
এক সময় অন্টারিও লিবারেল পার্টির জন্য “নতুন আশা” হিসেবে প্রশংসিত বনি ক্রম্বি এখন নেতৃত্বের সংকটের কেন্দ্রে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপের হতাশাজনক ফলাফল, দলীয় অভ্যন্তরীণ সমালোচনা এবং পরবর্তী প্রাদেশিক নির্বাচনের প্রস্তুতি ঘিরে বিভাজন সব মিলিয়ে দলটির ভেতরে অস্বস্তি বাড়ছে।
সাম্প্রতিক এক প্রাদেশিক জরিপে দেখা গেছে, লিবারেল পার্টির জনসমর্থন নেমে এসেছে ২৮ শতাংশে। গত বছর একই সময়ে এই হার ছিল ৩৪ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পতন মূলত শহরতলির আসনগুলোতে বেশি স্পষ্ট, যেগুলো আগামী ২০২৬ সালের নির্বাচনে সরকার গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তবে লিবারেলদের জন্য পর্যাপ্ত আসন নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
শুধু জনমত জরিপ নয়, দলের ভেতরেও অসন্তোষ স্পষ্ট হচ্ছে। কয়েকজন এমপিপি এবং সাবেক প্রার্থী অভিযোগ করেছেন, দলের নীতি ও বার্তা এখনও অস্পষ্ট এবং নির্বাচনী প্রচারণার সংগঠন যথেষ্ট জোরদার হয়নি। স্থানীয় অনেক অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, তহবিল সংগ্রহ ধীরগতিতে চলছে এবং স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগেও গতি নেই। অভ্যন্তরীণ একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ছয় মাসে পার্টি মাত্র ৩.৫ মিলিয়ন ডলার তহবিল তুলতে পেরেছে যা গত নির্বাচনী প্রস্তুতির তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কম।
প্রগ্রেসিভ কনজারভেটিভ (পিসি) পার্টি জনসমর্থনে স্থিতিশীল থেকে কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে নিউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এনডিপি) শহুরে কেন্দ্রগুলোতে ভোট শেয়ার বাড়াচ্ছে। ফলে লিবারেলদের সামনে চাপ আরও বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ক্রম্বির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং ভোটারদের কাছে একটি শক্তিশালী বিকল্প বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
দলের অভ্যন্তরে ইতিমধ্যেই নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ এখনো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেননি, তবে পার্টির আসন্ন বার্ষিক কনভেনশনে এই বিষয়টি উত্থাপিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী তিন থেকে ছয় মাসে দলের সমর্থন যদি উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়ে, তবে ক্রম্বির নেতৃত্বে চ্যালেঞ্জ আরও প্রবল হবে।
চাপের মধ্যেও আত্মবিশ্বাসী থাকার চেষ্টা করছেন বনি ক্রম্বি। তিনি জানিয়েছেন, দল শিগগিরই আক্রমণাত্মক প্রচারণা শুরু করবে এবং নতুন নীতি প্রস্তাবনা আনবে যার মধ্যে থাকবে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, সাশ্রয়ী আবাসন ও সবুজ অর্থনীতিতে বিনিয়োগ। ক্রম্বির ভাষায়, “আমাদের লক্ষ্য হলো অন্টারিওবাসীর কাছে এমন একটি ভিশন দেওয়া যা বর্তমান সরকারের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করবে। আমি নিশ্চিত, আমরা আগামী নির্বাচনে লিবারেলদের আবারও প্রাসঙ্গিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারব।”
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, শুধু নীতি ঘোষণা যথেষ্ট নয়। দলের মাঠপর্যায়ের সংগঠনকে আরও মজবুত করা, সদস্যপদ বৃদ্ধি, তহবিল সংগ্রহ এবং স্পষ্ট বার্তা পৌঁছানোই হবে সাফল্যের চাবিকাঠি। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আগামী এক বছরের মধ্যে দলের সমর্থন ৩০ শতাংশের ওপরে না ওঠে, ক্রম্বির নেতৃত্ব ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
ভোটারদের মধ্যেও ক্রম্বির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এক জরিপে দেখা গেছে, ৪২ শতাংশ ভোটার মনে করেন তার নেতৃত্ব এখনও “পরীক্ষাধীন” এবং তিনি বর্তমান প্রিমিয়ারকে চ্যালেঞ্জ করার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী নন। এই পরিস্থিতি স্বেচ্ছাসেবক ও অনুদানদাতাদের উৎসাহেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, বনি ক্রম্বির সামনে সময়টা অত্যন্ত কঠিন। তাকে একদিকে দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন মেটাতে হবে, অন্যদিকে ভোটারদের কাছে প্রমাণ করতে হবে যে লিবারেল পার্টি ক্ষমতায় ফেরার জন্য প্রস্তুত। আগামী কয়েক মাসের রাজনৈতিক পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে তিনি এই চাপ সামলে নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারবেন, নাকি দল নতুন নেতৃত্বের সন্ধানে নামবে।
