
অস্ত্রধারী এক ব্যক্তির বর্ণবাদী হুমকিতে বিঘ্নিত হয়েছে ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর এশিয়ান স্টুডেন্ট অরর্গানাইজেশন আয়োজিত ভার্চুয়াল সভা। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার আয়োজিত ওই সভায় ৯০ জনের বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। বর্ণবাদি আচরণে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের সহায়তায় এশিয়ান স্টুডেন্ট অ্যালায়েন্স সভার আয়োজন করে।
জুমে অনুষ্ঠিত ৪৫ মিনিটের ওই সভায় চীনা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে একাধিক সহিংস ও বর্ণবাদি বার্তা লেখার কথা জানান অংশগ্রহণকারী। এর কিছুক্ষণ পর ভিডিওতে অস্ত্রসহ এক ব্যক্তিকে হাজির হতে দেখা যায়।
সভার আয়োজক সহযোগী অধ্যাপক মেরি রিড বলেন, জুম লেন্স বরাবর একটি আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে ধরা হয়। আমি তখন কাঁপছিলাম।
নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, শে^তাঙ্গ এক ব্যক্তি তার ক্যামেরাটি চালু করে আগ্নেয়াস্ত্রটি প্রদর্শন করেন। আগ্নেয়াস্ত্রটি ছিল অনেক বড়। এটার দৈর্ঘ্য ছিল আমার উচ্চতা প্রায় অর্ধেক। আমি ওই ব্যক্তির ছবি ধারণ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সম্ভব হয়নি।
সহিংস ওই ভিডিওটি মাত্র কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল। তবে এর ফলে যে ট্রমা তার রেশ এখনও রয়ে গেছে। এশিয়ান স্টুডেন্ট অ্যালায়েন্স ভুক্তভোগীদের জন্য থেরাপি ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করেছে।
রিড বলেন, এটা লজ্জার। এ ঘটনার পর আমি ঘুমাতে পারি নি। কারণ, আমার কেবলই মনে হয়েছে হুমকিটি কি আমাকে উদ্দেশ্য করে? কারণ, আমি সভাটির আয়োজন করেছিলাম। গ্র্যাড হাউজের কি অবস্থা? তাদের নিরাপত্তা কি হুমকির মুখে? কে এই ব্যক্তি? সে কি আশেপাশেই কোথাও আছে?
ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর একজন মুখপাত্র বলেন, এই সহিংস ও বর্ণবাদি ঘটনায় ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো খুবই উদ্বিগ্ন। শিক্ষার্থীদের এই গ্রুপটির প্রতি সব ধরনের সহায়তা আমাদের রয়েছে এবং জুম মিটিংয়ে উপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণকে উৎসাহিত করা অব্যাহত রয়েছে। এশীয় কমিউনিটি এবং হেট ক্রাইমে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি আমাদের অবস্থান ব্যক্ত করছি। আমাদের কমিউনিটিতে যে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে তাতে আমরা আতঙ্কিত। এশীয়দের প্রতি বৈষম্য ও বর্ণবাদি আচরণ এবং সব ধরনের হিংসা ও বর্ণবাদি সহিংসতার আমরা কঠোর নিন্দা জানাচ্ছি।
This article was written by Rezaul Haque as part of the Local Journalism Initiative.
