
কানাডায় অভিবাসন নিয়ে জনমত এখন নতুন এক মোড়ে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, অভিবাসনের গুরুত্ব নিয়ে বেশিরভাগ কানাডিয়ান একমত হলেও এর মাত্রা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।
২০২৪ সালের শেষ দিকে পরিচালিত এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, প্রায় ৫৮ শতাংশ কানাডিয়ান মনে করেন দেশে অভিবাসীর সংখ্যা ইতিমধ্যেই “অতিরিক্ত”। এটি গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি এবং গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।
তবে একই সঙ্গে কানাডিয়ানদের বড় অংশ অভিবাসীদের ইতিবাচক অবদানও স্বীকার করেছেন। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৮ শতাংশ মানুষ বলেছেন, অভিবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন এবং শ্রমশক্তির ঘাটতি পূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখছেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ ও কৃষি খাতে তাদের অবদান অপরিহার্য।
মানুষের প্রধান উদ্বেগ তিনটি ক্ষেত্রে আবাসন সংকট, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ এবং সীমিত জনসেবার সুযোগ। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫৬ শতাংশ মানুষ বলেছেন, পর্যাপ্ত বাসস্থানের ঘাটতি নতুন অভিবাসীদের কারণে আরও তীব্র হচ্ছে। আবার প্রায় ৪৯ শতাংশ মনে করেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপের ফলে সেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
রাজনৈতিক সমর্থন ও প্রজন্মভেদে অভিবাসন নিয়ে ভিন্ন মতামতও স্পষ্ট। কনজারভেটিভ সমর্থকদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ অভিবাসনের সীমা কমানোর পক্ষে, যেখানে লিবারাল সমর্থকদের মধ্যে এ সংখ্যা মাত্র ৩০ শতাংশ। তরুণ প্রজন্ম বিশেষ করে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীরা অভিবাসনের পক্ষে বেশি ইতিবাচক, বিপরীতে প্রবীণদের মধ্যে বিরোধিতা তুলনামূলকভাবে বেশি।
এই পরিস্থিতিতে সরকার অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। ২০২৫ সাল থেকে ধাপে ধাপে স্থায়ী অভিবাসীর সংখ্যা কমানো হবে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৯৫,০০০ জন, ২০২৬ সালে তা কমে দাঁড়াবে ৩৮০,০০০ এবং ২০২৭ সালে আরও কমে ৩৬৫,০০০। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপ হাউজিং সংকট কমাতে এবং জনসেবার ওপর চাপ হ্রাসে সহায়ক হবে।
তবে শিল্প ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো এর বিরোধিতা করছে। তাদের মতে, অভিবাসনের সংখ্যা কমিয়ে দিলে শ্রমবাজারে ঘাটতি বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অভিবাসন নিয়ে এই মিশ্র জনমত কানাডার ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলবে। একদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শ্রমশক্তির জন্য অভিবাসন অপরিহার্য, অন্যদিকে সামাজিক অবকাঠামোর ওপর চাপও উপেক্ষা করা যায় না। তাই কানাডার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সঠিক ভারসাম্য তৈরি করা যাতে নতুন অভিবাসীরা দেশকে শক্তিশালী করতে পারেন, একইসঙ্গে নাগরিকদের জীবনযাত্রাও স্বস্তিদায়ক থাকে।
This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI
