ইতিহাস বিকৃতির অপচেস্টা রুখে দিতে হবে

জামায়াতি ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ মিথ্যাচার করেছেন যমুনা টেলিভিশনের টকশোতে

জামায়াতি ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ মিথ্যাচার করেছেন যমুনা টেলিভিশনের টকশোতে। তার কত বড় আস্পর্ধা বঙ্গবন্ধুকে বিশ্বাসঘাতক বলেছেন,  উপস্থাপক নিকোলকে সাধুবাদ জানাই সাথে সাথে তীব্র প্রতিবাদ করায়।

এই কথা অনস্বীকার্য যে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বঙ্গবন্ধুর ডাকে যেমন সংঘটিত হয়েছিল, তেমনিভাবে তিনি সেই যুদ্ধ্বের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই ইতিহাস লক্ষবার চেস্টা করেও মুছে ফেলা যাবে না। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় তার শাসনকাল নিয়ে আমার শত প্রশ্ন আছে। সেটা ভিন্ন আলোচনা। কিন্ত বাঙালীর মুক্তির যে আকাঙ্ক্ষা তা মূর্তরূপ দিয়েছেন বাঙালীর হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশ যতোদিন থাকবে ততোদিন বঙ্গবন্ধু স্বগৌরবে-স্বমহিয়ায় উজ্জ্বল তারকা হয়ে থাকবেন। কোন শক্তির সাধ্য নেই তাকে মুছে ফেলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের ইতিহাস রচনা করবে।

- Advertisement -

এই জামায়াতি কুলাংগার ব্যারিস্টারের নামতো কোনদিন শুনিনি। ৫ আগস্টের পর ভুইফোঁড়দের আস্ফালন বেড়েছে। তারা প্রথমে মুক্তিযুদ্ধের সকল স্থাপনা, ভাস্কর্য ভেঙেছে। এরপর ভেঙেছে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য এবং দুই দফায় ৩২ নাম্বারের বাড়ি। যে বাড়ির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে বাঙ্গালীর মুক্তির আকাঙ্খার সকল লড়াই সংগ্রামের ইতিহাস। জড়িয়ে আছে মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। এই ভুইফোঁড়রা জানে না, ইট পাথরের দালান ভাঙ্গা যায় কিন্ত মানুষের হৃদয় হতে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলা যায় না। আরো শত বছর চেস্টা করলেও তা কখনোই সম্ভব হবে না।

এই স্বাধীনতা বিরোধী চক্রদের নিকোলের মতন রুখে দিয়ে ইতিহাস বিকৃতির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার বিকল্প কিছু নেই।

গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের শাসনের সময়কালে শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধুকে শুধু পন্য বানিয়ে বিক্রি করেনি , নিজেদের সম্পত্তি বানিয়ে দেশের বৃহৎ  অংশের কাছ থেকে তাকে কেড়ে নিয়েছে এবং বঙ্গবন্ধুকে সার্বজনীন হতে দেয়নি। হাসিনার হাজার হাজার সমালোচনা আছে, করা যাবে কিন্ত তার কারণে বঙ্গবন্ধুকে টেনে এনে যারা অসম্মানিত করেন তারা স্রেফ স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকারের উত্তরাধিকারী।

শেষ কথা হচ্ছে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের কারণে বঙ্গবন্ধু যদি বিশ্বাঘাতক হন তবে ৩০ লক্ষ শহীদ, সম্ভ্রম হারানো দুই লক্ষ মা-বোন,  সাত বীর শ্রেষ্ঠ,  সর্বোপরি সাড়ে সাত কোটি বাংলাদেশীও বিশ্বাসঘাতক। সেই দায়ভার নিয়ে আমি গর্ববোধ করে বলবো , পাকিস্তানী বর্বর শাসনের সাথে এই বিশ্বাসঘাতকতার কারণেই  মহান মুক্তিযুদ্ধে হানাদার পাকিদের পরাজিত করে ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের মাধ্যমে আমরা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি। যার নেতৃত্ব দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

 

মন্ট্রিয়ল, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent