পলিটিক্যাল জার্নাল

একমাত্র বিএনপির ভোটাররাই এনসিপিকে ভোট দিতে পারে বিএনপির বহু সমর্থক এবং ভোটার ডইউনুসকে পছন্দ করেন

এক. এনসিপিকে বিএনপি দাঁড়াতে দিবে না নানা কারনেই। কারন, এনসিপি ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে এবং জনপ্রিয় হলে ভোট যুদ্ধে তারা বিএনপির ভোট কাটবে। হিসাব করলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের সমর্থকরা কখনই এনসিপিকে ভোট দিবে না। আর জামাত যেহেতু ভোটের যুদ্ধে আলাদা দল হিসাবে থাকবে তাই জামাতের ভোট জামাতের একাউন্টেই পড়বে। বাকী থাকে বিএনপি।

একমাত্র বিএনপির ভোটাররাই এনসিপিকে ভোট দিতে পারে। বিএনপির বহু সমর্থক এবং ভোটার ড.ইউনুসকে পছন্দ করেন। তাই ড.ইউনুসের কিংস পার্টি এনসিপিকেও তাদের পছন্দ হওয়া স্বাভাবিক। বিএনপির অনেক সমর্থক মনে করেন অনির্বাচিত ড.ইউনুসের যেহেতু কোন জবাবদিহীতার প্রয়োজন পড়ে না সেহেতু তিনিই আওয়ামী লীগকে কার্যকরভাবে দমন করতে পারবেন যা একটি নির্বাচিত সরকার পারবে না। আর ড.ইউনুসের কিংস পার্টি এনসিপিও যেহেতু  আওয়ামী লীগ নির্মুলে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে সেহেতু আওয়ামী লীগ বিরোধীদের কাছে এনসিপি পছন্দের পার্টি হতে পারে।

- Advertisement -

সেই কারনেই এনসিপি বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঠাই করে নিতে পারলে বিএনপির জন্য ক্ষতির কারন হতে পারে।

বিএনপির হাই কমান্ড বিষয়টি খুব সম্ভব মূল্যায়ন করেছে। সেই কারনেই ভবিষ্যতে বিএনপিকে এনসিপিকে প্রতিহত করতে সক্রিয়ভাবে দেখা যেতে পারে।

দুই. আমার মনে হচ্ছে, সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের মধ্যে শুরুতে এক ধরনের দোদুল্যমানতা ছিল। তাকে ড. ইউনূসের প্রতি পুরোপুরি অনুগত বলে তখন মনে হয়নি। বরং মাঝে মাঝে মনে হয়েছে, নির্বাচন ইস্যুতে তার সঙ্গে ড. ইউনূসের মতানৈক্য রয়েছে।

কিন্তু এখন পরিস্থিতি পাল্টে গেছে বলে মনে হয়। ওয়াকার সাহেব দোদুল্যমানতা ঝেড়ে ফেলে এখন একটি পক্ষ বেছে নিয়েছেন। তিনি এখন সম্পূর্ণভাবে ড. ইউনূসের প্রতি অনুগত। তিনি নিজেকে ড. ইউনূসের কাছে সমর্পণ করে দিয়েছেন।

তাঁদের মধ্যে এক ধরনের সমঝোতা হয়ে থাকতে পারে—ওয়াকার সাহেব সেনাপ্রধান হিসেবে তার পূর্ণ মেয়াদ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করবেন, এবং তার বিনিময়ে তিনি ড. ইউনূসের প্রতি সম্পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করবেন। ড. ইউনূস এই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন।

এই পরিবর্তনের সূচনা মূলত হয়েছে যখন ড. খলিলুর রহমানকে নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই ওয়াকার সাহেবের অবস্থানে সুস্পষ্ট পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে।

এখন থেকে আর তাকে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে দেখা যাবে না। তিনি আর “Enough is enough” বলবেন না। বরং এখন তিনি এক ‘সুবোধ বালক’-এর মতো সবকিছু মেনে নেবেন।

গোপালগঞ্জে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনা এবং এনসিপি’র প্রতি সেনাবাহিনীর সহানুভূতিশীল অবস্থান এবং এনসিপিকে পূর্ণ নিরাপত্তা প্রদান,  এই ধারণাকেই আরও শক্তিশালী করছে।

