
ভারতীয় বিশেষ করে পশ্চিম বঙ্গের কিছু বাংলা মিডিয়া এবং উগ্রবাদী বিজেপি নেতৃত্ব বাংলাদেশে জুলাই বিপ্লবের পর জোরালোভাবে বলার চেষ্টা করেছে যে ভারতের চিকিৎসা সুবিধা ছাড়া বাংলাদেশীরা বিনা চিকিৎসায় এবং ভারত রপ্তানি না করলে বাংলাদেশের মানুষ খাদ্য পণ্যের অভাবে না খেয়ে মরবে। বাস্তবে ঘটেছে ঠিক বিপরীত। বাংলাদেশ চীনের সাথে চিকিৎসা বিষয়ে নিবিড় ভাবে কাজ করছে। যেটার সুফল স্বল্পসময়ে পাওয়া যাবে বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে। পৃথিবীর অন্যান্য অন্চল থেকে খাদ্য সামগ্রী সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়ে বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই সফল হয়েছে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের কোন ঘাটতি জনজীবনে তেমন ক’রে প্রভাব ফেলেছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে না। বরং মূল্য বৃদ্ধির হার অতীতের বছরগুলোর তুলনায় সহনীয় পর্যায়েই রয়েছে। বৈদেশিক মূদ্রার রিজার্ভ সাম্প্রতিক অতীতের চেয়ে বেশ স্বাস্হ্যকর অবস্থায় আছে। পক্ষান্তরে পশ্চিম বঙ্গসহ ভারতের অনেকগুলো রাজ্যের মেডিক্যাল ট্যুরিজম ধারনার চেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেটা ভারতের সংবাদমাধ্যম গুলোর প্রকাশিত প্রতিবেদনে থেকে স্পষ্টত উঠে আসছে। খাদ্য পন্য রপ্তানি কতটা প্রভাবিত হয়েছে সেটা বলার সময় স্বাভাবিকভাবে এখনো আসেনি।
২। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের বিষয়ে ভারতের অবজার্ভেশন এবং প্রতিক্রিয়ায় কিছুটা বাড়াবাড়ি থাকলেও বিষয়টিকে পজিটিভভাবে দেখা যায়। যদিও বিষয়টি আন্তরাষ্ট্রীয় তারপরও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এমনটা মনে করা যথাযথ। কারন পৃথিবীর যে কোন অংশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নিপীড়নের স্বীকার হলে বিবেকবান মানুষ প্রতিক্রিয়া জানাবে এমনটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু ভারতের অভ্যন্তরে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার নির্যাতনের বিষয়টি ভারত কিভাবে দেখে এবং কি ধরনের ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করে সেটাও অবশ্যই বিবেচনা করা দরকার। ভারতে সংখ্যালঘুদের উপর রাষ্ট্রীয় মদতে ক্ষমতাসীন দলের নির্যাতনের ঘটনায় ভারতের সরকারি ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা যেতে পারে। বিষয়টি ভারতের নৈতিক অবস্থানকে ক্রমশই দূর্বল করে দিচ্ছে। নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত ক্রমাগতভাবে উগ্র সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিনত হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠছে।
