
ড. ইউনুস লন্ডন সফরে যাবেন, যা মে মাসের শুরুতে নির্ধারিত হয়। তখন সরকারের পক্ষ হতে ইচ্ছাপোষণ করা হয়, লন্ডনে তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাতের। বিএনপি ইতিবাচক মনোভাব দেখায় দুই শীর্ষ নেতার বৈঠকের বিষয়ে।
মে হতে জুনের ৪ তারিখ পর্যন্ত সব ঠিকঠাক চলছিল। কিন্ত…
এরপর হঠাৎ জল ঘোলা!
কিভাবে?
৫ জুন, অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষনে নির্বাচনের সম্ভাব্য মাস ঘোষনা করলেন, এপ্রিলের প্রথমার্ধের যে কোন দিন নির্বাচন হবে।
এই নিয়ে বিএনপি তার দলের অবস্থান পরিস্কার করলো, জাতির সাথে তারাও হতাশ। জোর দিয়ে জানায়,ডিসেম্বরে নির্বাচন হতে হবে। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দুরত্ব তৈরি হয়। লন্ডনে তারেক রহমানের সাথে বৈঠকটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।
ঠিক এরকম সময় বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাত করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যারা। তখন বেগম জিয়া গনতান্ত্রিক রীতিনীতি মেনে চলার পরামর্শ দেন সিনিয়র নেতাদের। একই সাথে গনতান্ত্রিক শিষ্ঠাচারের অংশ হিসেবে বৈঠকটি অনুষ্ঠানের কথা বলেন।
ব্যস, পালটে গেল সকল হিসেব নিকেশ।
অবশেষে আগামী শুক্রবার লন্ডনে দুই র্শীষ নেতার বহুল আলোচিত বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
কেউ কেউ বা কোন কোন মহল এই বৈঠককে সমঝোতার বৈঠক হিসেবে দেখার চেস্টা করছেন। বাস্তবতা হচ্ছে, আলোচনায় বসে সরকার যদি এপ্রিলে নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন, তবে বিএনপি তার সিদ্ধান্ত হতে পিছ পা হবে না।
তাহলে সমাধান কি হবে?
ধারনা করা যায়, নির্বাচনের সময় রোজা, এসএসসি পরীক্ষা, প্রতিকুল আবহাওয়া মিলিয়ে নির্বাচনের অনুকুল পরিবেশ না থাকায় এক্ষেত্রে দুই পক্ষ হয়ত একমত হতে পারে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের। এটাই হবে তখন আলোচনার মাধ্যমে স্বস্তিদায়ক সমাধান। সমঝোতা শব্দটি কোনভাবেই এক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। রাজনীতিতে ঐক্যমত শব্দটির প্রয়োজনীয়তা বেশী প্রযোজ্য।
২.
বিএনপির মিডিয়া সেল ও প্রেস উইংয়ের দূর্বলতা কোথায়?
এই বৈঠক নিয়ে গত ক’দিন নানান জল্পনা কল্পনার ডালাপালা বিস্তার করেছে। একই সাথে সংবাদমাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার পরামর্শকে মিসলিডিং করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ড. ইউনুসের সাথে কোন “দ্বন্দ্বে ” না জড়ানোর জন্য বলেছেন খালেদা জিয়া!
গনতান্ত্রিক রীতিনীতি, শিষ্ঠাচার দেখানো কি দ্বন্দ্বে না জড়ানো বোঝায়?
কোন মতের পার্থক্য হলে তার পালটা মত প্রদানকে কি দ্বন্দ্ব বলে?
বৈঠকটি বিএনপির আগ্রহে হচ্ছে না, হচ্ছে সরকারের আগ্রহে। এ বিষয়ে কোন কোন মহল হতে বিএনপিকে বলা হচ্ছে, সমাঝোতার পথ খুঁজচ্ছে তারা।
অথচ বাস্তবতা কি, আগেই উল্লেখ করেছি।
এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোল, ভুল ব্যাখ্যার ছড়াছড়ি। এইসবের বিরুদ্ধে বিএনপির মিডিয়া সেল ও প্রেস উইংয়ের পক্ষ হতে কোন রকম প্রতিক্রিয়া বা পালটা কোন ন্যারেটিভ দিতে দেখলাম না। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের উপস্থিতি খুবই দূর্বল। তারা অন্তত সোশ্যাল মিডিয়ায় নানাভাবে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে পারত। কিন্ত তাদের এক্টিভিটিজ না থাকায়, এই শুন্যতার মাঝেই মানুষ প্রতিপক্ষের প্রচারণা ” বিএনপি সমঝোতা করছে ইউনুসের সাথে” এই ভুল অপতথ্যটি বিশ্বাস করছে। আগামীতেও এই আক্রমন বিএনপিকে আরো সইতে হবে।
মন্ট্রিয়ল, কানাডা
