
প্রেমে পড়া বারণ
যতবার দেখা কথা হয়,প্রথমে দুজনেই বলে,মনে রেখো
“প্রেমে পড়া বারণ”!
এরপর শুধু কথায় ভ্রমণ!
কথায় কথায় ওরা পৌঁছে যায় ভেনিসের সেন্ট্রাল স্টেশন সান্তা লুসিয়াতে।
স্যূভেনির এর দোকান খুঁজে কেনে বাহারী উইন্ডচাইম।
মোলেচে আর বিগোলী ইন সালসা খায় লাঞ্চ এ!
যদিও গুগল সার্চ এ বাঙালী খাবারের মেনুতে ভাত,পোস্ত দানা ভর্তা আর সরিষা ইলিশ দেখে একজনের চোখ জ্বলজ্বল করছিল আনন্দে !
মুরানো,বুরানো আর টরসেলো রাইডে যেয়ে ওরা নিজেদেরকে জনি ডেপ আর এঞ্জেলিনা জলি ভাবতে শুরু করেছিল।নানান রংয়ের বাড়িগুলো দেখে ওরা ভুলেই গেলো,ওদের “প্রেমে পড়া বারণ!”
শোন তোমার নামে একটা বাড়ি কিনবো এখানে।
বলতো কোন রং চাও?
অন্যজন বলবে হলুদ,বসন্ত রং বাড়ি চাই আমার!
এরপর হাত ধরে বাড়িটার চারপাশ ঘুরবে ওরা!
একটা দিনের জন্য সম্রাজ্ঞী হয়ে যাবে ও।
যেনো অঙ্গুলী হেলনেই হাতিশালে হাতি,ঘোড়াশালে ঘোড়া।
‘জ্য তেইম মন পাপিওন’ বলে খুশিতে কলকল করবে মেয়েটা আর রাতের ডিনারে ইলিশের দোপেঁয়াজার অঙ্গীকার করবে।
ওদিকে ছেলেটা হণ্য হয়ে খুঁজবে সেই ভাষার মানে!
একদিন পাতাল ট্রেনে ঘুরে বেড়াবে ওরা।
এক টিকেটে দু’টো মানুষ।
কখনো জ্যাকেটের পকেটে ,কখনো ব্যাকপ্যাকে লুকিয়ে থাকবে ও।
চোখ ভরে দেখবে কেমন করে শহর ছাড়িয়ে ছুটে যাবে ট্রেনটা।
ওর খুব ইচ্ছে করবে,একদিন দুজনে মিলে শহরের ব্যস্ত রাস্তায় দাঁড়িয়ে আকাশের নীল চাঁদটা দেখবে!
চৌরাস্তার মোড় থেকে ছেলেটা কিনবে ক্যাপাচিনো আর গ্রীন টি।
ফুটপাথে বসে ক্যাপাচিনো খেতে খেতে সারাদিনের গল্প বলবে ও।
গ্রীনটির কাপটা একজন গীটারিস্টকে দিয়ে আসবে ।
এরপর দুজনে মিলে কত গান গাইবে।
কত কবিতার ফুলঝুরি।
এভাবেই দূর থেকে দূরে ভেসে ভেসেও প্রেমে পড়ে যাবে ওরা।
যে অসুখটার ভয় করেছিল ওরা দুজন , তুমুল করেই সেই অসুখে পড়বে ওরা!
ওদের আর কিছু মনে থাকবে না।
দিন,ক্ষণ,মাস ,বছর,
মানুষ,নিয়ম,নীতি!
ওরা জোরে জোরে গাইতে থাকবে
“তোমায় যত গল্প বলার ছিল
সব পাপড়ি হয়ে গাছের পাশে ছড়িয়ে রয়েছিল”
জীবনে যত বারণ সব ভাংচুর হয়ে যায়,ভালোবাসার কাছে এলে!
(“জ্য তেইম মন পাপিও(ন)”=
আমার প্রজাপতি,তোমাকে ভালোবাসি )
অটোয়া, কানাডা
