
আজকের এই আয়োজনে আয়োজকদের পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাই আমি সাইফুল ভূঁইয়া । আমি জানি আমাদের আজকের এই আয়োজনে অনেকেই আছেন যাঁরা আমাদের এই উইন্ডসরের। আবার অনেকে এসেছেন আমেরিকার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আমাদের এই ছোট্ট শহরে, আমাদের এই প্রানের মেলায়। আপনাদের সাদর উপস্থিতির জন্য আমরা কৃতার্থ – আমরা আপ্লুত।
আজকেই এই গল্প মেলায় সবাইকে জানাই প্রান ঢালা শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন।
আজকের এই আয়োজন একটু ব্যতিক্রমী – এজন্য যে এটির আয়োজক কোন সংগঠন না, আবার কোন ব্যাক্তিও না। আমরা আমরাই – আমরা সবাই। আজকেই এই সম্মিলন হচ্ছে একটি মিলন মেলা। অনানুষ্ঠানিক এই মেলায় কোন প্রোটকল নেই, নেই কোন আম্লাতান্ত্রিক জটিলতা। চাইলেই আপনি গান, কৌতুক কিংবা নিজের ভেতরকার জমানো কথা সবই জানাতে পারেন বন্ধুদের। যে কথা আপনার নিজেকে মনের গহীনে আনন্দ দিত এতদিন আপনার নিজেকে – এখন তা হয়তো দেবে সবাইকে।
যখন সংগঠনের অনুষ্ঠান হয় তখন আনুষ্ঠানিকতা একটা রেওয়াজ, অনেকটা বাধ্যতামূলক। মহামান্য মেয়রকে মাল্যদান, প্রধান অতিথিকে শুভেচ্ছাদান – বিশেষ অতিথিকে বরন করে নেয়া – এসব করেই কেটে যায় বেলা। তাই ভাবের লেনা দেনা হয়ে উঠেনা, হয়না শোনা অচেনা কন্ঠের মায়াবি গান।
আমাদের আজকের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা তাই অচেনা কণ্ঠের গান, গল্প আর হৃদয় কথন বন্ধুমেলায় ছড়িয়ে দেয়া – ক্ষণিকের জন্য হলেও নিজেকে বিলিয়ে দেয়া সবার মাঝে। সবার সহযোগিতা এবং আন্তরিকতা পেলে এখন থেকে মাঝে মাঝেই হয়তো এরকম মিলন মেলার আয়োজন হবে – আয়োজন হবে গল্প আসরের। কেউ বলবে আষাড়ী গল্প, আবার কেউ বলবে হ্রদয়ের গল্প।
এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে গিয়ে আমরা যেমন বন্ধুদের অসম্ভব রকমের আন্তরিকতা এবং সহযোগিতা পেয়েছি, ঠিক তেমনি কারো কারো বিভিন্নমুখী প্রশ্নেরও সম্মুখীন হয়েছি। প্রশ্ন ছিল – সবাইকে দাওয়াত দেয়া হয়নি কেন। আমরা সবাইকে জানাতে চাই আমাদের ইচ্ছে ছিল শতভাগ কিন্তু স্থান সংকুলান এবং সময় দুটোই ছিল আমাদের জন্য প্রতিবন্ধক। কেউ বলেছেন উইন্ডসরে একটি সমিতি থাকতে আমাদের কেন এই আয়োজন। আমাদের কথা হলো- আমি নিজেও সমিতিরই একজন নগন্য সদস্য – এর সাথে আমাদের কোন মতানক্য নেই। সমিতির আনুষ্ঠানিক আয়োজনে আমরাও আছি এবং থাকবো সব সময়ই।
আর বাড়াবনা আমার কথা – শুনবো আজ সবার কথা।
আনন্দ আনন্দে ভরে উঠুক আজকেই এই সন্ধ্যা।
মিলবো আমরা গল্প গানে।
উইন্ডসর, কানাডা
