ট্রাম্পের পরিবর্তে কানাডার ওপর মনোযোগ বাড়ানোর আহ্বান ফোর্ডের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যিক অচলাবস্থা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বের প্রশংসা করলেন অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যিক অচলাবস্থা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বের প্রশংসা করলেন অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড। সোমবার পার্লামেন্ট হিলের পশ্চিম ব্লকে কেবিনেট বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফোর্ড বলেন, এখন সময় এসেছে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিক্রিয়াশীল অবস্থানের পরিবর্তে কানাডা, অন্টারিও এবং অন্যান্য প্রদেশের উন্নয়ন ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতার দিকে মনোযোগ বাড়ানোর।

ফোর্ড জানান, সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী কার্নির সঙ্গে তিনি এবং অন্যান্য ১২ জন প্রিমিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। বর্তমানে তারা “টিম কানাডা” হিসেবে একসঙ্গে কাজ করছেন বলে উল্লেখ করে ফোর্ড বলেন, “আমরা সবাই একই নৌকায় রয়েছি। একসঙ্গে কাজ করলেই আমাদের অর্থনীতি ও শিল্প খাত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে।”

- Advertisement -

এই বৈঠকে বাণিজ্যিক শুল্ক, সীমান্তে বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা, কর ও প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। যদিও তাৎক্ষণিক কোনো চুক্তি হয়নি, তবে ফোর্ডের মতে এই সংলাপ ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত নীতি প্রণয়নের পথ প্রশস্ত করবে। তিনি বলেন, “তাৎক্ষণিক কোনো ফল নাও আসতে পারে, কিন্তু আমাদের মধ্যে চমৎকার অংশীদারিত্ব তৈরি হচ্ছে।”

প্রিমিয়ার ফোর্ড মনে করেন, আগামী বছর কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো বাণিজ্য চুক্তি (সিইউএসএমএ) পর্যালোচনার সময় আসবে। তাই এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, কানাডার অর্থনৈতিক নীতি ও শিল্পখাতের পরিবেশ এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সুবিধাজনক অবস্থান নিশ্চিত করা যায়। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, প্রস্তুতি না থাকলে ওয়াশিংটন আলোচনায় কঠোর শর্ত চাপিয়ে দিতে পারে, যা কানাডার শিল্প খাতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।

ফোর্ডের এই মন্তব্য ব্যবসায়ী মহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। অনেকে মনে করছেন, প্রাদেশিক সরকার বাণিজ্য নীতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন, অভ্যন্তরীণ শিল্পকে শক্তিশালী না করলে আন্তর্জাতিক আলোচনায় কানাডার অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। ফলে ফোর্ডের এই বক্তব্য সময়োপযোগী এবং প্রাদেশিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে।

প্রিমিয়ারের অফিস জানিয়েছে, তারা কর ব্যবস্থাকে সহজতর করা, উৎপাদন খরচ কমানো এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন নীতি প্রণয়নের পরিকল্পনা করছে। এর ফলে ছোট ও মাঝারি ব্যবসা সরাসরি উপকৃত হবে এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে মন্দাভাবের আশঙ্কায় থাকা কানাডার অর্থনীতির জন্য এই ধরনের ইতিবাচক বার্তা বাজারে আস্থা ফেরাতে সহায়ক হতে পারে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ফোর্ডের বক্তব্য কেবল বাণিজ্যনীতির সংকীর্ণ আলোচনায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং দেশজুড়ে সহযোগিতা ও সমন্বয়ের একটি নতুন বার্তা বহন করছে। এটি ফেডারেল ও প্রাদেশিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে বলে তারা মনে করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে কানাডার নেতৃত্ব যখন অভ্যন্তরীণ শক্তিকে সংগঠিত করতে চাইছে, তখন ফোর্ডের প্রশংসা ও সমর্থন সেই প্রচেষ্টায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আগামী দিনে সিইউএসএমএ পর্যালোচনার আলোচনায় এই ঐক্য ও প্রস্তুতিই কানাডার জন্য বড় অস্ত্র হতে পারে।

- Advertisement -

Read More

Recent