
বছর ঘুরে এদিনটি এলে ফেসবুক মনে করিয়ে দেয় সেই ভয়ংকর ভুমিকম্পের কথা। কিন্তু সংগীতশিল্পী নাসরিন আক্তার বিউটি, উপস্থাপক জুলিয়া ইসলাম ও আমি সহজেই দিনটি ভুলে থাকতে চাইবো। কারন সেদিন হয়তো আমাদের জীবনের শেষদিন হতে পারতো!
২৫ এপ্রিল ২০১৫ সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বচ্চোমাত্রায় ভুমিকম্প হয়েছিল, ৬.৪ রিখটার স্কেল। কখনো কখনো বিপদের সময় নিজ জীবন বাঁচানো থেকে পেশাগত দায়িত্বপালন বড় হয়ে যায়!
সেদিনের ভুমিকম্পের ১ ঘন্টা পরে ফেসবুকে দেয়া আমার স্ট্যাটাস এবং লাইভ অনুস্টানের সময় ভুমিকম্পের মুহুর্তের ভিডিওটির লিংক নীচে দেয়া হলো।
সেদিনের সেই স্ট্যাটাস:
ভুমিকম্পের সময় দুপুর ১২টা থেকে আমি পিসিআরে প্রোডিউসারের দায়িত্ব পালন করছিলাম ‘একুশে দুপুর ‘ লাইভ প্রোগ্রামের । স্টুডিতে সেটে ছিলেন ক্লোজআপ তারকা জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী নাসরিন আক্তার বিউটি ও উপস্থাপক জুলিয়া । ১২টা ১৪/১৫ মিনিটের সময় ভূ-কম্পন শুরু হতেই পিসিআর থেকে লাইট ডিজাইনার, সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার , স্টুডিওর প্রোডাকশন এসিস্ট্যান্ট ,২জন ক্যামেরাম্যানকে দ্রুত স্টুডিও ছেড়ে চলে যেতে দেখি । শুধু অনলাইন সুইচার আমার পাশে অসহায়ের মতন বসে থাকে। ঘটনার বিহব্বলতায় সে ফ্রেম কাটতেও ভুলে যায় ।
এদিকে লাইভের মধ্যে দেখি আমার অতিথি বিউটি নিজ হাতে এক ঝটকায় মাইক্রোফোন খুলে দৌড়ে স্টুডিও থেকে বেরিয়ে যায় । উপস্থাপক জুলিয়ার গলা শুকিয়ে গেছে , অসহায় হয়ে সে আমার নির্দেশের অপেক্ষায় থাকে । অবস্থার গুরুত্ব বুঝতে পেরে আমি দ্রুত টকব্যাকে বলি ,জুলিয়া বলেন,” দর্শক এই মুহূর্তে ভুমিকম্পন হচ্ছে ,যা আপনারা হয়তো অনুভব করছেন এবং টিভি পর্দায় লক্ষ্য করছেন ক্যামেরা কাঁপছে । এই অবস্থায় অনুস্টান চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব। আপনারা দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিন । একুশের দুপুর এখানেই শেষ করছি ।”
জুলিয়া আমার কথাগুলি বলতে পারেনি , তার মতন করে কিছু একটা বলতে না বলতে লাইভের মধ্যেই বিউটি দৌড়ে স্টুডিও থেকে বেরিয়ে যায় এবং জুলিয়াও।
এদিকে আমার নির্দেশের অপেক্ষায় না থেকে প্রোডাকশনের মোস্তাফা ক্ষিপ্রগতিতে এন্ড স্ক্রল চালিয়ে সিঁড়ির দিকে দৌঁড় দেয় । সব শেষে আমি ও অনলাইন সুইচার মিঠুভাই দ্রুতগতিতে সিঁড়ি ভেঙ্গে ১০তলা থেকে নীচে নেমে আসি। অফিস তখন জনমানবহীন। কোথাও কেউ নেই, সবাই ভয়ে, আতংকে জাহাঙ্গীর টাওয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে।
বারিস্তার সামনে এসে দেখি রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ । কারওয়ান বাজার এলাকার সকল হাইরাইজ বিল্ডিং মানুষ শুন্য। সবার চোখে মুখে উদ্বেগ ও আতংক। এরা অনেক ভাগ্যবান, ভুমিকম্পনের টের পেয়ে দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে আসতে পেরেছে। কিন্তু আমরা যারা মিডিয়ায় কাজ করি তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শেষ পর্যন্ত কাজের সাথে থাকতে হয়।
কখনো কখনো নিজ জীবন বাঁচানো থেকে পেশাগত দায়িত্ব অনেক বড় হয়ে পড়ে ।
মন্ট্রিয়ল, কানাডা
