কবি দিলওয়ারকে মুঠোফোনে আমার প্রথম খুদেবার্তা

রাজধানীর যাবতীয় কৃত্রিমতা আর সারাক্ষণ নিজেকে প্রচারের ইঁদুরদৌড় এবং গোষ্ঠীবদ্ধ দলকানাদের মুখর ডামাডোলের বাইরে মফস্বল শহরে বসবাস করেও চিন্তায় চেতনায় ও মননে অত্যন্ত আধুনিক মনস্ক ছিলেন কবি দিলওয়ার

সেই আশির দশকের শুরুতে, যখন আমি একজন সদ্য তরুণ ছড়াকর্মী, টগবগ করছি সাহিত্যের নেশায়, ছুটছি সর্বত্র—দেশের এই প্রান্ত থেকে ওই প্রান্তে, তখন এক বিকেলে সিলেটের ভার্থখোলায় কবি দিলওয়ারের বাড়িতে গিয়েছিলাম। বন্ধু মিলু কাশেম আমাকে নিয়ে গিয়েছিলো তাঁর কাছে। আমার মতোন অতি তরুণ নবীন এক ছড়াকারকে প্রবীন কবি দিলওয়ার বরণ করেছিলেন বিপুল ভালোবাসায়। কথাবার্তা আচরণে একেবারেই আটপৌরে, শাদামাটা। কোনো ব্যাপারেই কোনো লুকোছাপা নেই, নেই কোনো ওপরচালাকি। রাজধানীর যাবতীয় কৃত্রিমতা আর সারাক্ষণ নিজেকে প্রচারের ইঁদুরদৌড় এবং গোষ্ঠীবদ্ধ দলকানাদের মুখর ডামাডোলের বাইরে মফস্বল শহরে বসবাস করেও চিন্তায় চেতনায় ও মননে অত্যন্ত আধুনিক মনস্ক ছিলেন কবি দিলওয়ার। রাজধানীর অমানবিক যান্ত্রিক কোলাহল থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন তিনি সযত্নে। সিলেটের শান্তস্নিগ্ধ মায়াময় পরিবেশকেই তিনি তাঁর স্বর্গ বিবেচনা করেছেন। যখন খোলসে আবৃত ও মুখোসে পারঙ্গম তাঁর সতীর্থ সুযোগ-সন্ধানী লেখক-কবিরা রাজধানীতে বসে সাহিত্যের জমিদারিকে আরো বিস্তারিত করার কূট-কৌশলে নিয়োজিত, তিনি তখন মফস্বলের পত্র-পল্লবের গাঢ়সবুজের নেশার ঘ্রাণে মাতাল। দিলওয়ারের এই রাজধানী বিমুখতা তাঁকে দিয়েছে অনন্য বৈশিষ্ট্যের সিলমোহর। সেই সিলমোহর নিয়েই সগৌরবে মাথা উঁচু করে বেঁচে ছিলেন তিনি বিপুল মর্যাদায়।

আমরা স্মরণে আনতে পারি, সত্তরের দশকের শেষান্তে কিংবা আশির সূচনায়, বাংলাদেশ টেলিভিশনে শিল্প- সাহিত্য ভিত্তিক একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতেন লেখক সৈয়দ শামসুল হক। তার একটি পর্ব ছিলো সিলেটের ওপর। শাদাকালো টিভির সেই জমানায় আমরা প্রত্যক্ষ্য করেছিলাম সৈয়দ হকের সঙ্গে দিলওয়ারের অসাধারণ একটি কথোপকথন, সেই অনুষ্ঠানে। সিলেটের ভার্তখোলায় অগণন বৃক্ষশোভিত তাঁর গৃহক্যাম্পাসে, পাখির সুমিষ্ট কুজনে সৃষ্ট স্বর্গীয় আবহসমৃদ্ধ চমৎকার একটি পরিবেশে শহুরে আধুনিক রুচিবান লেখক ও চৌকশ উপস্থাপক সৈয়দ হক নানান প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছেন কবি দিলওয়ারের প্রতি। কবি দিলওয়ার তাঁর আটপৌড় ভঙ্গিতে সিলেটের আঞ্চলিক ডায়ালেক্টের সঙ্গে প্রমিত বাংলার মিশেলে নির্মোহ সব উচ্চারণে কী রকম নাড়িয়ে দিচ্ছিলেন স্মার্ট কথক সৈয়দ হককে। হুবহু না হলেও অনেকটা এরকম একটা প্রশ্ন করেছিলেন সৈয়দ হক—আচ্ছা কবি, এই যে রাজধানী থেকে দূরে নিজেকে গুটিয়ে রেখে সাহিত্য চর্চা করে যাচ্ছেন আপনি দীর্ঘকাল ধরে, আপনার কি মনে হয়না যে আপনি রাজধানীতে অবস্থান করে এই চর্চাটি অব্যাহত রাখলে আপনি আরো বড় পরিসরে নিজেকে মেলে ধরতে পারতেন?

