দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র

এনসিপির টার্গেট বর্তমান সংবিধানের অধীনে জাতীয় নির্বাচন নয়

এনসিপির টার্গেট বর্তমান সংবিধানের অধীনে জাতীয় নির্বাচন নয়। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত একটি গণপরিষদ গঠন করা। এই নির্বাচিত গণপরিষদের সদস্যরা একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করবেন। এর উদ্দেশ্য—পুরাতন সংবিধান বাতিল করে নতুন সংবিধানের মাধ্যমে “দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র” (Second Republic) প্রতিষ্ঠা করা। এই দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্রকে  তারা বলতে চাচ্ছেন “নতুন বন্দোবস্ত”।

নতুন সংবিধান প্রণয়নের পর একটি গণভোট আয়োজনের মাধ্যমে সেই সংবিধান ও নতুন বন্দোবস্তকে বৈধতা দেওয়া হবে।

- Advertisement -

এনসিপির যেসব লক্ষ্য আমরা উপরে উল্লেখ করেছি, সেগুলোর বাস্তবায়ন স্বল্প সময়ে সম্ভব নয়। এর জন্য দীর্ঘ সময় প্রয়োজন। কারণ, তারা ৫৪ বছরের একটি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সামগ্রিক রূপান্তর চাচ্ছে—এটি তো রাতারাতি করা সম্ভব নয়।

ইতিমধ্যে অনেকেই বুঝে গেছেন, এনসিপি অলিখিতভাবে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দল। সুতরাং, এনসিপি যেটা চাইবে, সরকার  সেটিই বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে।

লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, হাইকোর্ট বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত রিভিউ নিষ্পত্তি করার সময় গণভোট আয়োজনের বিধান পুনরায় সংবিধানে ফিরিয়ে এনেছে। অথচ এর আগে এই বিধানটি বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছিল। গণভোটের বিধান পুনরায় সংবিধানে যুক্ত করার পেছনে এই অন্তর্বর্তী সরকারের অভিসন্ধি নিহিত রয়েছে। অন্যথায় হঠাৎ করেই গণভোটের বিধান আবার চালু করা হতো না।

নিকট অতীতে দেখা গেছে, যমুনার সামনে কিছু লোক জড়ো করে এনসিপি সামান্য হুমকি-ধমকি দিলেই সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে এটা পরিষ্কার হয়ে যায়, এনসিপি যা দাবি করে, সরকার সেটাই বাস্তবায়ন করে।

আমার ধারণা, এনসিপি তাদের পদযাত্রা শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে জমায়েত হবে। জামায়াত এবং অন্যান্য ইসলামপন্থী দলগুলো শহীদ মিনারে লোকজন সরবরাহ করে একটি বড় ধরনের শোডাউনের আয়োজন করবে। সেই শোডাউন থেকেই এনসিপি তাদের দাবিদাওয়া পেশ করবে।

এনসিপি শহীদ মিনার থেকে পুনরায় যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করতে পারে, যাতে করে তারা জনগণের দাবিদাওয়া আদায়ে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে—এই বার্তাটি দিতে পারে। এতে করে কিছু বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে সরকার থেকে দাবিদাওয়া মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি আসতে পারে। আর এই প্রতিশ্রুতি মানেই হবে—আগামী বছরের শুরুতে যে জাতীয় নির্বাচনের কথা ছিল, তা থেকে সরে আসা।

কারণ, এনসিপির যে টার্গেট, তাতে সাধারণ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের কোনো কথা নেই। তাদের লক্ষ্য, একটি নির্বাচিত গণপরিষদের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করে বাংলাদেশকে দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা দেওয়া।

যদি সরকারও সেই একই লক্ষ্য নিয়ে এগোয়, তাহলে শিগগিরই কোনো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

- Advertisement -

Read More

Recent