গ্রাহক কমার জন্য অভিবাসন নীতিকে দায়ী করছে কানাডার টেলিকম কোম্পানিগুলো

গত দুই বছরে দেশের জনসংখ্যা বেড়েছিল ৩ দশমিক ১ শতাংশ হারে ১৯৫০ এর দশকের পর যা আর দেখা যায়নি

বছরের পর বছর ধরে কানাডার শীর্ষ টেলিকম কোম্পানিগুলো উচ্চ অভিবাসন ঢলে ওপর ভর করে এগোচ্ছিল। অধিকাংশ প্রান্তিকেই বিপুল সংখ্যক মোবাইল গ্রাহককে তাদের নেটওয়ার্কে যুক্ত করতে পেরেছিল। সেদিন আর নেই।

কানাডার শীর্ষ তিন টেলিকম অপারেটর বিসিই ইনকর্পোরেশন, রজার্স কমিউনিকেশন্স ইনকর্পোরেশন এবং টেলাস গ্রুপ সবাই গত দুই প্রান্তিকে বিনিয়োগকারীদের সামনে গ্রাহক বৃদ্ধি শ্লথ হওয়ার কারণ হিসেবে সরকারের কঠোর অভিবাসন নীতির কথা তুলে ধরেছে। এই তিন টেলিকম কোম্পানি চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে সম্মিলিতভাবে ৫৪ হাজার নতুন গ্রাহক তাদের নেটওয়ার্কে টানতে পেরেছে। এই সংখ্যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

- Advertisement -

গত দুই বছরে দেশের জনসংখ্যা বেড়েছিল ৩ দশমিক ১ শতাংশ হারে, ১৯৫০ এর দশকের পর যা আর দেখা যায়নি। এটা সম্ভব হয়েছিল ব্যাপক সংখ্যায় বিদেশি শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী কর্মী আগমনের কারণে। কিন্তু এর ফলে আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবা চাপের মধ্যে পড়ায় গত বছর অভিবাসীর ঢল কমাতে পদক্ষেপ নেয়। এর ফল হিসেবে কানাডা চলতি বছর ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কম স্থায়ী বাসিন্দা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। বিদেশি শিক্ষার্থীও কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে নিট মোবাইল গ্রাহক কিছুটা কমতে দেখেছে বিসিই। এর কারণ হিসেবে তারা সরকারের অভিবাসন নীতির কারণে জনসংখ্যা বৃদ্ধি শ্লথ হওয়ার কথা বলছে। এর ফলে কোম্পানির রাজস্বও কমছে, যা তাদের লভ্যাংশ প্রায় অর্ধেক কমাতে বাধ্য করেছে। ১৭ বছরের মধ্যে এই প্রথম লভ্যাংশ কমালো কোম্পানিটি।

টেলাসও বলেছে, অভিবাসন হ্রাস মোবাইল গ্রাহক প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সবচেয়ে বেশি গ্রাহকভিত্তির রজার্স টেলিকমও প্রথম প্রান্তিকে দুর্বল গ্রাহক বৃদ্ধির তথ্য দিয়েছে। এর কারণ হিসেবে তারাও সরকারের অভিবাসন নীতির কারণে জনংখ্যা বৃদ্ধি হ্রাস পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছে।

২০২৩ সালে কানাডার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। সেটা অবশ্যই দীর্ঘস্থায়ী হেয়নি। ২০২৪ সালেই জনসংখ্যা বৃদ্ধির এই হার ১ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসে এবং সরকার তার অভিবাসন নীতি অটুট রাখলে ২০২৬ সালে তা ঋণাত্মক হয়ে যেতে পারে।

- Advertisement -

Read More

Recent