- Advertisement -

তাৎক্ষণিক এবং খুবই সংক্ষিপ্ত উত্তরে দিলওয়ার রীতিমতো ঘায়েল করে ফেলেছিলেন উপস্থাপককে। সহজাত নিঃশব্দ হাসিতে উদ্ভাসিত দিলওয়ার বলেছিলেন তাঁর সেই মিশ্রডায়ালেক্টে—‘‘যুক্তরাজ্য নিবাসী আমার একজন ইংরেজ কবিবন্ধু বলেছিলেন—‘তুমি যদি মেট্রোপলিটান সিটিতে যাও তো কিছু বুকার দেখা পাবে!’’ দিলওয়ারের সেই উচ্চারণে মেট্রোপলিটান সিটির প্রতিনিধি লেখকের চেহারার অভিব্যাক্তিটি ছিলো দেখার মতো।

কবি দিলওয়ারের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা ছিলো দুই প্রজন্মের পরষ্পরের প্রতি পরষ্পরের বিপুল শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার। এক্ষেত্রে আমার একটি বাড়তি পাওনা ছিলো স্নেহ। যেটা তিনি আমার প্রতি সরবরাহ বা বর্ষণের ক্ষেত্রে ছিলেন অকৃপণ। কী বিপুল স্নেহই না পেয়েছি আমি তাঁর তরফ থেকে! ১৯৮০ সালে তিনি বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার পেলেন। বাংলা একাডেমী মঞ্চ থেকে তাঁর নামটি ঘোষণা করা হলো। তখন টেলিগ্রামের যুগ। একটি টেলিগ্রাম বার্তায় আমি তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছিলাম।

আমি কানাডায় চলে আসার পর কবি দিলওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগটা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও পত্রিকায় তাঁর লেখালেখির প্রতি আমার নজরদারি ছিলো বরাবরের মতোই। অনেকটা রিপোর্টাজধর্মী তাঁর ছোট ছোট গদ্য পড়তাম জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ের ওপর। সেখানে সব সময়ই আমি খুবই মানবিক অসাম্প্রদায়িক একজন বিশ্বনাগরিককে প্রত্যক্ষ করতাম।

অনেকগুলো বছর কানাডায় আটকে থাকার পর ২০০৮ থেকে পুনরায় আমার নিয়মিত বাংলাদেশে যাবার সুবাদে আবারও যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছিলো কবি দিলওয়ারের সঙ্গে। লক্ষ্য করেছি দীর্ঘ অদর্শনে আমার প্রতি তাঁর আগ্রহ বা স্নেহ কোনোটাতেই ঘাটতি পড়েনি এতোটুকু। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণ।

আমি তাঁকে ফোন করতাম নিয়মিত। আর তিনি পাঠাতেন এসএমএস। তাঁর সেই মুঠোফোন বার্তা প্রায়শ এসে হাজির হতো অতি প্রত্যুষে। যখন আমি নিদ্রাদেবীর হাওলায়। কারণ আমার সকাল হয় দেরিতে। আমার এসএমএস স্বভাব আলস্যভরপুর। এসএমএসের জবাব বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কলব্যাক পদ্ধতিতে দিয়ে অভ্যস্ত আমি। আর তাই দিলওয়ার ভাইয়ের এসএমএসের জবাবে আমি একটা কল দিতাম তাঁকে। এটা ছিলো নিয়মিত বাঁধাধরা বিষয়। এসএমএস পাঠিয়ে তিনি কখনোই আমার এসএমএস বার্তার জন্যে অপেক্ষা করতেন না। অপেক্ষা করতেন ফোন কলের। বইমেলা শেষে আমি কানাডা ফিরে এসেও মাঝে মধ্যে নক করতাম দিলওয়ার ভাইকে। খুবই খুশি হতেন তিনি আমার লংডিস্টেন্স কল পেয়ে।

