
অন্টারিও প্রদেশে একজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাক্ষাৎ পেতে দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে বাড়ছে নাগরিকদের অসন্তোষ। নতুন এক সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে দেখা করতে চাওয়া অন্টারিওবাসীদের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি দীর্ঘ প্রতীক্ষায় ভুগেছেন, যার ফলে চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি আস্থায় চিড় ধরছে।
স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমীক্ষার আগের বছরে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রায় এক কোটি আট লাখ কানাডিয়ান চিকিৎসা পরামর্শের জন্য একজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। কিন্তু সেই প্রাথমিক অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে সময় লেগেছে গড়ে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত।
তথ্য অনুযায়ী, অন্টারিওর প্রায় ৩৫ শতাংশ বাসিন্দা জানিয়েছেন যে, একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দেখা পেতে তাদের প্রায় এক মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। ৪০ শতাংশের ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় এক থেকে তিন মাসের মধ্যে। আরও উদ্বেগজনক হলো, প্রায় ৩৬ শতাংশ অন্টারিওবাসী তিন মাস বা তারও বেশি সময় অপেক্ষার পর একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দেখা পেয়েছেন।
প্রতিবেদন বলছে, অন্টারিওর অবস্থা কানাডার অন্যান্য প্রদেশের তুলনায় আরও খারাপ। উদাহরণ হিসেবে কুইবেক প্রদেশে প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে একজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাক্ষাৎ পাচ্ছেন, যেখানে অন্টারিওতে একই সময়ে বিশেষজ্ঞের দেখা পান মাত্র ৩৩ শতাংশ মানুষ।
অপেক্ষার সময় নিয়ে কানাডিয়ানদের সামগ্রিক সন্তুষ্টির হারও আশাব্যঞ্জক নয়। সারাদেশে জরিপে অংশ নেওয়া নাগরিকদের মধ্যে মাত্র অর্ধেকের কিছু কম জানিয়েছেন যে, তারা অপেক্ষার সময় নিয়ে “সন্তুষ্ট” বা “খুবই সন্তুষ্ট।” বিপরীতে প্রায় ৩১ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, এই দীর্ঘ বিলম্বে তারা “অসন্তুষ্ট” বা “অত্যন্ত অসন্তুষ্ট।”
অন্টারিও প্রদেশে অসন্তুষ্টির হার জাতীয় গড়ের চেয়েও বেশি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অন্টারিওর ৪৫ দশমিক ৬ শতাংশ বাসিন্দা অপেক্ষার সময় নিয়ে সন্তুষ্ট হলেও, ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ বাসিন্দা স্পষ্টভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অপেক্ষার সময় ও নাগরিক সন্তুষ্টির মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। যারা এক মাসের মধ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দেখা পেয়েছেন তাদের মধ্যে ৮৩ শতাংশ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। কিন্তু যাদের এক থেকে তিন মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে, তাদের মধ্যে সন্তুষ্টির হার নেমে এসেছে ৫০ শতাংশে। আর যাদের তিন মাসের বেশি সময় লেগেছে, সেই শ্রেণিতে সন্তুষ্টির হার মাত্র ১৭ শতাংশ।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ—বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতি, হাসপাতালের দীর্ঘ তালিকা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং পারিবারিক চিকিৎসকদের রেফারেল ব্যবস্থার ধীরগতি। অন্টারিওতে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের চিকিৎসকের চাহিদা ক্রমাগত বাড়লেও, সরবরাহ সেই হারে বাড়ছে না। ফলে রোগীদের প্রাথমিক পরীক্ষা থেকে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াই বিলম্বিত হচ্ছে।
অন্টারিও মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের এক সদস্য বলেন, “প্রদেশে স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা বাড়ানো এবং ডিজিটাল পরামর্শব্যবস্থা উন্নত করা এখন সময়ের দাবি। দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে অনেক রোগী সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে জটিল অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, যা স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।”
এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অন্টারিওতে চিকিৎসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সহজীকরণে নতুন কৌশল গ্রহণ করা হচ্ছে। অনলাইন রেফারেল ব্যবস্থা, ভার্চুয়াল কনসালটেশন এবং বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো—প্রদেশজুড়ে চিকিৎসা সেবার চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে, কোনো দ্রুত সমাধান এখনো দেখা যাচ্ছে না।
অর্থাৎ, অন্টারিওবাসীর জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পাওয়া এখন এক দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে, কিন্তু চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করার আগেই তাদের ধৈর্য ফুরিয়ে যাচ্ছে—এমন এক বাস্তবতা এখন প্রদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI
