৪০ বছর পরও নিখোঁজ নিকোল মরিনের সন্ধান মেলেনি, তথ্য দিলে ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা

চার দশক পেরিয়ে গেলেও টরন্টোর আট বছর বয়সী নিকোল মরিনের রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনা আজও অনসামাপ্ত

চার দশক পেরিয়ে গেলেও টরন্টোর আট বছর বয়সী নিকোল মরিনের রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনা আজও অনসামাপ্ত। ১৯৮৫ সালের গ্রীষ্মে ইটোবিকোকের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন থেকে নিখোঁজ হওয়া এই শিশুর খোঁজ দিতে পারলে এবার ঘোষণা করা হয়েছে ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার। টরন্টো পুলিশ আশা করছে, এত বছর পর হলেও হয়তো কারও স্মৃতি, তথ্য বা নথিপত্র এই মামলার জট খুলে দিতে পারে।

বুধবার নিকোলের পুরোনো আবাসিক ভবনের সামনেই পুলিশ সংবাদ সম্মেলন করে পুরস্কারের ঘোষণা দেয়। টরন্টো পুলিশের ডিটেকটিভ সার্জেন্ট স্টিভ স্মিথ উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা এখনো এই মামলাকে খোলা রেখেছি। কেউ যদি এমন কোনো তথ্য দিতে পারেন যা আমাদের প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে পেতে সাহায্য করে, অনুগ্রহ করে সামনে আসুন। নিকোলের পরিবার এখনো আশায় আছে।”

- Advertisement -

নিকোল মরিন ১৯৮৫ সালের ৩০ জুলাই সকালে তার মাকে বলেছিল, সে অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের নিচতলায় বন্ধুর সঙ্গে দেখা করবে এবং সুইমিং পুলে যাবে। সকাল ১১টার দিকে সে দরজা খুলে বাইরে যায়—এরপর আর কেউ তাকে কখনও দেখেনি। কোনো সাক্ষী, কোনো সিসিটিভি, কোনো পদচিহ্ন কিছুই পাওয়া যায়নি।

তৎকালীন টরন্টো পুলিশ ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ অনুসন্ধান অভিযান পরিচালনা করে। প্রায় ২০ জন গোয়েন্দাকে নিয়ে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়, শত শত স্বেচ্ছাসেবী, প্রতিবেশী, এমনকি হেলিকপ্টার ও ডুবুরি দলও অভিযানে অংশ নেয়। তবুও নিকোলের কোনো চিহ্ন মেলেনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মামলাটি ঠান্ডা পড়ে যায়, কিন্তু তদন্ত কখনোই বন্ধ হয়নি।

ডিটেকটিভ স্মিথ বলেন, “নিকোলের নিখোঁজ হওয়া আমাদের কাছে শুধু একটি ফাইল নয়, এটি একটি মানবিক গল্প। একটি শিশুর জীবন হঠাৎ হারিয়ে গেছে, আর একটি পরিবার ৪০ বছর ধরে উত্তর খুঁজছে।” তিনি জানান, নতুন প্রযুক্তি ও তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতির উন্নতির কারণে পুরোনো মামলাগুলো এখন নতুনভাবে পর্যালোচনা করা সম্ভব হচ্ছে।

টরন্টো পুলিশের বিশেষ ইউনিট এখন ‘এমসিএসসি রেসকিউ অ্যাপ’ নামের একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে, যা জনগণকে নিখোঁজ শিশুদের খোঁজে সরাসরি যুক্ত করছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ তাৎক্ষণিক বার্তা পান, ছবি ও অবস্থান শেয়ার করতে পারেন, এবং সন্দেহজনক কিছু দেখলে সরাসরি কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারেন।

ক্রাইম স্টপারসের চেয়ার শন স্পোর্টাম সংবাদ সম্মেলনে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “কখনও কখনও ছোট একটি তথ্যই বিশাল অগ্রগতি এনে দেয়। আপনার জানা কোনো ক্ষুদ্র তথ্য হয়তো নিকোল মরিনের পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে পারে।”

তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৫০ হাজার ডলারের পুরস্কার আগামী এক বছর কার্যকর থাকবে। এই সময়ের মধ্যে কেউ যদি বিশ্বাসযোগ্য তথ্য দেন যা নিকোলের অবস্থান বা নিখোঁজ হওয়ার রহস্য উদ্ঘাটনে সাহায্য করে, তাকে পুরস্কৃত করা হবে এবং পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।

নিকোল মরিনের নিখোঁজ হওয়া কানাডার আধুনিক ইতিহাসে অন্যতম রহস্যময় শিশুনিপাত ঘটনা হিসেবে বিবেচিত। তখনকার দিনে টেলিভিশন, রেডিও ও পত্রিকায় তার ছবি প্রচারিত হয়েছিল ব্যাপকভাবে। শতাধিক সূত্র পাওয়া গেলেও কোনোটিই সত্য প্রমাণিত হয়নি।

এখন, চার দশক পরও, সেই ছোট্ট মেয়েটির গল্প টরন্টোর নাগরিক স্মৃতিতে রয়ে গেছে। শহরের প্রবীণ বাসিন্দারা এখনো স্মরণ করেন সেই গ্রীষ্মের দিনটি, যখন একটি শিশু আনন্দে সুইমিংয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, আর পরক্ষণেই হারিয়ে যায় চিরতরে।

টরন্টো পুলিশ আবারও জনসাধারণের উদ্দেশে বলেছে নিকোল মরিনের সন্ধান এখন শুধু একটি তদন্ত নয়, এটি ন্যায়বিচারের ডাক। কেউ যদি সেই উত্তর জানেন, এখনই সময় কথা বলার।

- Advertisement -

Read More

Recent