এথনিক মার্কেটিংয়ে ঝুঁকছে কানাডীয় করপোরেশনগুলো

একসময় যেখানে একটি সাধারণ বার্তায় সব ভোক্তাকে টার্গেট করা হতো সেখানে এখন প্রতিষ্ঠানগুলো আরও লক্ষ্যভিত্তিক ও সাংস্কৃতিকভাবে প্রাসঙ্গিক বার্তা তৈরিতে মনোযোগী

কানাডার জনসংখ্যা দিন দিন হয়ে উঠছে আরও বৈচিত্র্যময়। অভিবাসী ও তাদের পরবর্তী প্রজন্মের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় করপোরেট বিশ্বে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এক নতুন প্রবণতা হল এথনিক মার্কেটিং। দেশজুড়ে ছোট-বড় নানা করপোরেশন এখন তাদের প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে।

একসময় যেখানে একটি সাধারণ বার্তায় সব ভোক্তাকে টার্গেট করা হতো, সেখানে এখন প্রতিষ্ঠানগুলো আরও লক্ষ্যভিত্তিক ও সাংস্কৃতিকভাবে প্রাসঙ্গিক বার্তা তৈরিতে মনোযোগী। মূলধারার বাজার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে অভিবাসী জনগোষ্ঠী। ফলে ব্যবসায়িক কৌশলেও আসছে মৌলিক পরিবর্তন।

- Advertisement -

কানাডার অভিবাসী জনগোষ্ঠী শুধু সংখ্যার দিক থেকেই নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা, টেলিকম থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রির মতো বিভিন্ন খাতে এখন দেখা যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাসহ নানা ভাষায় বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। অনেক কোম্পানি উৎসব, খাবার, ও জীবনধারার সাথে মিল রেখে নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীর জন্য পণ্যের প্রচার চালাচ্ছে।

এই প্রবণতা বিস্তারে বড় ভূমিকা রাখছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডেটা অ্যানালিটিক্স। গ্রাহকের ভাষা, আচরণ, সংস্কৃতি ও উৎসবকালীন ব্যয় বিশ্লেষণ করে তৈরি হচ্ছে ব্যক্তিকেন্দ্রিক বিজ্ঞাপন বার্তা। এর ফলে ব্র্যান্ডের সঙ্গে ভোক্তার সংযুক্তি আরও জোরালো হচ্ছে।

তবে শুধু ভাষা অনুবাদ করলেই কাজ হয় না। সত্যিকারের প্রভাব তৈরি করতে হলে দরকার ঐ সম্প্রদায়ের অন্তর্দৃষ্টি ও সংস্কৃতির প্রতি যথার্থ সম্মান। যেকোনো প্রচার যদি কৃত্রিম বা অবাস্তব মনে হয়, তাহলে এর প্রতিক্রিয়া হতে পারে নেতিবাচক।

এই কারণেই এখন অনেক করপোরেশন ডাইভারসিটি অ্যান্ড ইনক্লুশন বিশেষজ্ঞ, কালচারাল লিয়াজঁ অফিসার বা এথনিক কনসালট্যান্ট নিয়োগ করছে। তাদের ভূমিকা শুধু পণ্যের প্রচার নয়, বরং লক্ষ্যভিত্তিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা।

বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম যারা বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশে বড় হয়েছে তারা এখন ব্র্যান্ড নির্বাচন করে এই বিবেচনায়: প্রতিষ্ঠানটি তাদের সংস্কৃতি ও পরিচয়কে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে।

এই উদ্যোগ শুধুমাত্র শহরকেন্দ্রিক নয়। বিভিন্ন প্রদেশে বসবাসরত নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে সংযোগ গড়তেও বিশেষ প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ফলে বাড়ছে বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ, এবং সেইসঙ্গে গ্রাহকের আস্থা ও আনুগত্য।

সব মিলিয়ে, এথনিক মার্কেটিং এখন আর শুধুমাত্র বিক্রয় কৌশল নয় এটি কানাডার করপোরেট দুনিয়ার নতুন মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে। আগামী দিনে কে কতটা দক্ষতা, আন্তরিকতা এবং সৃজনশীলতার সঙ্গে জাতিগত বৈচিত্র্যের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারছে, তাই-ই ঠিক করবে সেই ব্যবসার ভবিষ্যৎ।

- Advertisement -

Read More

Recent