কলাপাতায় মোড়ানো ভেজ ভিশ

কাজের উটকো ঝামেলায় সন্ধ্যা ৬টায় অশোক দিশানায়কের আমন্ত্রনে হাজির হতে পারিনি

কাজের উটকো ঝামেলায় সন্ধ্যা ৬টায় অশোক দিশানায়কের আমন্ত্রনে হাজির হতে পারিনি। রাত দশটায় সেইন্ট ভিয়েতর – সেইন্ট লরেন্ট ক্রসিংয়ে অবস্থিত  লা ক্যাটরিনাতে যখন হাজির হই তখন আসর ভেঙে অনেকে চলে গেছেন। ভাঙা হাটে হাজির হওয়া আমার জন্য নতুন কিছু নয়।

লা ক্যাটরিনার দরোজা ঠেলে ঢুকতেই দূর হতে অশোক এলোমেলো ত্রস্ত পায়ে ছুটে এসে জড়িয়ে ধরে। বারবার বলতে থাকে,’ শেষ পর্যন্ত তুমি আসায় খুবই খুশি হয়েছি। আমি অনেকটাই আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম তুমি কাজ শেষে হয়ত আসবে না। ‘

- Advertisement -

অতিরিক্ত পানের কারণে অশোকের কথাগুলো জড়িয়ে যাচ্ছিল। কিন্ত ওর সেন্স ঠিকই কাজ করছিল।

তুমি নিশ্চয় ক্ষুধার্ত রনি। আগে খেয়ে নাও, তারপর না হয় পান করবে।

একটু পরে খাই?

না, না, রাত অনেক হয়েছে। ডিনার টাইম অলরেডি ওভার।

তাতে কি, এখানে তো আমরা আমরাই।

অশোক কি আর আমার কথা শোনে!

একরকম টেনে নিয়ে রেস্টুরেন্টের কর্নারের একটি টেবিলের সামনে আমাকে বসিয়ে দেয়।

অশোক ছুটে যায় বার কর্নারে দাঁড়ানো ওয়েটারের দিকে।আমার দু’চোখ তখন আলো আঁধারে খুঁজে বেড়ায় ডেভিডকে। পরে অশোকের কাছে জানতে পারি, ডেভিড সস্ত্রীক এসেছিল। রাত ন’টার দিকে চলে গেছে।

অশোক হচ্ছে আমার শ্রীলংকান বন্ধু। খুবই ভাল ছেলে। দীর্ঘদিন যাবত কানাডায় বসবাস করছে।  আমার বন্ধু ডেভিডের মাধ্যমে তার সাথে পরিচয়। আমরা তিনজনেই একই স্থানে কাজ করি। সেই কারণে সম্পর্ক জমে ক্ষীর হতে সময় নেয়নি।

ভাল কথা, আজ আমার বন্ধু,সহকর্মী অশোকের জন্মদিন। সেই উপলক্ষে লা ক্যাটরিনাতে পার্টির আয়োজন করে। এখানকার শেফ শ্রীলঙ্কান।  এই কারণে ডিনারে সার্ভ করা হয় শ্রীলঙ্কার ট্র‍্যাডিশনাল ফুডস। চমৎকৃত হয়েছি কলার পাতায় মুড়ে পোড়ানো রাইস ডিশ দেখে। ডিশ সার্ভ করার পর কলাপাতা দেখেই জানতে চাইলাম এরা কোথায় পেল কলাপাতা?

আমার জন্য চরম বিস্ময় অপেক্ষা করছিল।

অশোক জানায়, পার্টির জন্য এই পাতা বাংলাদেশে থেকে আনানো হয়েছে।

শুনেই আমার ভীমড়ি খাওয়ার অবস্থা। নিজকে সামলে নিয়ে বলি, এটা কি আমাকে খুশি করার জন্য বলছো?

ধুর, সত্যি বলছি। এখানে লংকানদের সব গ্রোসারিতে কলাপাতা পাওয়া যায়, যার অধিকাংশই আসে তোমার দেশ থেকে।

বিস্ময়ের ঘোর কাটিয়ে বিড়বিড় করে বলি,হয়ত বা।

যাহোক, এই খাবার নাকি শ্রীলঙ্কার মানুষের পছন্দের খাবার।  এটা তৈরিতে ব্যবহৃত হয় হলুদ চাল ( অনেকটাই হলুদ খিচুড়ির মতন), লামপারা কারি, সিনি স্যাম্বল, ফিশ বোল, কাঁচা কলার তরকারি, বরবটি ও সিদ্ধ ডিম। এর রান্না নাকি দুই ধাপে হয়ে থাকে। প্রথমে হলুদ ভাত ( পড়ুন পোলাওর চাল )  এবং অন্যান্য উপাদান আলাদা রান্না করা হয়। পরে রান্না করা খাবারটি  কলার পাতায় মুড়ে পোড়ানো হয়।

আমার টেবিলে অশোক ছাড়া অন্য কেউ ছিল না।  তাই ফ্রগ, স্পুন সরিয়ে রেখে খাঁটি বাঙালের মতন হাতেই খাই। বহুবছর না একযুগেরও বেশী সময়ের পর কলাপাতায় পোড়ানো খাবার খেলাম।

শুভ জন্মদিন অশোক।

 

মন্ট্রিয়েল, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent