
কানাডার অন্যতম শীর্ষ বিমানসংস্থা এয়ার কানাডা সম্প্রতি তাদের ভ্যাকেশন প্যাকেজ ব্যবসায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। ভ্রমণ খাতে দীর্ঘমেয়াদি মন্দা, উচ্চমূল্যের চাপ এবং গ্রাহক আস্থার সংকট মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ছুটির প্যাকেজ সেগমেন্টে এক প্রকার ধ্বস নেমেছে।
শিল্প পর্যবেক্ষকরা জানাচ্ছেন, ২০২৪ সালের শেষ ভাগ থেকেই প্যাকেজ বিক্রিতে বড় ধরনের পতন শুরু হয়। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের হিসাব বলছে, এয়ার কানাডার ভ্যাকেশন প্যাকেজের বিক্রি গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪৫% কমে গেছে। বিশেষ করে জনপ্রিয় দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপগামী ট্যুর প্যাকেজগুলোর চাহিদা একেবারেই নিম্নমুখী।
কানাডার সাধারণ পরিবার বর্তমানে উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে। ফলে অগ্রাধিকার তালিকা থেকে ছুটি কাটানোর খরচ বাদ পড়ছে।
এছাড়াও অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি এবং ডিসকাউন্ট এয়ারলাইনগুলো অনেক সস্তা ও কাস্টমাইজড প্যাকেজ অফার করছে। এতে এয়ার কানাডার তুলনামূলক ব্যয়বহুল প্যাকেজ বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না।
এমনকি কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে ফ্লাইট বাতিল, রিফান্ড বিলম্ব এবং দুর্বল কাস্টমার সার্ভিস নিয়ে এয়ার কানাডার বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রভাব পড়েছে ছুটির প্যাকেজ ব্যবসায়ও।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি সাময়িক হলেও এয়ার কানাডাকে দ্রুত কৌশল পাল্টাতে হবে। সস্তা টিকিট, আরও নমনীয় প্যাকেজ এবং নির্ভরযোগ্য সার্ভিস ছাড়া বাজার পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে। অন্যদিকে কিছু পর্যটন বিশ্লেষকের মতে, গ্রাহকরা এখন অভিজ্ঞতার উপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। অর্থাৎ শুধুমাত্র হোটেল ও ফ্লাইট নয়, বরং স্থানীয় অভিজ্ঞতা, কাস্টমাইজড ট্যুর ও টেকসই ভ্রমণ বিকল্প খুঁজছেন।
এয়ার কানাডা ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছে, তারা তাদের ভ্যাকেশন প্যাকেজ ব্যবসায় “কৌশলগত পুনর্গঠন” আনতে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে – কম খরচে নতুন গন্তব্য যুক্ত করা, অনলাইন বুকিং প্ল্যাটফর্ম আরও উন্নত করা এবং গ্রাহকদের জন্য নমনীয় ক্যানসেলেশন নীতি চালু করা।
এয়ার কানাডার ভ্যাকেশন প্যাকেজের এই ধ্বস কানাডার পর্যটন খাতে এক বড় সতর্কবার্তা। গ্রাহকের আস্থা ফেরানো এবং পরিবর্তিত বাজার বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানো ছাড়া এ খাতের পুনর্জাগরণ সম্ভব নয়।
