
১৯ জুলাই থেকে টরন্টোর ঐতিহাসিক গেরার্ড ইন্ডিয়া বাজারে শুরু হয়েছে ২৩তম টিডি সাউথ এশিয়া ফেস্টিভ্যাল। দুই দিনব্যাপী এই জমকালো উৎসব এখন আর শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়—বরং এটি পরিণত হয়েছে দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের পরিচয়, ঐতিহ্য ও একাত্মতার এক বৃহৎ মঞ্চে।
টিডি ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত এই ফেস্টিভ্যাল প্রতি বছরই হাজারো দর্শনার্থীকে আকৃষ্ট করে। আয়োজকদের তথ্যমতে, শুধুমাত্র গত বছর (২০২৪) এই ফেস্টিভ্যালে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৩.৫ লাখ মানুষ, যাদের একটি বড় অংশ ছিল ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা থেকে আগত অভিবাসীদের পরবর্তী প্রজন্ম।
১৯ ও ২০ জুলাই, প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলবে এই উৎসব, যার প্রবেশ সবার জন্য উন্মুক্ত ও বিনামূল্যে।

ফেস্টিভ্যাল জুড়ে ছড়িয়ে আছে দক্ষিণ এশীয় ঐতিহ্যের নানা রঙ—
এবারের আসরে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন, যা যৌথভাবে আয়োজন করেছে ‘সাপ্তাহিক বাংলা মেইল’ ও ‘এনআরবি টিভি’। প্যাভিলিয়নে দর্শনার্থীরা উপভোগ করেছেন ঐতিহ্যবাহী বাংলা খাবার, বাংলার লোকশিল্প, বাউল গান ও কবিতা পাঠ। টরন্টো প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে এই প্যাভিলিয়ন ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
শুধু সাংস্কৃতিক বিনিময় নয়, এই উৎসব গেরার্ড ইন্ডিয়া বাজারের স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও একটি বড় আর্থিক সুযোগ। আয়োজকদের মতে, ফেস্টিভ্যালের দুই দিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রি গড়ে ৩০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। রেস্টুরেন্ট, পোশাকের দোকান, গহনার শোরুম এবং হেয়ার সেলুনগুলো এই সময় বিশেষ ছাড়ও দিয়ে থাকেন।
টিডি ব্যাংক এক যুগের বেশি সময় ধরে এই উৎসবের প্রধান স্পনসর হিসেবে যুক্ত। ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ধরনের উৎসব শুধুমাত্র সংস্কৃতি রক্ষার মাধ্যম নয়—এটি সামাজিক অন্তর্ভুক্তিকরণ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বর্তমানে কানাডায় দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীর সংখ্যা ২.৬ মিলিয়নেরও বেশি, যাদের একটি বড় অংশ বসবাস করে গ্রেটার টরন্টো এলাকায়। এই উৎসব তাই শুধু একটি আনন্দের উপলক্ষ নয়, বরং বহুজাতিক কানাডার আত্মপরিচয়, একতার শক্তি ও বৈচিত্র্যের গর্ব উদযাপনের এক অনন্য উদাহরণ।
এই ফেস্টিভ্যাল যেন বলে দেয়—ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি বা পটভূমি যতই ভিন্ন হোক না কেন, সম্মান, সম্প্রীতি ও উৎসবের মধ্যে দিয়ে গড়ে ওঠে একটি প্রকৃত বহুজাতিক সমাজ।
গেরার্ড ইন্ডিয়া বাজারের আকাশ আজ তাই শুধুই রঙিন নয়—তা হয়ে উঠেছে কানাডার হৃদয়ের ছায়াচিত্র।
