
কুইবেক প্রদেশে সরকার ও চিকিৎসকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান দর-কষাকষি আবারও গুরুতর অচলাবস্থায় আটকে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে প্রদেশের মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ওপর, যারা মাঠপর্যায়ের হাতে–কলমে চিকিৎসা প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই স্থবিরতা শুধু শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নয়, দীর্ঘমেয়াদে প্রদেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
কুইবেক ফেডারেশন অব মেডিকেল স্পেশালিস্টস (FMSQ) সম্প্রতি তাদের সদস্য চিকিৎসকদের নির্দেশ দিয়েছে সাময়িকভাবে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল পাঠদান বন্ধ রাখতে। সংগঠনের দাবি বিল–১০৬ নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় কোন অগ্রগতি না হওয়ায় কঠিন অবস্থান নেওয়া ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা ছিল না।
গত বসন্তে প্রস্তাবিত বিল–১০৬–এর লক্ষ্য ছিল চিকিৎসকদের বেতন কাঠামোকে পারফরম্যান্স সূচকের সঙ্গে যুক্ত করা, যাতে তারা হাসপাতালগুলোতে বেশি সময় ব্যয় করতে উৎসাহিত হন। তবে চিকিৎসকদের মতে, এটি স্বাস্থ্যসেবার ওপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করবে এবং চিকিৎসকদের কাজের স্বাধীনতা কঠোরভাবে সীমিত করবে।
FMSQ–র সিদ্ধান্তের কয়েক সপ্তাহ পর সাধারণ চিকিৎসকদের ফেডারেশনও একই ধরনের অবস্থান নেয়। ফলে প্রায় পুরো প্রদেশজুড়ে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল রোটেশন ও হাতে–কলমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম কার্যত থমকে গেছে।
ইউনিভার্সিটি অব মন্ট্রিয়ল মেডিকেল স্টুডেন্টস’ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি নিকোলাস ডোস্টি চলমান পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে বলেন “আমাদের মনে হচ্ছে আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি। যাদের এখন হাসপাতালে পালাক্রমে দায়িত্ব পালনের কথা, তারা বাড়িতে বসে সময় কাটাচ্ছে। হার্ট অ্যাটাক রোগীর জরুরি চিকিৎসা শেখা, কিংবা রোগীর পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো নরম দক্ষতা অর্জনের সুযোগও নেই।” তার মতে, শুধুমাত্র পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দিয়ে একজন দক্ষ চিকিৎসক তৈরি করা সম্ভব নয়। বাস্তব পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা ছাড়া একজন শিক্ষার্থীর প্রস্তুতি অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটির মেডিকেল স্টুডেন্টস’ সোসাইটির নির্বাহী প্রেসিডেন্ট রায়ান কারা। তিনি বলেন “আমাদের এখন হাসপাতালের ওয়ার্ডে থাকার কথা। কিন্তু আমরা একা বাড়িতে বসে আছি। যত বেশি দিন প্রশিক্ষণ থেকে বাইরে থাকব, ক্ষতি তত বাড়বে। সময়মতো রেসিডেন্সি শুরু করতে না পারলে রোগীদেরই ভুগতে হবে তাদের চিকিৎসা পেতে অপেক্ষার সময় আরও দীর্ঘ হবে।”
২০২৬ সালের জুলাইয়ে কুইবেকের মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ব্যাচের গ্র্যাজুয়েশনের তারিখ নির্ধারিত। কিন্তু চলমান অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে ওই শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ে ডিগ্রি গ্রহণ, এমনকি রেসিডেন্সি শুরু সবই অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা করছেন, এই বিলম্ব তাদের পুরো ক্যারিয়ারকে পিছিয়ে দিতে পারে, পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নির্মাণেও বাধা সৃষ্টি করবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসক–সরকার সংঘাত দ্রুত না মিটলে কুইবেকের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর মানবসম্পদ সংকটে পড়তে পারে। জরুরি বিভাগ, ইনপেশেন্ট কেয়ার এমনকি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায়ও প্রশিক্ষিত ডাক্তার কমে যাবে। ফলে জনগণের চিকিৎসা পাওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠবে। একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মন্তব্য করেন “আজকের প্রশিক্ষণ স্থগিত মানে আগামী পাঁচ বছর পর জরুরি বিভাগে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতি। এটা পুরো সিস্টেমকে দুর্বল করে দেবে।”
সরকার ও চিকিৎসকদের মধ্যে আলোচনার ভবিষ্যৎ কোনদিকে যাবে সে বিষয়ে এখনো কোনো পরিষ্কার ধারণা নেই। তবে সকল পক্ষই স্বীকার করছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর চরম মূল্য দিতে হবে কুইবেকের সাধারণ মানুষকে রোগী সেবায় বিলম্ব, অপেক্ষার সারি বৃদ্ধি এবং দক্ষ চিকিৎসকের ঘাটতির মাধ্যমে।
This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI
