
আগামী বছরে টরন্টোর গণপরিবহন ব্যবস্থায় আসছে বড় ধরনের রদবদল। টরন্টো ট্রানজিট কমিশন (টিটিসি) জানিয়েছে, নতুন দুটি লাইট রেল ট্রানজিট (এলআরটি) লাইন চালু এবং পুরনো একটি লাইন স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বাস ও সাবওয়ে রুটে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হবে। শহরের কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব পরিবর্তন যাত্রীসেবাকে আরও আধুনিক, দ্রুত এবং পরিবেশবান্ধব করবে। তবে, যাত্রীদের অভ্যাসে পরিবর্তন আনতে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে নজরকাড়া পরিবর্তন হবে এগলিনটন করিডরে। নতুন লাইন ৫ এগলিনটন এলআরটি চালু হওয়ার ফলে আশপাশের অসংখ্য বাস রুট পুনর্গঠন করা হবে। আগে যাত্রীদের অনেক দূর হেঁটে গিয়ে বাস ধরতে হতো, কিন্তু এখন সরাসরি এলআরটির সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় যাতায়াত অনেক সহজ হবে।
উদাহরণস্বরূপ, ক্যালিডোনিয়া, জেন সাউথ এবং এগলিনটন ওয়েস্ট রুটগুলো নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। এর ফলে মাউন্ট ডেনিসসহ একাধিক নতুন স্টেশনে দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হবে। পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এগলিনটন করিডরে এই পরিবর্তন টরন্টোর পূর্ব-পশ্চিম সংযোগকে একেবারেই নতুন মাত্রা দেবে।
অন্যদিকে, লাইন ৬ ফিনচ ওয়েস্ট এলআরটি চালুর প্রস্তুতি চলছে। এটি ফিনচ ওয়েস্ট স্টেশন থেকে শুরু হয়ে হাম্বার কলেজ পর্যন্ত যাবে। বহু বছর ধরে চলা ৩৬বি ফিনচ ওয়েস্ট বাস রুট হয় বাতিল হয়ে যাবে, নয়তো ব্যাপক পরিবর্তনের মুখে পড়বে। এই লাইন চালু হলে প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী যাত্রী দ্রুত যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। টিটিসির আশা, ফিনচ করিডরের তীব্র যানজট কমাতে এই লাইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
টরন্টোর পূর্ব প্রান্তে বড় পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিনের পুরনো লাইন ৩ স্কারবরো স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। আগে এটি কেনেডি থেকে ম্যাককোয়ান পর্যন্ত চলত। এর বিকল্প হিসেবে একটি বিশেষ “লাইন ৩ বাসওয়ে” তৈরি করা হচ্ছে, যা কেনেডি থেকে এলেসমেয়ার পর্যন্ত যাত্রী বহন করবে। যদিও সম্পূর্ণ বাসপথ চালু হতে প্রায় দুই বছর সময় লাগবে, আপাতত যাত্রীরা বাসের ওপর নির্ভর করায় কিছুটা ভোগান্তিতে পড়ছেন। তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি আরও টেকসই ও স্থায়ী সমাধান দেবে বলে টিটিসি আশাবাদী।
এই পরিবর্তনগুলো নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, নতুন এলআরটি চালু হলে দীর্ঘ বাসযাত্রার ঝামেলা এড়ানো যাবে এবং সময় বাঁচবে। বিশেষ করে যারা প্রতিদিন অফিস বা কলেজে যাতায়াত করেন, তারা এর সুফল দ্রুতই পাবেন।
তবে কেউ কেউ শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, পরিচিত বাসপথে হঠাৎ পরিবর্তন আসায় প্রথমদিকে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। আবার নতুন লাইনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময়ও লাগবে।
শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব পরিবর্তন শুধু যাত্রীসেবার উন্নতির জন্য নয়, বরং আগামী দিনের ক্রমবর্ধমান যাতায়াতের চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন এলআরটি লাইনগুলো পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে কার্বন নির্গমন কমাবে, খরচও হবে তুলনামূলক কম।
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, টরন্টোর জনসংখ্যা এবং যানবাহনের চাপ দিন দিন বাড়ছে। তাই আধুনিক রেললাইন, নতুন বাসপথ এবং পুরনো লাইন বন্ধ করে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ এসবই শহরকে আরও টেকসই এবং আধুনিক নগরীতে রূপান্তরের পথে এগিয়ে নেবে। আগামী বছরগুলোতে আরও বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
টরন্টোর গণপরিবহন ব্যবস্থায় এই পরিবর্তন একদিকে যাত্রীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে, অন্যদিকে প্রথমদিকে কিছুটা অসুবিধাও বয়ে আনবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এগুলো শহরের যোগাযোগব্যবস্থাকে আরও উন্নত, দ্রুত এবং পরিবেশবান্ধব করে তুলবে।
This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI
