হাসিনার পতন ও বাইডেন প্রশাসন

শেখ হাসিনার পতনের পেছনে আমেরিকার বাইডেন প্রশাসনের একটি বড় ভূমিকা ছিল

শেখ হাসিনার পতনের পেছনে আমেরিকার বাইডেন প্রশাসনের একটি বড় ভূমিকা ছিল।

শেখ হাসিনার উপর বাইডেন সরকারের ক্ষুদ্ধ হবার অনেকগুলি কারনের মধ্যে হাসিনার চীনের দিকে বেশি ঝুকে যাওয়া একটি অন্যতম কারন ছিল।

- Advertisement -

চীন হচ্ছে আমেরিকার চির প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ। একমাত্র চীনই আমেরিকাকে অর্থনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম। তাই চীনের শক্তি বিস্তার আমেরিকার কাছে বড় চিন্তার বিষয়। চীনের এই শক্তি বিস্তারে যে সব দেশ সহায়ক শক্তি হিসাবে কাজ করবে সেই সব দেশ আমেরিকার সুনজর থেকে বঞ্চিত হবে। বিশেষ করে এই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে আমেরিকার দৃষ্টিভংগী এমনই হবার কথা। আমেরিকা চীনকে মোকাবিলা করার জন্য ইন্ডিয়াকে তারা স্ট্র‍্যাটিজিক পার্টনার হিসাবে গ্রহণ করেছে৷  তবে সব কিছুতে আমেরিকা  ইন্ডিয়াকে ছাড় দেয় তা কিন্তু সত্য নয়। বাইডেন শেখ হাসিনার পতনে ইন্ডিয়াকে কোন ছাড় দেয়নি। এক্ষেত্রে বাইডেন সরকার ইন্ডিয়াকে পাশ কাটিয়েই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং তা বাস্তবায়নও করেছিল।কিন্তু ট্র‍্যাম্প বাইডেনের অনুরূপ হবেন তা ভাবার কোন কারন নেই।

বাইডেন কি কখনো ভেবেছিল, ড.ইউনুস চীনের দিকে ঝুঁকে যাবেন?  নিশ্চয়ই এমন ভাবনা তার মধ্যে ছিল না।

তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে,ড.ইউনুস চীনের দিকে ঝুঁকে গেলেন কেন?

আসলে ড.ইউনুস চীনের দিকে ঝুঁকে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

গত ইউএস নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টি ক্ষমতায় আসতে সক্ষম হলে ড.ইউনুসের চীনের দিকে ঝুকে পড়ার প্রয়োজন হতো না।

ডেমোক্রেটিক পার্টি ক্ষমতায় না আসায় ড.ইউনুস মোটামুটি শক্তিহীন এবং পরাশক্তি রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বন্ধুহীন হয়ে পড়ে।

বিশেষ করে ট্র‍্যাম্প ক্ষমতায় আসায় তিনি এখনো পরিষ্কার ধারণা পাননি যে,ট্র‍্যাম্প তাকে ফেভার করবেন কিনা। তিনি নানারকম চেষ্টা-চরিত্র, লবিং করে যাচ্ছেন কিন্তু এখনো আশানুরূপ সাড়া পেয়েছেন বলে মনে হচ্ছে না বরং ট্র‍্যাম্পের কিছু একশনের কারনে মনে হচ্ছে না তিনি ড.ইউনুসকে ফেভার করবেন।

এক্ষেত্রে ইউএস এইড অপব্যবহারে ট্র‍্যাম্পের বক্তব্য এবং ট্র‍্যাম্প কর্তৃক বেশ কিছু কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করা ড.ইউনুসের অনুকূলে যাওয়ার মতো ইংগিত দেয় না।

এমন একটি অবস্থায় ড.ইউনুস একেবারে শূন্যের উপর বন্ধুহীন অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না। তাকে ক্ষমতায় থাকতে হলে বন্ধু বাড়াতে হবে এবং কোন না কোন পরাশক্তির অবগুণ্ঠনের নিচে আশ্রয় নিতে হবে। সেই কারনেই ড.ইউনুস চীনের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। সেই সাথে বন্ধু হিসাবে সংগে নিয়েছেন পাকিস্তানকে।

চীনকে পাওয়ার জন্যই তিনি ল্যান্ডসলক থিওরি প্রচার করেছেন যদিও চীন অবগত ছিল না ড.ইউনুস চীনকে জড়িয়ে এমন কিছু বলবেন।

তবে ড.ইউনুস যে খেলায় নেমেছেন তাতে ঝুঁকি আছে অনেক।

ড.ইউনুস বিপদে পড়ে গেলে চীন কি তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসবে?চীন যে তার পাশে দাঁড়াবে এমন আশ্বাস কি তিনি চীনের কাছ থেকে পেয়েছে?

এটা ঠিক কোন পরাশক্তি কারো পাশে বন্ধু হিসেবে থাকলে অন্য দেশ সেক্ষেত্রে সমীহ করে চলে।

কিন্তু চীন অনেকটা পাকাল মাছের  মতো। এত সহজে কারো কাছে ধরা দেয় না।

তবে ড.ইউনুস কোনভাবেই সুস্থিতে নেই।

একটি কথা আছে”, কুঁজোর মাঝে মাঝে শখ হয় চিৎ হয়ে শোবার।কিন্তু পিঠে কুঁজ থাকায় কুঁজো  চিৎ হয়ে শুয়ে কোন আরাম পায় না।

ড.ইউনুসের অবস্থা হয়েছে সেই কুঁজোর মতো। তার বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসীন হবার বহু দিনের শখ ছিল কিন্তু ক্ষমতা পাবার পর কিছুতেই তিনি সুস্থি পাচ্ছেন না।

হাস্যকর ব্যাপার হচ্ছে, সারাজীবন আমেরিকার প্যাপেট হয়ে থাকা একজন ব্যক্তি চীনা বলয়ে ঢুকে যাচ্ছে।এই রকম ঘটনা ইতিহাসে বিরল।

 

স্কারবোরো, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent