
এই শিরোনামে এ বছরের হজ্জ যাত্রা নিয়ে প্রথম আলো চমৎকার একটি প্রতিবেদন করেছে। প্রতিবেদনটি করেছে আরজু আহমেদ। প্রতিবেদনটির অংশ বিশেষ তুলে দিচ্ছি।
“প্রতিবছরের মতো এবারও পবিত্র হজ পালন করতে সৌদি আরব গিয়েছেন বাংলাদেশের লক্ষাধিক মুসলিম। কিন্তু এবারের হজে যাওয়ার চিত্রটা একটু ভিন্ন মনে হচ্ছে না? শুধু কি একটু? প্রতিবছর আমরা হজযাত্রা এলেই দেখি নানা অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ। কয়েক মাস আগে টাকাপয়সা সব জমা দিয়েও শেষ মুহূর্তে হজে যেতে না পেরে মানুষের কান্নাভেজা চোখ আমরা কত দেখেছি। এটিই যেন এ দেশের প্রতিবছরের হজযাত্রার ‘স্বাভাবিক’ দৃশ্য হয়ে উঠেছিল।
এবার সেই দৃশ্যে ছেদ পড়েছে। আমরা দেখলাম, চাইলেই সুব্যবস্থাপনা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করা যায়। মানুষ কোনো হয়রানি, দুর্ভোগ ও প্রতারিত হওয়া ছাড়াই নির্বিঘ্নে হজ করতে যেতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকার সেটি চেয়েছে বলেই এবারের চিত্রটা ভিন্ন হয়েছে।”
“এ বছর বাংলাদেশ থেকে হজে যাওয়ার জন্য নির্ধারিত কোটা ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১০ হাজার এবং অন্যরা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাবেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের জন্য দুটি প্যাকেজ রয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ হজ প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা, যা বিগত বছরের চেয়ে ১ লাখ ৯ হাজার ১৪৫ টাকা কম।
আরেকটি প্রিমিয়াম হজ প্যাকেজ-২–এর জন্য খরচ ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮০ টাকা, যা বিগত বছরের চেয়ে ১১ হাজার ৭০৭ টাকা কম। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সাধারণ প্যাকেজের খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৮৩ হাজার ১৫৬ টাকা, যা বিগত বছরের চেয়ে ১ লাখ ৬ হাজার ৬৪৪ টাকা কম। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের বিশেষ প্যাকেজ গ্রহণের সুযোগ আছে।
সাধারণ হজ প্যাকেজের ক্ষেত্রে হাজিদের জন্য পবিত্র কাবার বহির্চত্বর থেকে তিন কিলোমিটারের মধ্যে আবাসনব্যবস্থা ও মসজিদে হারামে যাতায়াতের জন্য বাসের ব্যবস্থা থাকে। বিশেষ প্যাকেজের ক্ষেত্রে আবাসনের এই দূরত্ব থাকে কাবার বহির্চত্বর থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটারের মধ্যে। বাকি সব সুবিধা প্রায় একই রকম।”
“এবারে হজের খরচ কমে আসার অন্যতম প্রধান কারণ, এ বছর যাত্রীপ্রতি বিমানভাড়া প্রায় ২৭ হাজার টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজনৈতিক মদদে হজের এজেন্সি ব্যবসায়ীদের যে অবৈধ সিন্ডিকেট, সেটাও অন্তর্বর্তী সরকার অনেকাংশে ভেঙে ফেলতে সমর্থ হয়েছে।
চলতি বছর হজযাত্রায় বিগত বছরগুলো থেকে কেবল খরচই কমে আসেনি, বরং হজযাত্রীরা কোনো বিশৃঙ্খলা ও ভোগান্তির স্বীকার হননি। সমস্ত ধর্মীয় ভাবাবেগ ও জীবনের সঞ্চয় দিয়ে হজে যাওয়ার যে স্বপ্ন, সেই স্বপ্নভাঙা বুকে কাউকে হজ ক্যাম্পে অপেক্ষমাণ থেকে চোখের পানি ফেলতে হয়নি। বিগত প্রতিটি বছরই এজেন্সির প্রতারণার স্বীকার হয়ে বহু হজযাত্রীকে ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে। বাতিল হয়ে গেছে বহু হজযাত্রীর হজযাত্রা। এবারে নির্বিঘ্নে হজযাত্রা করতে পেরেছেন হাজিরা।”
যাহোক প্রতিবেদনটি পড়ে বুঝতে অসুবিধা হয়নি, বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাবে এজেন্সিগুলো সিন্ডিকেট করে সাধারণ হজ্জ যাত্রীদের জিম্মি করে রেখেছিল। অব্যবস্থাপনা, অত্যাধিক মূল্যের প্যাকেজ, শেষ মূহুর্তে অসংখ্য হজ্জ যাত্রীর সাথে প্রতারণা করা ছিল সাধারণ বিষয়। অর্ন্তবর্তী সরকারের হাতে যাদুর চেরাগ নেই। আছে সদিচ্ছা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সুব্যবস্থাপনা করার প্রানান্তক চেস্টা, যার ফলশ্রুতিতে এবারের হজ্জযাত্রা হয়েছে নির্বিঘ্ন ও ঝামেলামুক্ত। কোন হজ্জযাত্রীকে কাঁদতে কাঁদতে আশকোনা হাজী ক্যাম্প ছেড়ে বাড়ি ফিরতে হয়নি।
এই সরকারের সময়ের মধ্যে দু’টো ঈদ সম্পন্ন হলো। দুই ঈদে বাস,লঞ্চ, রেলে বাড়িফেরা মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি। দু’একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া টিকেটপ্রাপ্তি ছিল অনেকটাই সহজ। সড়কপথে দীর্ঘ যানজটের ভোগান্তি খুব একটা ছিল না। গত ঈদুল ফিতরে রেলের সার্ভিস ছিল অসাধারণ। এই ঈদেও এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ বা অব্যবস্থাপনার কোন সংবাদ আসেনি।
প্রশ্ন হচ্ছে, এই সরকার পারলে রাজনৈতিক সরকার কেন পারে না?
জনগনকে যারা জিম্মি করে, যাদের প্রশ্রয়ে এই সিন্ডিকেট ব্যবসা চলে, তাদের বিরুদ্ধে জনগনকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
মন্ট্রিয়র, কানাডা
