জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন মিলনাতয়নে “হাজার বছরের বাংলাদেশ: ইতিহাসের পাঠবৈচিত্র্য” বইয়ের মোড়ক উন্মোচন এবং পাঠ পর্যালোচনা হয়ে গেল আজ। ১১টায় শুরু করতে চাইলেও শুরু হতে হতে ১২ টা পেরিয়ে যায়।
কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনকে আসতে হয়েছিল শ্যামলী থেকে বহুদূরের পথ অতিক্রম করে। ঢাকা শহরের সর্বত্র আজ যেন মানুষের ঢল। করোনার সকল বিধিনিষেধ তুলে নেয়াতে মানুষ যেন বহুদিন পর প্রাণ ফিরে পায় এবং তারই প্রভাবে পড়েছিল রাস্তায়। আমারও পৌঁছাতে দেরি হয়ে গিয়েছিল। প্রথমে মনে হয় খলিল ভাই ও মায়িশাই পৌঁছেছিল, তারপর কাছাকাছি সময়ে অনুষ্ঠানর সঞ্চালক অপর্ণা খান। শুভ্র পৌঁছেছিল আমার আগে। আমাকে বহনকারী গাড়ি দিয়েই ওকে পাঠিয়েদিলাম ঢাকা ক্লাবে স্ন্যাকস আনতে। উপরে গিয়ে দেখি প্রকাশক শাহাদাত ভাই তাঁর দলবল নিয়ে হাজির। সাথে অনেকগুলো বই। আমার ধারণা ছিল, ওখানে ১০-১২টা বই বিক্রয় হবে। হয়েছিল মোটেই কয়েকটা। বই কেনায় মানুষের আগ্রহ কম, সৌজন্য সংখ্যা পেতে আগ্রহী বেশিরভাগ। আর প্রেসের লোকেরা ব্যস্ত ছবি তোলায়। মোড়ক উন্মোচনের ছবি তোলা যেন শেষ হচ্ছিল না।
অপর্ণা খান চমৎকার মানুষ এবং প্রাণবন্ত তাঁর উপস্থাপনা। পুরো অনুষ্ঠান তিনি এক হাতে সামলেছেন। অনুমান করতে পারি রাহাত খান শেষ জীবনে একজন নির্ভর করার মতো মানুষকে খুঁজে পেয়েছিলেন। আমিও কী কম নিশ্চিত ছিলাম? তো তাঁর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠান শুরু হলে প্রথমেই শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন শাহাদাত ভাই। এরপর বাহাদুর ব্যাপারী। তারপর আমি। মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল যথারীতি সকলকে মুগ্ধ করে রাখলেন। তিনি এবং সেলিনা হোসেন উভয়ে বইটি হাতে পেয়েছেন আজ সকালে। তারপরও যেভাব বইটির পাঠ বিশ্লেষণ করলেন তা অবাক করার মতো। একবারও মনে হয়নি যে, বইয়ের পুরো পাঠ তাঁদের নাই। যেভাবে চুম্বক অংশগুলোকে একে একে হাজির করে বুলবুল ভাই বইটির উপযোগিতা বলছিলেন, তা বিস্ময়কর। সেলিনা আপাও যথাসাধ্য চেষ্টা করছিলেন বইয়ের বিষয়বস্ত নিয়ে কথা বলবার। বারবার মনে হচ্ছিল, আহা, অন্তত ১ সপ্তাহ আগে যদি বইটি তাঁর হাতে পৌঁছানো যেত! যা হয়নি, তা নিয়ে আক্ষেপ করে লাভ কী? যা পেয়েছি, তার মূল্য যে অনেক বড়।
এটি আমার ৬ষ্ঠ বই। এর আগে “মেহেরুন” বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হয়েছিল ২০১৯ সালের বইমেলায়। নাট্যজন সাধনা আহমেদ করেছিলেন সেটা; কিন্তু, সেদিন বুঝেছিলাম, বাঙলা একাডেমির মোড়ক উন্মাচন যেকোন বিবেচনায় হট্টমেলার চেয়ে কম না। আমার প্রথম বই “টনির আমেরিকা প্রত্যাবর্তন”-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছিল ক্যালগারিতে, বাংলাদেশ অ্যাসেসিয়েশন আয়োজন করেছিল। জেনেসিস সেণ্টার সেদিন গমগম করছিল। আজকের অনুষ্ঠান অনেক বেশি সুন্দর পরিপাটি এবং একটা বইয়ের জন্য এমন পরিবেশ নিশ্চিত করাটা জরুরি। সেজন্য অপর্ণা খানের কাছে আমার কৃতজ্ঞতা কোনদিন শেষ হবে না। আর যারা উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানটিকে প্রাণবন্ত করে রাখলো, খলিল ভাই, মায়িশা, মর্মিতা, শুভ্র, মিজান, টুনু থেকে শুরু করে নজরুল, মৃগাঙ্ক মোহন, মোস্তাক, ডা. রিপন― কতজনের নাম নেব? এঁরা সবাই যে আমাকে ভালোবেসে আজকে হাজির হয়েছেন, সেটা বলাই বাহুল্য।
ক্যালগেরি, কানাডা

