আগামী বছর অন্টারিওর বাজেট ঘাটতি বাড়বে

অর্থমন্ত্রী পিটার বেথলেনফালভির একজন মুখপাত্র বলেছেন অন্টারিওর আর্থিক অবস্থা এক দশক আগের তুলনায় অনেক শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে

অন্টারিওর অর্থনীতি আগামী বছর আরও চাপের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রদেশের ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিস (FAO)। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অন্টারিওর বাজেট ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে, যা সরকারের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার সক্ষমতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

FAO-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে (২০২৪-২৫) অন্টারিও সরকারের বাজেট ঘাটতি প্রায় ১৩০ কোটি ডলার হলেও, আগামী অর্থবছরে (২০২৫-২৬) তা ১,২০০ কোটি ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই বৃদ্ধি মূলত রাজস্ব হ্রাস, শ্লথ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যয়ের চাপ বৃদ্ধির ফল।

- Advertisement -

অর্থনীতিবিদদের মতে, ফোর্ড সরকারের অর্থনৈতিক কৌশল মূলত কর কমানো এবং অবকাঠামো বিনিয়োগ বৃদ্ধির দিকে ঝুঁকেছে। তবে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশামতো না হওয়ায় প্রদেশের আর্থিক ভারসাম্য রক্ষা করা এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৯-৩০ অর্থবছরে অন্টারিওর মোট প্রাদেশিক ঋণ ৫৪ হাজার ৯৩০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা বর্তমানের তুলনায় প্রায় ১৪ হাজার ১০০ কোটি ডলার বেশি। এর অর্থ, ফোর্ড সরকার চলতি দশকের শেষে প্রদেশের মোট ঋণের বোঝা আরও বাড়াতে চলেছে যা ভবিষ্যতের প্রজন্মের ওপর দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে।

FAO সতর্ক করেছে, যদি বর্তমান অর্থনৈতিক প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তবে ২০২৯ সালের মধ্যে অন্টারিওর বাজেট ঘাটতি ৯০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। এর প্রধান কারণ হিসেবে তারা দেখিয়েছে – স্বাস্থ্যখাতে ক্রমবর্ধমান ব্যয়, প্রদেশের ঋণের ওপর সুদের, পরিশোধ এবং স্থবির রাজস্ব প্রবৃদ্ধি। অর্থাৎ, রাজস্ব যতটা বাড়ছে, ব্যয় তার চেয়ে দ্রুত গতিতে বাড়ছে।

প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় শুরু হওয়া মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাব এখনও অন্টারিওর অর্থনীতিতে রয়ে গেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রে সরকার পরিবর্তনের পর কিছু শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে, তবুও বাণিজ্য নীতির অনিশ্চয়তা প্রদেশটির রপ্তানি-নির্ভর অর্থনীতিকে ঝুঁকির মধ্যে রেখেছে।

FAO জানিয়েছে, তাদের এই প্রাক্কলন আগস্ট মাসের গোড়ার দিকের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা, যা কানাডায় মার্কিন পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের আগের সময়ের উপাত্ত। তাই বাস্তব প্রভাব আরও কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে।

এদিকে অন্টারিওর অর্থমন্ত্রী পিটার বেথলেনফালভি-এর মুখপাত্র বলেছেন, প্রদেশের বর্তমান আর্থিক অবস্থা আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। তিনি বলেন, “গত এক দশকে অন্টারিওর ক্রেডিট রেটিং উন্নত হয়েছে এবং ২০১৮ সালের পর থেকে রাজস্ব প্রায় ৭ হাজার কোটি ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে আমাদের অর্থনৈতিক কৌশল সঠিক পথে এগোচ্ছে।”

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ফোর্ড সরকারের জন্য সামনে সময়টা বেশ কঠিন হতে যাচ্ছে। একদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টানছে ধীরগতি, অন্যদিকে রাজস্ব ঘাটতি ও ঋণ বৃদ্ধি প্রদেশের নীতিনির্ধারকদের ওপর চাপ বাড়াবে। যদি বাণিজ্য যুদ্ধ পুনরায় তীব্র হয় বা যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে, তাহলে অন্টারিওর অর্থনীতি নতুন করে ধাক্কা খেতে পারে।

তবে সরকার যদি রাজস্ব কাঠামো সংস্কার, উৎপাদনশীল খাতকে প্রণোদনা দেওয়া এবং স্বাস্থ্যব্যয় নিয়ন্ত্রণের দিকে মনোযোগ দেয়, তাহলে বাজেট ঘাটতি কমানো সম্ভব হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

অন্টারিওর অর্থনীতি এখন এক কঠিন সঙ্ক্রমণ পর্যায়ে রয়েছে একদিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংকট। এই দুই চাপের মধ্যে ফোর্ড সরকারের জন্য আগামী কয়েক বছর হবে আর্থিক ভারসাম্য রক্ষার এক বড় পরীক্ষা।

- Advertisement -

Read More

Recent