
বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতার মধ্যেই কানাডা বর্তমানে এক কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। পরপর কয়েক প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কার্যত থেমে গেছে, মুদ্রাস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় বেশি রয়ে গেছে এবং ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, দেশটি ইতিমধ্যেই টেকনিক্যাল রেসিশনে প্রবেশ করেছে। তবে সরকার বলছে পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়।
ব্যাংক অব কানাডা সম্প্রতি মূল সুদের হার ৫ শতাংশে ধরে রেখেছে, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরের একটি। উচ্চ সুদের হারে ঋণ গ্রহণ ব্যয়বহুল হয়ে পড়ায় গৃহঋণ, ব্যবসায়িক ঋণ এবং নতুন বিনিয়োগে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে আবাসন বাজারে—বিক্রয় কমছে, দাম সামান্য কমলেও সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে।
অন্যদিকে শ্রমবাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬.৪ শতাংশে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এবং কিছু প্রদেশে চাকরির সুযোগ সীমিত হয়ে আসছে। মুদ্রাস্ফীতি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিছুটা নেমে ৩ শতাংশে দাঁড়ালেও খাদ্য ও ভাড়ার খরচ দ্রুত বাড়ছে, যা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারকে চাপে ফেলছে।
রপ্তানি খাতও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক মন্দাভাব ও বৈশ্বিক চাহিদার হ্রাস কানাডার প্রাকৃতিক সম্পদ ও শিল্পপণ্য রপ্তানিকে প্রভাবিত করছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদের দাম অস্থির থাকায় রাজস্ব আয়ও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি উৎপাদন ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ প্রত্যাশার তুলনায় কম, যা দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে আশার আলোও রয়েছে। সরকার ইতিমধ্যেই পরিকাঠামো উন্নয়ন, সবুজ জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং দক্ষ কর্মী প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ব্যয় বাড়াচ্ছে। ব্যাংক অব কানাডা ইঙ্গিত দিয়েছে, মুদ্রাস্ফীতি ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেলে আগামী বছর সুদের হার কমানো হতে পারে। এতে বিনিয়োগ ও ভোগব্যয় উভয়ই চাঙ্গা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, অভিবাসন নীতি ও দক্ষ জনশক্তির প্রবাহ শ্রমবাজারকে শক্তিশালী করছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কানাডা এই রেসিশন কাটিয়ে উঠতে পারবে কিনা তা নির্ভর করবে বৈশ্বিক অর্থনীতির পুনরুদ্ধার, দেশীয় ভোক্তা আস্থা এবং সুদের হার নীতির ওপর। সময়োপযোগী নীতিগত পরিবর্তন, বিনিয়োগে প্রণোদনা এবং উৎপাদনশীল খাতকে চাঙ্গা করতে পারলে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে কানাডার অর্থনীতি আবারও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে পারে।
