
রিচমন্ড হিলের এক দম্পতি এমন এক দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি হয়েছেন, যা পর্যটকদের জন্য বাড়ি ভাড়া দেওয়া বহু ছোট মালিকের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে উঠতে পারে। কয়েক মাস আগে এয়ারবিএনবির মাধ্যমে ভাড়া দেওয়া বেজমেন্ট ইউনিটের অতিথি সময়মতো ভাড়া পরিশোধ বন্ধ করে দিয়েছেন, অথচ এখনো বাড়ি ছাড়তে রাজি নন। সব ধরনের যোগাযোগ ব্যর্থ হয়ে যাওয়ায় অসহায় দম্পতি বিষয়টিকে সামনে আনতে বাধ্য হয়েছেন।
দম্পতি নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে জানান, তারা পুলিশের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাননি। স্থানীয় আইনগত কাঠামোতে এ ধরণের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানকারীকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া কঠিন, ফলে তারা এখন দিশেহারা।
গত বছর তারা নিজেদের তিনতলা টাউনহাউসের বেজমেন্ট ইউনিট পর্যটক বা স্বল্পমেয়াদি ভাড়াটেদের দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শুরুতে সবকিছু ভালোই চলছিল। এয়ারবিএনবি থেকে নিয়মিত বুকিং আসছিল এবং আয়ও সন্তোষজনক ছিল। কিন্তু গত মে মাসে এক দম্পতি ও তাদের এক সন্তান এক বছরের থাকার অনুরোধ করে বসেন। বাড়ির মালিক নারীটি জানান, শুরু থেকেই বুকিংটি নিয়ে তার সন্দেহ ছিল। সে কারণে অনুরোধ গ্রহণের আগে তিনি সরাসরি এয়ারবিএনবির সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
“আমি জানতে চেয়েছিলাম, এক বছরের ভাড়া কি এয়ারবিএনবি আগে থেকেই নিয়ে রাখে? তারা জানায়, না মাসে মাসে ভাড়া নেওয়া হয়। অর্থ সংক্রান্ত কোনো জটিলতা হলে তাদের বিশেষজ্ঞ দল বিষয়টি সামলাবে বলেও আশ্বস্ত করে।” এই আশ্বাস পেয়ে তারা বুকিংটি অনুমোদন করেন।
প্রথম কয়েক মাস অতিথিরা নিয়মিত ভাড়া দিলেও আগস্ট মাসের পর থেকে সব বন্ধ। এরপর বহুবার বার্তা পাঠানো, ফোন করা, সরাসরি কথা বলা কিছুই কাজে আসেনি। অতিথি শুধু একটি কথাই বারবার জানিয়েছেন “আমার কাছে কোনো অর্থ নেই।” এদিকে এয়ারবিএনবির পক্ষ থেকে নিয়মিত বকেয়া ভাড়ার নোটিফিকেশন এলেও অতিথি সেগুলো পুরোপুরি উপেক্ষা করছেন।
ভুক্তভোগী দম্পতি জানান, বিষয়টি জানিয়ে তারা বহুবার এয়ারবিএনবির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশের কাছেও গেছেন। কিন্তু দু’পক্ষই জানিয়েছেন এটি এখন একটি ‘টেন্যান্সি ডিসপিউট’, যা সরাসরি বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়া আইনের আওতায় পড়ে। অর্থাৎ আদালতের আদেশ ছাড়া কাউকে ঘর ছাড়াতে পারবেন না। এ পরিস্থিতিতে এয়ারবিএনবির প্ল্যাটফর্ম তাদের আর কার্যকর সহায়তা দিতে পারছে না।
ঘর দখল করে থাকা ওই পরিবার সম্পর্কে দম্পতির তেমন কোনো তথ্য নেই। এ কারণে নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। সবচেয়ে বড় সংকট অর্থনৈতিক। দম্পতি জানান “আমরা মর্টগেজ, বয়স্ক বাবা-মায়ের চিকিৎসা ও দেখাশোনার খরচের জন্য ভাড়ার ওপর নির্ভর করি। ভাড়া বন্ধ হওয়ার পর আমরা সব সঞ্চয় শেষ করে ফেলেছি। এখন ঋণও প্রায় শেষ।” এদিকে অতিথিদের থাকার মেয়াদ যত দীর্ঘ হচ্ছে, আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও দ্রুত বাড়ছে।
হাউজিং আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এয়ারবিএনবির মতো স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার প্ল্যাটফর্মে দীর্ঘমেয়াদি বুকিং অ্যাকসেপ্ট করলেই পরিস্থিতি বদলে যায়। ৩০ দিনের বেশি অবস্থানই অনেক ক্ষেত্রে ভাড়াটিয়ার আইনি অধিকার তৈরি করে দেয়, যা বাড়িওলার পক্ষে জটিলতা তৈরি করে। অতএব, এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি অনুরোধ নেওয়ার আগে আইনগত দিক পরিষ্কারভাবে না বুঝলে বড় বিপদে পড়তে পারেন মালিকরা।
রিচমন্ড হিলের দম্পতির অভিজ্ঞতা স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার সিস্টেমের একটি অন্ধকার দিক তুলে ধরেছে। এয়ারবিএনবির প্ল্যাটফর্ম যত বড়ই হোক, স্থানীয় আবাসন আইন ভিন্নভাবে কাজ করতে পারে এবং অতিথি যদি ভাড়া না দিয়েই ঘরে থেকে যান, বাড়ির মালিকের করণীয় সীমিত হয়ে যায়।
দম্পতি এখন আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছেন, তবে সেটি সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল। তাদের প্রশ্ন “এর মধ্যে আমরা কীভাবে টিকে থাকব?”
এই ঘটনার পর বহু স্বল্পমেয়াদি ভাড়াদাতা এখন একই প্রশ্ন করছেন।