আমাকে পাঠানো দিলওয়ার ভাইয়ের এসএমএস গুলো ছিলো ভারী ইন্টারেস্টিং। আমার ঢাকার সেলফোনটি একটু পুরনো মডেলের। সনি এরিকসন। আমার জানামতে বাংলাদেশে আর মাত্র একজন ব্যাক্তি এই সেটটি ব্যাবহার করেন। তিনি ফরিদুর রেজা সাগর। চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। আমার সেটটি তাঁর কাছ থেকেই পাওয়া। তাঁর দুটি ছিলো। একটি তিনি আমাকে দিয়ে দিয়েছেন। পুরনো বলে এই সেটটায় এসএমএস সংরক্ষণ কোটা খুবই সামান্য। দ্রুতই ডিলিট করে করে এর বার্তাকক্ষটিকে খালি রাখতে হয়। নইলে নতুন বার্তা সেই কক্ষে প্রবেশ করতে পারে না। আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করতাম কবি দিলওয়ারের পাঠানো বার্তাগুলোকে বিশেষ মর্যাদায় ডিলিটের আওতা থেকে মুক্ত রাখতে। একটি আলাদা জায়গায় তাঁর প্রচুর বার্তা আমি জমিয়েও রেখেছিলাম। সেদিন রোমান হরফে লেখা সেই বার্তাগুলোকে উদ্ধার ও তর্জমা করতে গিয়ে ভুলবশত ভুল বাটনকে স্পর্শ করে ফেলতেই ঘটলো বিপত্তি। একটি বার্তার খানিকটা লিখে বাকিটা লিখবো বলে স্ক্রল করে নিচে নামতে গিয়ে ডিলিট অপশনে আঙুল ঠুকে গেলো। ব্যস। মুহুর্তেই একগাদা বার্তা হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো।

০৪ মার্চ ২০১২ তারিখে সন্ধ্যা ০৭ টা ০৭ মিনিটে প্রাপ্ত সেই অসম্পূর্ণ বার্তাটায় কবি দিলওয়ার বলছেন—‘‘রিটন ৭৬ চলছে, ৬৩ বছর কলমের বয়স। এতোগুলো বছর পার হলাম, ছিলোনা কোনো আর্থিক সহযোগিতা, যখন যাবো যাবো অবস্থা এলেন প্রকৃতিপ্রদত্ত উপহার আনিসা খাতুন, রাজকন্যা বুকে তুলে নিলেন হাড্ডিসার কবিকে। দিলেন সন্তানাদি। কালচার্ড বাই বার্থ বলা যায়। ৪৭ সাল থেকে অদ্যাবধী সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বিভিন্ন একাডেমী বস্তা বস্তা টাকা খরচ করে এক ধাক্কায় চেনার মতো যেমন শেক্সপীয়ার, টলস্টয়, গোর্কি, নরম্যান রস্টেন, নেরুদা এটসেট্রা’’……এরপরের অংশটা ডিলিট করে বসে আছি! কী বলেছিলেন দিলওয়ার ভাই কিছুতেই মনে করতে পারছি না। ক্ষমা করবেন কবি!

সেই একই তারিখে অর্থাৎ ০৪ মার্চ ২০১২, রাত ১১টা ৫৬ মিনিটে দিলওয়ার ভাই পাঠিয়েছিলেন একটি অনন্য একটি এসএমএস ছড়ায় ছড়ায়—‘‘ননসেন্স কবিতার এল আর রিটন/পিএইচডি নিতে যাবে কলেজ ইটন!?/বানান কেমন হলো? বলুন তো রাদিচে,/টেগোরের শেষকাল গুমড়িয়ে কাঁদিছে…/সেভিয়ান সোসাইটি গড়েছিল কারা?/ ক্লেমেন্ট এটললীয়ার তরতাজা নারা!/ নীরদ সি চৌধুরী হন নাই রবি/ভাষার লড়াইয়ে ভাগে ইংরেজ গজনবী!/আয় রে রিটন রাম দা আন/লেবার পার্টি দেয় আজান। কে ডি/কবি দিলওয়ার০৪ মার্চ ২০১২।’’

