনা আর কত যে গল্প।
পরের দিন হবিগন্জের বিখ্যাত রিজোর্ট “The Palace”, বৃন্দাবন টি স্টেট, ফ্রুট ভেলী ঘুরে বিকালে গেলাম বর্ডারের কাছাকাছি চিরহরিৎ বন “রেমা কালেঙ্গা বন্যপ্রানী অভয়ারন্য “ ঘুরতে। ১৮০০ হেক্টরের বিশাল এই বনে অল্প একটুই ঘুরতে পারলাম। ভাগ্য গুনে কিছু বানর, হনুমান আর হরেক রকমের পাখির দেখা মিলল।গহীন বনে ঘুরাঘুরির আর ঝুকি না নিয়ে রাতেই শহরে ফিরে এলাম। আবার হয়তো ইনশাআল্লাহ কয়েক বছর পর দেখা হবে ।
টরন্টো, কানাডা


