
রাত পোহালেই আর একটি নতুন দিন
নতুন সম্ভাবনার সকাল –
নতুন বছর –
বাংলা নববর্ষ ১৪৩২
আজ রবিবার – এখন মধ্যরাত।
দিনটি চৈত্রের শেষদিন হলেও আমাদের এই উইন্ডসরে আজ চৈত্রের খরতাপ ছিল না। থাকার কথাও না। এখানে এই সময়টায় ভালই শীত থাকে। তবে কেন জানি আজকের দিনটি ছিল উষ্ণতায় ভরা, পুরুপুরি বৈশাখী আমেজের একটি দিন। একদম সামার।
আমরা কটি পরিবার মিলিত হয়েছিলাম আজ লিসা- মুন্নার বাসায়। সবাই ছিল বাহারি সাজে, সাথে বাহারি সব খাবারের আয়োজনও ছিল। খাবারের শুরুটা ঝাল মুড়ি দিয়ে (বাংলাদেশি স্টাইলের কাগজের মোচায়) হলেও চটপটি, ফুচকা, পান্তা-ঈলিশ, হরেক রকমের ভর্তা, বাদ যায়নি কোন কিছুই। ধন্যবাদ লিসাকে এবং অন্য সব ভাবীদেরকে যারা অনেক কষ্ট করে সব বৈশাখী খাবারের আয়োজন করেছেন। আমার বউ বানিয়েছিল বিশুদ্ধ সাদা ছানার মিষ্টি। সব মিলিয়ে এ ছিল ব্যতিক্রমী এক আয়োজন। মনে হয়েছে আবারো ফিরে গিয়েছি সুদূর অতীতে।
আমি জানি আমাদের বয়সী অনেকেরই ছিল এই রকমের মধুমাখা অতীত।
গ্রামের বাড়িতে যেতাম চৈত্র সংক্রান্তি আর বৈশাখের শুরুতে। মূল আকর্ষন বৈশাখী মেলা হলেও, আসর জমত আরো অনেক কিছুর। আম চুরি থেকে শুরু করে – কাঁঠাল চুরি, আখ চুরি, সবই করত গ্রামের কাজিনরা। নিজেদেরই গাছ – তাও রাতে চুরি করে কাচারি ঘরে গিয়ে সবাই মিলে খাওয়া।
সে এক অন্য রকমের আনন্দ।
কোন এক বৈশাখে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলাম।
প্রচন্ড কাল বৈশাখীর ঝড়। মাথায় জোংরা, পায়ে কাঠের খরম পড়ে শুধু হেটে বেড়াই বাড়ির উঠানে কিংবা এ ঘর থেকে অন্য ঘরে। আবার মাঝে মাজে আম কুড়ানো। খুব ভাল লাগত বৈশাখের বজ্র বিদ্যুত আর ঝড় তুফানের খেলা।
সেই গ্রামও নেই – ঝড়ের তান্ডবো হয়ত আর আসেনা এখন।
সবই আজ হারানো দিনের গল্প।
শুভ রাত্রি।
শুভ নববর্ষ ১৪৩২।
উইন্ডসর, কানাডা।