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ রাত ১০টা ০৫ মিনিটে প্রাপ্ত এসএমএসে তিনি লিখলেন—“গীতাঞ্জলি জলাঞ্জলি দিলেন যখন মিত্রজন/ডাকছি তোকে পুত্র হে হয়ে অমিত্রসুদন/তুই অজয় দেবগন/কাহানি নয় নয় সত্য/ভারত বিভাগ করলো যারা ছিল মানবদৈত্য।/ময়দানবও গবলীন/ এক দেহে অতলীন/জন্ম দিলো কি হিন্দু মুসলিম?/মার্কা মারা ঘি/জ্বেলে দেনা প্রাকৃতিক/ ধীরোদাত্ত শব্দ দিলো ধিক্‌!/ আয় রে অজয় দেবগন/গঙ্গাজলের প্রশ্রবন/লক্ষ্যস্থলে বইয়ে আয়/ভক্তিমাগে গঙ্গানদী সামুদ্রিক অগ্নি চায়/লক্ষ লক্ষ সুন্দর যাদব গঙ্গাজলেই মানুষ কর/রইলো আমার এই আশীষ লোকোত্তর/কবি দিলওয়ার, শচীন ভৌমিকের প্রিয় কবি।’’

০২ মার্চ ২০১২ সকাল ০৬টা ৫৮ মিনিটে কবি দিলওয়ার পাঠিয়েছিলেন আরেকটি ছড়া এসএমএস—“রিটনের আলমের ছড়া কেনো মিলে না?/খোদার হুকুম ছাড়া পাতা নাকি হিলে না/এই মতো বাৎচিত জেদ্দায় আছে কি?/ফুল কভু ফুটেছিলো ডুমুরের গাছে কী?”

কবি দিলওয়ার যে মুঠোফোনটি ব্যাবহার করতেন সেটার সেন্ট আইটেম ফোল্ডারে আমাকে পাঠানো তাঁর এসএমএসগুলো থাকলে থাকতেও পারে। সেগুলো উদ্ধার করা গেলে আমি নিশ্চিত তাঁর পাঠানো এসএমএসগুলো দিয়েই আলাদা একটি রচনা লিখে ফেলা সম্ভব। সেই এসএমএসগুলোয় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলো বহু অতীত ইতিহাস আর নতুন করে জেগে উঠবার বিপুল উদ্দীপনা। ছিলো শিল্প-সাহিত্য-রাজনীতি নিয়ে তাঁর স্বপ্ন এবং হতাশার কথাও। আর আমার প্রতি তাঁর অকৃপণ স্নেহের ফল্গুধারাটি তো ছিলোই।

দুই.

