
কানাডার নতুন প্রজন্ম ধীরে ধীরে ঐতিহ্যবাহী চাকরিমুখী জীবন থেকে সরে এসে উদ্যোক্তা হওয়ার দিকে ঝুঁকছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ও জরিপে দেখা যাচ্ছে, তরুণরা আর শুধু চাকরির অপেক্ষায় বসে নেই, বরং নিজস্ব ব্যবসা শুরু করার দিকেই বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে।
কানাডার পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২৫-এ ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪.৬ শতাংশে। এটি ২০১০ সালের পর সর্বোচ্চ হার, যদি মহামারির সময় বাদ দেওয়া হয়। একই সময়ে তাদের কর্মসংস্থান হার নেমে এসেছে ৫৩.৬ শতাংশে, যা গত ২৫ বছরের মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন। এই অনিশ্চয়তা তরুণদের চাকরির বিকল্প খুঁজতে বাধ্য করছে।
মাস্টারকার্ডের একটি জরিপে উঠে এসেছে, প্রায় ৩৭ শতাংশ জেন জি তরুণ-তরুণী ব্যবসা শুরু করতে চান মূলত সময় ও সিদ্ধান্তের স্বাধীনতার জন্য। অনেকেই বিশ্বাস করেন, যেকোনো জায়গা থেকে কাজ করার সুযোগই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রণোদনা। স্কয়ারের একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, ৪০ শতাংশ তরুণ উদ্যোক্তার প্রধান প্রেরণা হলো “নিজেই নিজের বস হওয়া”। একই সঙ্গে ৭৯ শতাংশ উদ্যোক্তা মনে করেন, প্রযুক্তির সহজলভ্যতা—যেমন অনলাইন পেমেন্ট, ই-কমার্স, ডিজিটাল মার্কেটিং—তাদের ব্যবসায়িক যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তবে শুধু লাভ নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার কথাও ভাবছে নতুন প্রজন্ম। স্কয়ারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ৭৬ শতাংশ তরুণ উদ্যোক্তা বিশ্বাস করেন, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে সচেতন থাকা একজন দায়িত্বশীল ব্যবসায়ীর বৈশিষ্ট্য। অর্থাৎ, তারা ব্যবসাকে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবেও দেখছেন।
২০১৭ সালের তথ্য অনুযায়ী, কানাডার স্বনিযুক্ত তরুণদের মধ্যে ৪১ শতাংশই বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারী, যেখানে চাকরিজীবী তরুণদের মধ্যে এই হার মাত্র ২৬ শতাংশ। পাশাপাশি, অভিবাসী তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতা জন্মসূত্রে কানাডিয়ানদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। ফলে বোঝা যাচ্ছে, শিক্ষিত ও অভিবাসী তরুণরাই ব্যবসায়িক উদ্যোগের সামনের কাতারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চাকরির বাজারে অনিশ্চয়তা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার বোধ—সব মিলিয়ে কানাডার নতুন প্রজন্ম ক্রমেই ব্যবসা ও উদ্যোক্তা হওয়ার দিকে এগোচ্ছে। এ পরিবর্তন ভবিষ্যতে শুধু কানাডার অর্থনীতিই নয়, দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