তিন. হাইকোর্টের বিচারপতিরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়ে দায়েরকৃত রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি করেছেন। তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনের পদ্ধতি নির্ধারণের এখতিয়ার পরবর্তী সংসদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ, হাইকোর্ট বলটি নিজের কোর্ট থেকে সংসদের কোর্টে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

আমার মতে, কোর্ট চাইলে এমনটি না করেও পারতেন। কিন্তু তারা আবারও বিষয়টি দলীয় সংসদের দিকেই ঠেলে দিলেন। এর ফলে, সংখ্যাগরিষ্ঠ দলীয় সরকার তাদের নিজস্ব প্রভাব ও ইচ্ছামতো তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে পারবে। কারণ সংসদে তো মূলত সেই দলীয় সরকারেরই সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে।

সুতরাং, সংখ্যাগরিষ্ঠ দল যেভাবে চাইবে, সেইভাবেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হবে। এর ফলে দলীয় সরকার নিজেদের অনুকূলে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের সুযোগ পাবে এবং এর নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি তো চালু হয়েছিল দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য। কিন্তু হাইকোর্টের এই নিষ্পত্তির ফলে আবারও দলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রভাবেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পথ সুগম হলো।

কোর্ট যদি নিজেই নির্দিষ্ট করে দিতেন যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কীভাবে গঠিত হবে, তাহলে প্রক্রিয়াটি দলীয় প্রভাবমুক্ত এবং অধিকতর গ্রহণযোগ্য হতে পারত।

চার. সেনাবাহিনী এক বছর ধরে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা নিয়ে মাঠে রয়েছে। তাদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ তারা বিগত এক বছরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। বিশেষ করে বিগত এক বছর ধরে দেশের সব জায়গায় মব সন্ত্রাস ঘটছে, যেগুলো নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ব্যর্থ হচ্ছে। খুন, রাহাজানি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব—সবকিছুই বেড়ে গেছে।

এজন্য অনেকেই প্রশ্ন তুলছে—সেনাবাহিনীর সেই রাফ অ্যান্ড টাফ স্বভাব কি আর নেই? আগে মানুষ সেনাবাহিনী দেখলেই ভয় পেতো। সেনাবাহিনী মানেই ছিল এক ধরনের আতঙ্কের নাম। কিন্তু এখন সেই ভয় আর দেখা যাচ্ছে না। কেউ কেউ বলছে, সেনাবাহিনী এখন পুলিশের পর্যায়ে নেমে এসেছে।

এই বক্তব্যগুলো কতটা সঠিক? আমার মনে হয়, পুরোপুরি সঠিক নয়।

আমরা গোপালগঞ্জে কী দেখলাম? সেখানে সেনাবাহিনীর সেই পুরোনো রাফ অ্যান্ড টাফ রূপই দেখা গেছে। তারা ভয়ংকর মূর্তিতে আবির্ভূত হয়েছিল—গুলি ছোড়া, বুট জুতা দিয়ে বুকে পাড়া দেওয়া, কারফিউ জারি করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুরুষ, যুবক ও তরুণদের তুলে নিয়ে যাওয়া, নির্জন স্থানে চোখ বেঁধে নির্দয়ভাবে মারধর—সবই তো তারা করেছে। এটি সেই পুরোনো, খুব চেনা ও পরিচিত সেনাবাহিনীর রূপ।

এর মানে হলো, তারা চাইলে এখনও সেই ভয়ংকর আদি স্বভাবে ‘অ্যাক্ট’ করতে সক্ষম।

তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, এই রাফ অ্যান্ড টাফ স্বভাব দেশের অন্য জায়গাগুলোতে মব নিয়ন্ত্রণে দেখা যাচ্ছে না কেন? চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ইত্যাদি দমনেও তারা এই ধরনের ভূমিকা নিচ্ছে না কেন?

আর জনগণ বিভিন্ন জায়গায় সেনাবাহিনী দেখে “ভুয়া ভুয়া” স্লোগান দেয় কীভাবে?

তাহলে কি বিশেষ বিশেষ জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন কমান্ড কাজ করছে?

- Advertisement -

Read More

Recent