কবি দিলওয়ারকে নিয়ে একটিমাত্র ছড়াই লিখেছিলাম আমি, সাম্প্রতিক কালে। সেটাও একজনের তাগাদায়। সিলেটে আমার বেশকিছু ছড়াবন্ধু আছে। প্রীতিভাজন বশির আহমদ জুয়েল তাদের অন্যতম। ২০১১ সালের ৩১ ডিসেম্বর বিকেলে, আমি তখন ঢাকায়, জুয়েলের ফোন এলো। সেই মুহূর্তে আমি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। চ্যানেল আই আর রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার সুরধারার যৌথ উদ্যোগে রবীন্দ্রনাথের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান উপভোগ করছি। মাত্র ছ’দিন আগে ঢাকায় এসেছি। মহাব্যস্ততায় দিন কাটছে। এর মধ্যে সেই বিকেলে ফোন করে জুয়েলের আবদার—কবি দিলওয়ারের জন্মদিন উপলক্ষে আমাকে একটা ছড়া লিখে দিতে হবে। এবং সেটা আজই। সম্ভব নয় জানিয়ে দেবার পরেও নাছোড় জুয়েল আমাকে ইমোশনালি ঘায়েল করত সচেষ্ট হলো—আমি জানি আপনি দিলওয়ার ভাইকে অসম্ভব শ্রদ্ধা করেন। আর দিলওয়ার ভাইও আপনাকে কী যে ভালোবাসেন! বললাম হবে না। আমি এখন একটা অনুষ্ঠানের মধ্যে। ফোন কেটে দিলাম। ফোনটা কেটে দেবার পর থেকেই অনুভব করলাম মনটা আমার কেমন খচখচ করছে। অনুষ্ঠানে মন লাগাতে পারছি না। জুয়েলকে ফেরানো যায় প্রতিহত করা যায় উপেক্ষা করা যায় কিন্তু কবি দিলওয়ারকে তো উপেক্ষা করা যায় না! অডিটোরিয়ামে বসেই আমন্ত্রণপত্রের টুকরো কাগজে তাৎক্ষণিকভাবে একটা ছড়া লিখে ফেললাম। কল দিলাম জুয়েলকে। জুয়েল আমার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত ফোন কল পেয়ে মহা উচ্ছ্বসিত। তারচে উচ্ছ্বসিত আমি নিজে। দিলওয়ার ভাইকে নিয়ে রচিত আমার ছড়াটা আমার ডিকটেশনে ওভার টেলিফোন লিখে নিলো জুয়েল। ছড়াটা কিরকম ছিলো? ২০১৩ সালের বইমেলায় অনন্যা থেকে প্রকাশিত আমার বয়স্কজনপাঠ্য ছড়ার বই ‘‘ভোলামন পিড়িং পিড়িং’’ থেকে ছড়াটা এখানে তুলে ধরছি–

অর্ঘ্য, দিলওয়ারকে

দিলওয়ারকে চেনো বন্ধু? কোন দিলওয়ার? কবি।

খুব মমতায় আঁকেন যিনি বাংলাদেশের ছবি।

খুব মমতায় লেখেন যিনি বাংলা মায়ের কথা

যাঁর কলমে মূর্ত থাকে মুক্তি, স্বাধীনতা।

যখন আমার স্বদেশ কাঁদে পুত্র হারা শোকে

যখন আমার দুখিনী মা-র অশ্রু ঝরে চোখে—

দিলওয়ারের কণ্ঠে তখন বিপুল অভয় বাজে

তাই দিলওয়ার স্থান পেয়েছেন সবার হৃদয় মাঝে।

৩১/১২/২০১১

তিন.

দিলওয়ার ভাই, কানাডায় আমার নিস্তরঙ্গ একঘেয়ে প্রবাস জীবনে এখনো বাংলাদেশ থেকে অতি প্রত্যুষে এসএমএস এলে আমার মোবাইল ফোনটি তার দায়িত্ব অনুযায়ী সুরের মুর্ছনায় আমাকে তা জানিয়ে দেয়। আপনার কোনো বার্তা এলো ভেবে আমি ঘুমঘুম চোখে চশমা হাতড়ে ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকাই। না, ওখানে ‘কবি দিলওয়ার’ নামটি ঝলমল করে ওঠে না আর। আপনি আমাকে এখন আর কোনো খুদেবার্তা পাঠান না আমার মুঠফোনে। আপনাকে কখনোই এসএমএস পাঠাইনি আমি। কিন্তু আজ পাঠাচ্ছি—‘ হাই দিলওয়ার ভাই কেমন আছেন আপনি? আমি জানি আপনার স্থানান্তর ঘটেছে। মৃত্যু ঘটেনি। কবির মৃত্যু হয় না। কবি হচ্ছেন নিসর্গের সন্তান। নিসর্গের সঙ্গেই মিশে যান কবি। আপনি যেমন গেছেন। আপনি আছেন ভোরের ঘাসে শিশির বিন্দু হয়ে। বিকেলের সোনারোদে আপনি আছেন পাতাদের মর্মরে। আপনি আছেন সন্ধ্যার আলো-আঁধারিতে, নীড়ে ফেরা পাখিদের ক্লান্ত ডানায়। আপনি আছেন রাতের আকাশে মেঘেদের প্রতিবেশি ধ্রুবতারা হয়ে। রেস্ট ইন পীস। রিগার্ডস।

 

অটোয়া, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent