আরেকটি নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে অন্টারিও লিবারেল পার্টি

অন্টারিওর রাজনীতিতে আবারও শুরু হয়েছে নেতৃত্ব পরিবর্তনের উত্তেজনা

অন্টারিওর রাজনীতিতে আবারও শুরু হয়েছে নেতৃত্ব পরিবর্তনের উত্তেজনা। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটি হতে যাচ্ছে তৃতীয় নেতৃত্ব নির্বাচন অর্থাৎ প্রাদেশিক লিবারেল পার্টির ভেতরে স্থিতিশীলতা ফিরছে না এখনো। এদিকে ২০২৯ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের আগে কে বর্তমান প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডের মুখোমুখি হবেন, সেই প্রশ্ন নিয়েই এখন সরগরম কানাডার অন্টারিও রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গন।

দলের সাম্প্রতিক বার্ষিক সাধারণ সভায় (AGM) মাত্র ৫৭ শতাংশ প্রতিনিধির আস্থা ভোট পান অন্টারিও লিবারেল পার্টির বর্তমান নেতা বনি ক্রম্বি। এই ফলাফল হাতে পাওয়ার পর তিনি নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তবে দলের নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তীকালীনভাবে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

- Advertisement -

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আস্থা ভোটে কম সমর্থন পাওয়া ক্রম্বির জন্য একটি ‘সতর্কবার্তা’। দলের অনেকেই মনে করছেন, তার নেতৃত্বে ২০২৬ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের দায়ের পর থেকে তিনি দলকে কার্যকরভাবে পুনর্গঠিত করতে পারেননি। ফলে সদস্যদের একাংশ এখন পরিবর্তনের পক্ষে সরব।

এই শূন্যপদে এখন একের পর এক নাম আসছে সম্ভাব্য প্রতিযোগী হিসেবে। লিবারেল পার্টির ভেতরে এবং প্রাদেশিক রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের নেতৃত্ব প্রতিযোগিতা হতে পারে একাধিক শক্তিশালী প্রার্থীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ লড়াই।

প্রথমেই আলোচনায় রয়েছেন জেফ লেহম্যান, যিনি ব্যারির তিন মেয়াদের মেয়র ছিলেন। তিনি বনি ক্রম্বির নেতৃত্বে প্রকাশ্যে আস্থা ভোট দেননি; বরং AGM-এ সরাসরি তার বিপক্ষে ভোট দেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের প্রার্থীতা ঘোষণা করতে পারেন।

এছাড়া, ইটোবিকোক সেন্টার থেকে টানা তিনবার নির্বাচিত লিবারেল এমপি ইভান বেকারকেও অনেকে প্রার্থী হতে উৎসাহ দিচ্ছেন। বেকার এখনো সিদ্ধান্ত না নিলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনাকে তিনি উড়িয়ে দেননি।

সম্ভাব্য নেতৃত্বপ্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন আরও কয়েকজন বিশিষ্ট নেতা ও জনপরিচিত মুখ – ন্যাট আর্স্কিন-স্মিথ, সাবেক ফেডারেল মন্ত্রী এবং বর্তমানে টরন্টোর এমপি।, কারিনা গোল্ড, ট্রুডো সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রিসভার সদস্য ও বার্লিংটনের এমপি।, অ্যান্ড্রু বুজারি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসক।, মার্কো মেন্ডিসিনো, ক্রম্বির অন্তর্বর্তীকালীন চিফ অব স্টাফ।, নবদ্বীপ বেইন্স, সাবেক ইনোভেশন, সায়েন্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি মন্ত্রী।, ডা. আদিল শামজি, জরুরি বিভাগের চিকিৎসক।, রব সিরিয়ানেক, ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট, ইনোভেশন, ট্যুরিজম ও কালচারের লিবারেল ক্রিটিক। এবং  টেড সু, সাবেক এমপি এবং দীর্ঘদিনের লিবারেল সংগঠক।

এছাড়া, আরও কয়েকজন রাজনীতিকের নাম শোনা যাচ্ছে, যারা এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ভিন্স গ্যাসপারো (এগলিন্টন-লরেন্সের এমপি), সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ইয়াসির নাকভী, সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন নেতা জন ফ্রেজার, এমনকি গ্রিন পার্টির নেতা মাইক শ্রেইনার যার নামও আলোচনায় এসেছে একটি সম্ভাব্য জোট নেতৃত্বের প্রেক্ষিতে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অন্টারিও লিবারেল পার্টির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো একটি ঐক্যবদ্ধ, বিশ্বাসযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলা যে নেতৃত্ব ডগ ফোর্ডের প্রগ্রেসিভ কনজারভেটিভদের কার্যকরভাবে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে।

গত কয়েক বছরের ভেতরে দলটি একাধিক নির্বাচনে হতাশাজনক ফল করেছে, এবং সংগঠনের ভেতরে বিভাজন ও নেতৃত্বের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে পরবর্তী নেতা শুধু নির্বাচনী প্রচারণার মুখ হবেন না, বরং দলের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এবং নীতিগত পুনর্গঠনের স্থপতিও হবেন।

দলীয় সূত্র অনুযায়ী, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে, এবং ২০২৬ সালের আগে নতুন নেতার অধীনে সংগঠন পুনর্গঠন সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। এখন নজর সবারই বনি ক্রম্বির পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে।

অন্টারিওর রাজনৈতিক অঙ্গনে তাই এখন নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা যেখানে লিবারেলরা খুঁজছে নিজেদের ভবিষ্যৎ, আর প্রাদেশিক রাজনীতি অপেক্ষা করছে এক নতুন নেতৃত্বের জন্য।

- Advertisement -

Read More

Recent