স্কারবোরো সাউথ-ওয়েস্টে পার্থি ক্যান্ডেভেল: নতুন নেতৃত্বে সম্ভাবনার সূচনা না সীমিত অর্জন?

স্কারবোরো সাউথ ওয়েস্ট ওয়ার্ডে কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেন পার্থি ক্যান্ডেভেল

স্কারবোরো সাউথ-ওয়েস্ট ওয়ার্ডে কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেন পার্থি ক্যান্ডেভেল। তরুণ, শিক্ষাবান্ধব ও সম্প্রদায়-নির্ভর নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে নির্বাচিত হওয়া এই জনপ্রতিনিধি এখন এক গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতার মুখোমুখি—প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়নের ব্যবধান ঘোচানোর চ্যালেঞ্জ।

২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর উপনির্বাচনে ২৩ জন প্রার্থীর মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেন পার্থি। মাত্র ২২ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির মধ্যেই তিনি ২৭.৪ শতাংশ ভোট পেয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। অল্প সময়ের মধ্যে নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থান থেকে প্রথম হওয়ার এই সাফল্য অনেকের নজর কেড়েছে, বিশেষ করে তরুণ ও নীতিনির্ভর নেতৃত্বে আগ্রহীদের।

- Advertisement -

এর আগে ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত টরন্টো ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ডে ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি নির্বাচনী প্রচারে জোর দেন শিক্ষানির্ভর উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং আবাসন সংকটের মতো বিষয়গুলোতে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ক্যান্ডেভেল খাদ্য নিরাপত্তা, ছাত্র-পুষ্টি কর্মসূচি ও কমিউনিটি-স্কুল সম্পর্ক উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। সিটি কাউন্সিলে তার উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ভ্যাকেন্ট হোম ট্যাক্স’-এর ফাইলিং পদ্ধতি সহজ করা, মেট্রোলিংক্স-এর বিলম্বিত ক্রসটাউন প্রকল্প নিয়ে জবাবদিহিতা দাবি, এবং গোল্ডেন মাইল এন্ড কেনেডি ক্রসিং–এর মতো বড় উন্নয়ন প্রকল্পে সরাসরি সম্পৃক্ততা।

এছাড়াও তিনি স্থানীয় তরুণদের সঙ্গে ধারাবাহিক পরামর্শ সভা এবং পরিবেশ নিয়ে নাগরিক উদ্যোগে অংশ নিচ্ছেন, যা তার ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে সব কিছুই প্রশংসার নয়। অনেক বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, ওয়ার্ডজুড়ে এখনো তার কার্যক্রমের স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে আবাসন সংকট, গণপরিবহন পরিষেবা এবং রাস্তার দুরবস্থা নিয়ে অসন্তোষ বেশ প্রবল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মাত্র ছয় মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা কঠিন হলেও, জনসংখ্যা ১.১ লাখ ছাড়ানো এবং বহুবিধ সামাজিক চাহিদা থাকা এমন একটি ওয়ার্ডে দৃশ্যমান কার্যক্রম জরুরি হয়ে উঠছে।

প্রসঙ্গত, পার্থি ২০২২ সালের সাধারণ নির্বাচনে একই ওয়ার্ডে পরাজিত হয়েছিলেন। এক বছর পরই উপনির্বাচনে জয়লাভ তাকে রাজনৈতিকভাবে আরও দৃঢ় অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তবে এই শক্তিকে দীর্ঘমেয়াদি গ্রহণযোগ্যতায় রূপ দিতে হলে তাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, কার্যকর ও ফলপ্রসূ পদক্ষেপ নিতে হবে।

দায়িত্বের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে পার্থি ক্যান্ডেভেলের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—তিনি কি পারবেন তার প্রতিশ্রুত উন্নয়ন দর্শনকে বাস্তবায়নে রূপ দিতে? আগামী এক বছরেই মিলবে উত্তর। ভোটাররা এখন আর শুধু প্রতিশ্রুতিতে নয়, কাজের প্রমাণেই দেখবেন তাদের প্রতিনিধি কতটা কার্যকর।

সময় এখন কথার নয়, কাজের। স্কারবোরো সাউথ-ওয়েস্টে পার্থির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে এই বাস্তবতারই জবাব।

This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI

- Advertisement -

Read More

Recent