পুরুষকে ব্যালেন্স করে চলতে হয়

সবাই মিলে মিশে থাকাকেই সংসার বলে এবং সবাই মিলেমিশে থাকাটাই সুখ

এক র্যাব কর্মকর্তা আত্মহত্যা করেছেন। সুইসাইড নোট থেকে বুঝা যাচ্ছে বৌ আর মায়ের মাঝে বেচারা ব্যালেন্স রাখতে হিমশিম খাচ্ছিল, সে আর নিতে পারেনি। নিজের পিস্তলেই নিজেকে গুলি করেছে।

ঘটনাটা বহু পুরুষকে ছুঁয়ে গেছে। কারন আমাদের দেশের ঘরে ঘরে এই একটা সমস্যা। পুরুষকে ব্যালেন্স করে চলতে হয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাঁরা ফেল করে। সংসারে চলে তুমুল অশান্তি। ধর্মে আত্মহত্যা গুনাহ না হলে পুরুষদের আত্মহত্যার হিড়িক পরে যেত নিশ্চিত।

- Advertisement -

আমার বাড়িতে আমার বৌ, আমার মা, শ্বাশুড়ি সবাই একসাথে থাকি। কিন্তু বাড়িতে কোন ঝগড়া হয়না। বিষয়টা বিস্ময়কর। তবে এখানে ক্রেডিট আমার না মোটেই। ঐ তিনজনের। রহস্যটা হচ্ছে, ওরা তিনজনই যে যার সীমানা ও অধিকার সম্পর্কে ভালই জ্ঞাত। এবং তিনজনের কারোরই মনে কোন ইন্সিকিউরিটি নেই।

আমার মা জানেন তিনি আমাকে জন্ম দিয়েছেন, কাজেই আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাঁর ছেলেই থাকবো। “আমার ছেলেকে জাদু করেছে” “আমার ছেলে এখন পর হয়ে গেছে” “আমার ছেলে সব সম্পত্তি বৌকে দিয়ে দিচ্ছে” “আমার ছেলে শ্বশুরবাড়ির গোলাম হয়ে গেছে” তিনমনি হাতির মতন শরীর হওয়ার পরেও “আমার ছেলেকে না খাইয়ে শুকিয়ে ফেলেছে” ইত্যাদি ইত্যাদি বুলশিট ভাবনা উনার মাথায় নাই। যেসব মায়েদের থাকে, ওরাই ঝগড়া বাঁধায়।

তেমনি আমার বৌয়েরও এই ধারণা নাই “সারাক্ষন মায়ের শাড়ির আঁচলে বাঁধা থাকে” “মায়ের কথায় উঠে বসে” “মায়ের কথায় সব সম্পত্তি ভাই বোনদের নামে বিলিয়ে দিচ্ছে” ইত্যাদি ইত্যাদি। ও জানে ওর সাথে আমার বিয়ে হয়েছে, মৃত্যুর আগে পর্যন্ত একজনের সাথে আরেকজনকেই থাকতে হবে। ও আমার বাচ্চাদের মা। কাজেই ও ছাড়া আমার গতি নাই। আমার ভবিষ্যৎও ওর উপরই নির্ভর করছে।

আমার শ্বাশুড়িও মেয়ের সংসার কিভাবে চালাতে হবে, কিভাবে স্বামীকে হাতের মুঠোয় রাখতে হবে, কিভাবে কি করলে স্বামী মা-বোন-ভাই প্রমুখ থেকে সরে এসে সারাদিন বৌ বৌ করবে ইত্যাদি ছোটলোকামি করেন না। তিনি ভাল করেই জানেন উনার মেয়ের সুখই উনার সুখ, এবং মেয়েকে সুখী রাখতে হলে এইসব না করলেই বরং ভাল হবে।

এখানে আমার বোনেরও ভূমিকা আছে। সে দূর থেকে ফোনে মাকে জিজ্ঞেস করে না আমার সংসারের হাল হকিকত কি। আমার বৌ এইটা ঐটা কেন করছে না।

সবাই মিলে মিশে থাকাকেই সংসার বলে, এবং সবাই মিলেমিশে থাকাটাই সুখ।

আমার কাজ হচ্ছে ওদের মনে যেন কোন ইনসিকিওরিটি পয়দা না হয়, সেটাই নিশ্চিত করা। ব্যস। ফর্মূলা সহজ, ইমপ্লিমেন্টেশন কঠিন। কারন আমরা আমাদের সীমানা জানিনা, আমাদের ইন্সিকিউরিটি বেশি। আমরা সব ব্যাপারেই অতিরিক্ত নাক গলাই। “ভাল চাইতে” গিয়ে উল্টো বিরাট ক্ষতি করে ফেলি।

এই যে ছেলেটা মারা গেল। এখন মা, বৌ, বোনেদের গিয়ে জিজ্ঞেস করা যাক, “শান্তি পেয়েছো?”

ওদের জবাবটা কি হবে? ওরা নিশ্চই এখন অনুশোচনায় ভুগছেন, একটু সংযত হলে হয়তো ছেলেটা বেঁচে থাকতো!

- Advertisement -

Read More

Recent