ফুড বেসিকস আর এডোনিসে ঘুরে ঘুরে

সকালে রাইয়ানকে কাজে নামিয়ে ফুড বেসিকস আর এডোনিস এ ঘুরে ঘুরে বাজার করলাম

সকালে রাইয়ানকে কাজে নামিয়ে ফুড বেসিকস আর এডোনিস এ ঘুরে ঘুরে বাজার করলাম। সকালবেলা মানুষ এত কম থাকে।শবজী, ফল সব এত সুন্দর সাজানো।

ধনিয়াপাতাও এত সবুজ।

- Advertisement -

রাশীক আর বাসমাহ ওদের বাসায় গেছে। যদিও ওরা আসা যাওয়ার মাঝেই আছে, তবুও ওরা না থাকলে বাসাটা মলিন লাগে। মনেহয়, কোথাও কেউ নেই।

ভোরবেলা থেকেই তারাপদ রায় এর একটা কবিতা মনের ভিতর গুন গুনগুন করছিল, “সব ঠিক হয়ে যাবে”

কবিতাটা বলতে বলতেই রান্নায় ডুবলাম।

“এই সেদিন পর্যন্ত ভেবেছি, সব ঠিক হয়ে যাবে।

কবে কখন কেমন করে, কি ভাবে ঠিক হবে,

এবং সত্যিসত্যি কি ঠিক হবে,

এবং ঠিক না হলেই বা কি হবে,

সে বিষয়ে অবশ্য কোনো চিন্তা করিনি

কোনো ধারণাও ছিলো না।

শুধু কোথায় কেমন একটা-আলগা বিশ্বাস ছিলো,

মনে মনে ধরে রেখেছিলাম,

একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে।”

এরপর টিভিতে নাটক ছেড়ে শুনতে শুনতে রান্না শুরু করলাম। আজ শুক্তো রান্না করলাম।

করলা, সজনা, মিষ্টি আলু, কাঁচা কলা আর বেগুন দিয়ে। নারিকেল কুচি আর কৌটার কোকোনাট মিল্ক দিয়ে।ইউটিউবে দেখলেও পুরো নিজস্ব স্টাইলে রান্না করলাম।

রাইয়ানকে বাসায় নামিয়ে পরে রুমিভাবীর বাসায় গেলাম। উনাকে নিয়ে বেবী ইনাইয়াকে দেখতে যাবো। ভাবী আর মহসিন ভাইয়ের জন‍্য একটু শুক্তো নিয়ে গেলাম।

মহসিন ভাই পিছনের বাগানে ছিলেন। ভাইও আমার ভাইজানের মত বাগান করতে ভালোবাসেন ।যাই ছুঁয়ে দেন সব সবুজ হয়ে যায়।

মহসিন ভাই বললেন বাগান সাজালাম, ছবি তুলবেন না?

ব‍্যাস হয়ে গেলো ক্লিক ক্লিক।

স্মৃতিতে জুড়ে গেলো একটা উষ্ণ বিকেলের কিছুটা সময়।

কতদিন পর জানালা খুলে গাড়ি চালালাম। অবশেষে শীত ফুরালো তবে!

মে থেকে অগাস্ট , সামার।

চারটা মাস পলকেই চলে যাবে!

এবার ইচ্ছে আছে দূরে কোথাও যাই বা না যাই, আশে পাশের শহরগুলোতে ঘুরবো!

অনেকদিন পর ১৪ মাস বয়সী ইনাইয়া আর ওর মা বাবার সাথে সুন্দর এক সন্ধ্যা কাটলো গল্পে । মুন্নী দেশ থেকে টরন্টোতে এসেছে আজ। ওকে আনতে বাচ্চারা টরন্টোতে গেছে। হুমায়ুন ভাই পরে আসবে।

ইনাইয়া অনেকদিন পর আমাদের দেথে চেনার চেষ্টা করছিল।

একটা ছোট বাচ্চা কিভাবে যে এত মন ভুলিয়ে রাখে!

নীলু আর তুরান চা আর ছোলাভুনা খাওয়ালো মুড়ি দিয়ে!

ফিরতে ফিরতে কত কথা বলছিলাম আমি আর রুমিভাবী।

পৃথিবীটা আসলেই সুন্দর আর আমাদের চারপাশের কিছু সহজ সরল মানুষ যারা আপন আলোয় আলোকিত।

আজ দুপুরে চিন্তা করলাম ইনাইয়াদের দেখতে যাবো। এ ছাড়া আজ পান্না খালাম্মার জন্মদিন, তার সাথে দেখা করবো ভেবেছিলাম।

উনাদের অন‍্য প্লান থাকায় আর গেলাম না।

তারাপদ রায়ের কবিতার শেষ লাইন দিয়ে আজ শেষ করি….

“আমলকি গাছের ভেতর থেকে কোনো কোনো রাতে

যে রকম ঝিরিঝিরি বাতাস ও বাতাসের শব্দ আসে,

যেভাবে লেবুপাতা ছিড়ে হাতে ঘষলে

এক হারিয়ে যাওয়া অরণ্যের গন্ধ ভেসে আসে,

যে ভাবে ঘুলঘুলির এলোমেলো বাসায়

ডিমের ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে

চড়ুইয়ের ছানারা তাদের মাকে চি-চি করে ডাকে,

যে ভাবে ভুল ঠিকানার চিঠিও একদিন

কোথাও না কোথাও, কারো না কারো কাছে পৌঁছে যায়

যে ভাবে…

একটা ক্ষীণ ভরসা ছিলো এই সেদিন পর্যন্ত,

যে ভাবে এইসব ঘটে, এই সব ঘটে যায়

সেইভাবে একদিন সব ঠিকঠাক হবে।

আমার কিছু করণীয় নেই, শুধু বসে থাকার অপেক্ষা।”

আমারো তাই মনেহয়,

খুব মনেহয়,

“আমার কিছু করণীয় নেই, শুধু বসে থাকার অপেক্ষা।”

অপেক্ষাই বাঁচিয়ে রাখে।

ভালোবাসা আপনাদের সবার জন‍্য!

 

অটোয়া, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent