
অন্টারিও প্রদেশে আবাসন সংকট মোকাবিলায় আরও এক ধাপ এগিয়ে এলো প্রাদেশিক সরকার। প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড সোমবার অটোয়ায় অনুষ্ঠিত অ্যাসোসিয়েশন অব মিউনিসিপালিটিজ অব অন্টারিও-র বার্ষিক সম্মেলনে ঘোষণা দেন, বাড়ি নির্মাণে গতি আনতে এবং পৌরসভাগুলোকে সহায়তার জন্য নতুন করে ১.৬ বিলিয়ন ডলার (১৬০ কোটি ডলার) বরাদ্দ দেওয়া হবে।
সরকার জানায়, এই অর্থ সরাসরি মিউনিসিপাল অবকাঠামো উন্নয়নে খরচ করা হবে যেখানে সড়ক, সেতু, পানীয় জলের সরবরাহ এবং নিকাশি ব্যবস্থার মতো জরুরি সুবিধা গড়ে তোলার কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এসব অবকাঠামো না থাকায় অনেক পৌরসভা নতুন আবাসন প্রকল্পের অনুমোদনে বিলম্ব করছে, ফলে সরকার ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
প্রিমিয়ার ফোর্ড জানান, প্রদেশ ইতিমধ্যেই ২.৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে আবাসন খাতে অবকাঠামো নির্মাণে। নতুন বরাদ্দ সেই প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করছেন তিনি। তবে শুধুমাত্র অর্থ বরাদ্দ দিলেই সংকট কেটে যাবে না, তা স্বীকার করে নিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শ্রমিক সংকট, নির্মাণ ব্যয়ের উচ্চ হার, জমির দাম বৃদ্ধি এবং সুদের হার বৃদ্ধি এসব কারণ অন্টারিওতে নির্মাণ খাতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্টারিও সরকার ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫ লাখ নতুন বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্য স্থির করেছে। কিন্তু বর্তমান নির্মাণের গতি সেই লক্ষ্য থেকে অনেক পিছিয়ে। সরকারের সর্বশেষ পর্যালোচনা অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মাত্র ৯৪,৭৫৩টি বাড়ি নির্মাণ শুরু হয়েছে যেখানে অন্তবর্তীকালীন লক্ষ্য ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার। এমনকি দীর্ঘমেয়াদি সেবা কেন্দ্র এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসকেও হিসাবের মধ্যে ধরার পরও ঘাটতি থেকেই গেছে।
একই সময়ে কানাডা মর্টগেজ অ্যান্ড হাউজিং কর্পোরেশনের তথ্য বলছে, জুলাই মাসে সারাদেশে বাড়ি নির্মাণের হার আগের বছরের তুলনায় ৪ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু অন্টারিওতে উল্টোদিকে প্রায় ২৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এটি প্রদেশের আবাসন খাতের মন্থর অবস্থা আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
অন্টারিওর বিভিন্ন পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলররা বারবার জানিয়েছেন যথেষ্ট অবকাঠামো না থাকলে নতুন আবাসন অনুমোদন সম্ভব নয়। অনেক শহরে পানি সরবরাহ ও নিকাশি ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে আবাসন প্রকল্প আটকে আছে। নতুন তহবিল বরাদ্দের ফলে স্থানীয় সরকারগুলো দ্রুত আবেদন করতে পারবে এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারবে, যা অনুমোদন প্রক্রিয়াকে সহজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, যদি এই তহবিল যথাসময়ে পৌরসভাগুলোর হাতে পৌঁছায়, তবে ২০২৫ সাল থেকেই নির্মাণ কার্যক্রমে গতি আসতে পারে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন শুধু অর্থ বরাদ্দ নয়, প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষ জনবল, সুপরিকল্পিত নকশা এবং প্রাদেশিক ও স্থানীয় সরকারের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অপরিহার্য। অন্যথায় অর্থ ব্যয়ের পরও কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না।
অন্টারিও এখন এক দ্বৈত চ্যালেঞ্জের মুখে একদিকে দ্রুত আবাসন নির্মাণের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলা, অন্যদিকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। যদি প্রদেশ সময়মতো অবকাঠামো উন্নয়ন সম্পন্ন করতে পারে, তবে ২০৩১ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অনেকটাই এগিয়ে যাবে এবং হাজার হাজার পরিবার স্থায়ী আবাসনের সুযোগ পাবে। অন্যথায় বরাদ্দকৃত অর্থও কাঙ্ক্ষিত সুফল দিতে ব্যর্থ হবে।
This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI
