বাড়ির দাম সবচেয়ে বেশি কমেছে যেসব এলাকায়, ক্রেতাদের আগ্রহ আবারও বাড়ছে

টরন্টো এবং আশেপাশের উপশহরগুলোতে বাড়ির দাম এক বছরের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে

টরন্টো এবং আশেপাশের উপশহরগুলোতে বাড়ির দাম এক বছরের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সর্বশেষ আবাসন বাজার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, শহরের কেন্দ্র থেকে দূরের বেশ কিছু উপশহর ও মধ্যম আয়ের এলাকাতেই এই পতন সবচেয়ে তীব্র। বিশেষ করে মিলটন, অজাক্স, পিকারিং, স্কারবরো পূর্বাঞ্চল এবং ইয়র্ক রিজিয়নের কিছু অংশে গড়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত দাম কমেছে, যা নতুন ক্রেতাদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে।

অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ বলছে, মহামারীর সময় সুদের হার ছিল অস্বাভাবিকভাবে কম। সে সময় বিপুল সংখ্যক ক্রেতা বাজারে ঢুকে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তালিকার চেয়ে অনেক বেশি দামে বাড়ি কিনেছিলেন। কিন্তু গত দুই বছরে সুদের হার ধারাবাহিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় মাসিক মর্টগেজ কিস্তি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এর ফলে অনেক গৃহমালিক বাড়ি বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেলেও ক্রেতাদের সামর্থ্য কমে যাওয়ায় চাহিদা কমেছে, যা সরাসরি দামের পতনে প্রভাব ফেলেছে।

- Advertisement -

টরন্টো রিয়েল এস্টেট বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালে মিলটনে গড় ডিট্যাচড বাড়ির দাম নেমে এসেছে প্রায় ৯ লক্ষ ডলারে গত বছরের তুলনায় যা ১ লক্ষ ৮০ হাজার ডলার কম। পিকারিং ও অজাক্সে দাম কমেছে গড়ে ১৫ শতাংশ। স্কারবরোর পূর্বাঞ্চলে টাউনহাউস ও কন্ডোর দামও ১০ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।

তবে ডাউনটাউন টরন্টোর কন্ডো বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাড়ার চাহিদা বেশি থাকায় এখানে ক্রয়মূল্যের পতন সীমিত।

বাড়ির দাম কমে যাওয়া ক্রেতাদের জন্য নিঃসন্দেহে ইতিবাচক হলেও বিক্রেতাদের জন্য এটি বড় চাপের। অনেক মালিক বর্তমানে “আন্ডার ওয়াটার মর্টগেজ”-এর মুখে পড়েছেন অর্থাৎ তাদের বাড়ির বর্তমান বাজারদাম মর্টগেজের বাকির চেয়ে কম। ফলে বিক্রি করলেও আর্থিক ক্ষতি অবশ্যম্ভাবী।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মর্টগেজ ডিফল্টের হার গত এক বছরে প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে, যদিও তা এখনও ঐতিহাসিক গড়ের তুলনায় কম।

রিয়েল এস্টেট এজেন্টরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ক্রেতাদের জন্য এক “গোল্ডেন উইন্ডো” তৈরি করেছে। যারা এতদিন বাড়ির উচ্চমূল্য ও তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে দ্বিধায় ছিলেন, তারা এখন সক্রিয়ভাবে খুঁজছেন। আগের মতো বিডিং ওয়ার বা একাধিক ক্রেতার প্রতিযোগিতা এখন খুব কম দেখা যাচ্ছে।

মহামারীর সময় যেখানে বাড়ি বিক্রি হতো গড়ে ৭–১০ দিনের মধ্যে, এখন গড়ে ৩০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগছে যা ক্রেতাদের দর কষাকষির বাড়তি সুযোগ দিচ্ছে।

শহর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এই দাম কমার প্রবণতা স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। প্রতি বছর প্রায় এক লাখ নতুন অভিবাসী গ্রেটার টরন্টো এলাকায় বসতি স্থাপন করছেন। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে কয়েক বছরের মধ্যে চাহিদা আবার বাড়তে পারে এবং বাজার ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হতে পারে।

মহামারীর সময়ে দ্রুত বাড়তে থাকা দাম এখন উপশহর ও মধ্যম আয়ের এলাকাগুলোতে সবচেয়ে বেশি হ্রাস পেয়েছে। বাড়তি সুদের হার ও মর্টগেজের চাপের ফলে বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেছে, কিন্তু চাহিদা আগের মতো নেই। ক্রেতাদের জন্য এটি সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়ি কেনার এক বিরল সময়, তবে বিক্রেতাদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে চ্যালেঞ্জের। দীর্ঘমেয়াদে টরন্টোর জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও অভিবাসন এই বাজারকে আবারও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।

- Advertisement -

Read More

Recent