অর্থনৈতিক মন্দা কি সহসা কাটছে

কানাডার অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি সেবা খাত

কানাডার অর্থনীতি এক জটিল সময় পার করছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১.৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা শুধু অর্থনীতির গতিপথকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়ও চাপ সৃষ্টি করছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রবৃদ্ধির এই পতন প্রত্যাশার চেয়েও বেশি, যা আসন্ন সময়ের জন্য উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

কানাডার অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি সেবা খাত। তবে আগস্ট মাসে সেবা খাতের সূচক নেমে এসেছে ৪৮.৬ এ, যা চলমান সংকোচনের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন অর্ডার পাচ্ছে না, বিদেশে রপ্তানি কমে গেছে, আর ভোক্তারা খরচ কমাচ্ছেন। এর ফলে ছোট ও মাঝারি কোম্পানিগুলো বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং কর্মসংস্থানের বাজারেও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

- Advertisement -

এই প্রেক্ষাপটে ব্যাংক অব কানাডা সুদের হার হ্রাসের উদ্যোগ নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। সুদের হার কমলে ঋণ নেওয়া সহজ হবে, ব্যবসায় বিনিয়োগ বাড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কানাডিয়ান রপ্তানি প্রতিযোগিতা ফিরে পেতে পারে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কানাডিয়ান ডলারের মানও কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে। তবে, বিশেষজ্ঞদের মতে শুধু সুদের হার কমালেই এই অর্থনৈতিক মন্দা কাটবে না; এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজন।

সরকার প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের ঘোষণা দিয়েছে, যা সাময়িকভাবে অর্থনীতিতে কিছুটা গতি আনতে পারে। তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে দিচ্ছেন, শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা ব্যয় যথেষ্ট নয়। অবকাঠামো উন্নয়ন, আবাসন খাতে স্বস্তি সৃষ্টি এবং প্রযুক্তি–বিনিয়োগ ছাড়া টেকসই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হবে না।

মন্দার চাপ সবচেয়ে স্পষ্ট সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। বাড়ি ভাড়া, খাদ্যপণ্য এবং জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিবারগুলো মাসিক বাজেট সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে দেওয়ায় খুচরা বাজারে বিক্রি কমছে, যা আবার ব্যবসায় ক্ষতির কারণ হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানও চাপে রয়েছে; নতুন চাকরি সৃষ্টির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। প্রযুক্তি ও জ্বালানি রপ্তানি খাতে ধীরে ধীরে উন্নতির ইঙ্গিত মিলছে। বিশ্ববাজারে যদি জ্বালানি ও প্রযুক্তি–সেবার চাহিদা বাড়ে, তবে কানাডার রপ্তানি কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে। একই সঙ্গে সুদের হার হ্রাস পেলে আবাসন ঋণ ও ব্যবসায়িক ঋণ আবারও সক্রিয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে কানাডার অর্থনীতি বর্তমানে দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। একদিকে জিডিপি পতন, সেবা খাত সংকোচন এবং ভোক্তা ব্যয় হ্রাস মন্দার গভীরতা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে সুদের হার নীতি ও রপ্তানি–নির্ভর খাতগুলো কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সহসা এই সংকট কাটবে না, তবে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সঠিক নীতি গ্রহণ করলে এবং অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতে কার্যকর বিনিয়োগ হলে আগামী বছর থেকে ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

- Advertisement -

Read More

Recent