প্রথম প্রান্তিকে ফেডারেল সরকারের ঘাটতি ৩৩০ কোটি ডলার

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এপ্রিল জুন মেয়াদে কানাডার ফেডারেল সরকারের বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৩০ কোটি ডলারে

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (এপ্রিল-জুন মেয়াদে) কানাডার ফেডারেল সরকারের বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৩০ কোটি ডলারে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৯০ কোটি ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে ঘাটতি বেড়েছে ৪০ কোটি ডলার বা প্রায় ১৪ শতাংশ।

অর্থ বিভাগের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাজস্ব আহরণ কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও ব্যয়ের গতি সেই বৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে গেছে, ফলে সামগ্রিকভাবে আর্থিক ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

- Advertisement -

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ফেডারেল রাজস্ব আয় বেড়েছে ২.৯ শতাংশ, যা পরিমাণে দাঁড়িয়েছে ৩৫০ কোটি ডলার। এ বৃদ্ধি মূলত এসেছে আমদানি শুল্ক এবং উচ্চ কর্পোরেট ও ব্যক্তিগত আয়কর থেকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন পণ্যের ওপর কানাডার পাল্টা শুল্ক আরোপের ফলে আমদানি সংক্রান্ত রাজস্বে উল্লেখযোগ্য উত্থান ঘটেছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ধারা কর্পোরেট মুনাফা ও ব্যক্তিগত আয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যা কর আদায়ে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।

রাজস্বের তুলনায় ব্যয়ের হার বেড়েছে আরও দ্রুত। নিট অ্যাকচুয়ারিয়াল লোকসান বাদ দিয়ে ফেডারেল কর্মসূচি খাতে ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৫০০ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৪.৬ শতাংশ বেশি।

অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, সামাজিক কর্মসূচি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দের কারণে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও এসব খাতে ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে সরকারের উদ্দেশ্য ছিল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির গতি ধরে রাখা।

একই সময়ে সরকারের ঋণ পরিশোধ বাবদ ব্যয় কিছুটা কমেছে। গত বছরের তুলনায় এ খাতে মাশুল কমেছে প্রায় ১০ কোটি ডলার বা ০.৬ শতাংশ।

এ ছাড়া নিট অ্যাকচুয়ারিয়াল লোকসান কমেছে ৯০ কোটি ডলার, যা প্রায় ৪৬.৮ শতাংশ হ্রাস। অর্থ বিভাগের মতে, এই হ্রাস মূলত সরকারি পেনশন ও দীর্ঘমেয়াদি দায়ের পুনর্মূল্যায়নের ফল।

অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রাজস্ব বৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও ব্যয়ের দ্রুত সম্প্রসারণই ঘাটতি বৃদ্ধির প্রধান কারণ। তারা মনে করেন, আগামী প্রান্তিকগুলোতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব সংগ্রহের দক্ষতা বাড়ানো না গেলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হবে।

সরকারি মহল অবশ্য আশাবাদী। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, “আমরা রাজস্ব উৎস বৈচিত্র্যকরণে কাজ করছি। বাণিজ্য, শিল্প ও বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে অর্থবছরের শেষভাগে ঘাটতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।”

তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্যের অস্থিরতা ও উচ্চ সুদের হার ফেডারেল অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফলে, সরকারের সামনে এখন মূল প্রশ্ন কীভাবে রাজস্ব বৃদ্ধির ইতিবাচক ধারা ধরে রেখে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

- Advertisement -

Read More

Recent