ইরান-ইজরাইল সংঘাত, প্রবাসী ইরানির ভয় ও মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

ইরান ইজরাইল সংঘাত প্রবাসী ইরানির ভয় ও মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

কানাডার টরন্টোতে অনেক ইরানির বসবাস। তাঁদের কারও কারও সঙ্গে মাঝে মাঝে কথা হয়। কেউ এসেছেন খোমেনি শাসনের নিপীড়ন থেকে মুক্তি পেতে, কেউ এসেছেন উন্নত জীবনের আশায়।

প্রবাসী অনেক ইরানিই তুলনামূলকভাবে উদার ও মুক্তচিন্তার। তবে, আশ্চর্য হলেও সত্যি—কানাডার মতো নিরাপদ দেশে থেকেও তাঁরা ইরানের রাজনীতি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। তাঁদের ভয়, এখানেও তাঁরা গুপ্ত হত্যার শিকার হতে পারেন। কারণ খোমেনিদের হাত খুব লম্বা। আবার কেউ বলেন, ইসরাইলিদের হাত আরও লম্বা।

- Advertisement -

গত দশ দিন ধরে ইরান ও ইসরাইল সরাসরি যুদ্ধরত। গতকাল আমেরিকা দাবি করেছে, ইসরাইল ইরানের তিনটি ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করেছে। যদিও ইরানের পাল্টা দাবি—তারা ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ মালপত্র আগেই সরিয়ে ফেলেছে এবং অন্য কোথাও লুকিয়ে রেখেছে। তবে ইসরাইল-আমেরিকার গোয়েন্দা নজরদারি থেকে তা কতটা নিরাপদ থাকবে, তা নিয়েই প্রশ্ন।

ইসরাইল ও আমেরিকার যুক্তি—ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রধারী হতে দেওয়া যাবে না। ইসরাইলের ভয়, যদি একদিন ইরান পারমাণবিক বোমা দিয়ে হামলা করে, তাহলে তাদের আর রক্ষা থাকবে না। কারণ, দেশটি খুব ছোট; পারমাণবিক হামলা থেকে জনসাধারণের রক্ষার পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই।

ইসরাইলের পেছনে আছে আমেরিকা, কানাডা, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি—সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক ও গোয়েন্দা শক্তিগুলো। বিপরীতে, ইরানের পাশে কেবল রাশিয়া ও চীন। রাশিয়া নিজেই ইউক্রেন ইস্যুতে জর্জরিত। চীন, বরাবরের মতো, হিসেবি এবং কিপটে—কিছু অস্ত্র বিক্রি করতে পারে, তার বেশি নয়।

গত কয়েক দশক ধরে ইরান প্রক্সি যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে—গাজায় হামাস, লেবাননে হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনে হুতিদের মাধ্যমে। এতে ইরানের মূল সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি ক্ষয় হয়েছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় দেশটির অর্থনীতিও নাজুক। সীমিতভাবে ভারতসহ কয়েকটি দেশে তেল বিক্রি করে টিকে ছিল, কিন্তু যুদ্ধ বাড়লে তাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

ইরানের প্ররোচনায় ও সহায়তায় গাজায় হামাস ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ করে প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ হারিয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ না খেয়ে মরছে। ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার স্বপ্ন প্রায় নিভে গেছে। এখন ইরান নিজের স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারবে কিনা, সেটাই বড় প্রশ্ন।

ইসরাইলের সঙ্গে এই যুদ্ধের পেছনে খোমেনিদের একমাত্র উদ্দেশ্য মনে হয়—ইসলামিক রিপাবলিক টিকিয়ে রাখা। যুদ্ধকে নিজের অস্তিত্ব রক্ষার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে তারা। কিন্তু ইরাকের মতো পরিণতি না হওয়া পর্যন্ত হয়ত আমেরিকা-ইসরাইল থামবে না।

সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় সাধারণ গাজাবাসী, লেবানিজ ও ইরানিদের জন্য। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নিঃসন্দেহে যুদ্ধবাজ ব্যক্তি। নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য এই যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করছেন। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু স্বেচ্ছাচারী শাসকের কারণে পুরো অঞ্চল আজ বিপন্ন।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি এখন সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয়—শুধু ওই অঞ্চলের জন্য নয়, বরং সারা বিশ্বের স্থিতিশীলতার জন্যও। তবে বাস্তবতা হলো, সহসা সেই শান্তি আসার কোনো আলামত দেখা যাচ্ছে না।

- Advertisement -

Read More

Recent