দেখা না দিলে বন্ধু কথা কইও না

হাসিম মাহমুদের গানের এই প্রথম লাইনটি কোন কোন রাজনিতিবিদকে টকশোতেও ব্যবহার করতে দেখেছি

হাসিম মাহমুদের গানের এই প্রথম লাইনটি কোন কোন রাজনিতিবিদকে  টকশোতেও ব্যবহার করতে দেখেছি। বিশেষতঃ প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে। তবে আমি এটিকে ব্যবহার করেছি তার সঠিক অর্থেই। আমার খুব ছোটবেলার বন্ধু ‘পিকু’ বেড়াতে এসেছিল আমার বাসায়। তার ভাষায় আমরা হচ্ছি –

বয়হুড নেকেড ফ্রেন্ড”।

- Advertisement -

যদিও সে এটি মজা করেই বলে।

বিগত এক সপ্তাহ পিকু এবং হেনা ভাবী বেড়িয়েছে আমাদের এখানে।

বন্ধুর সাথে কথা হলেও দেখা হয়না অনেক বছর। বার বার বলেছি – ‘দেখা না দিলে বন্ধু কথা কইও না’। কে শুনে কার কথা। সময় হয়নি তার এতদিন, তবে এবার হয়েছে। স্মৃতি ধরে রাখার সহজ উপায় নাকি ফেসবুক পোস্ট। তাই অনেকগুলো স্মরণীয় মুহূর্ত ফ্রেমে বন্ধী করে রাখলাম আমার এই পোষ্টে।

আমার এই বন্ধু দির্ঘ দিন কাটিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে।

তার কর্ম জীবনের শুরু একজন কৃষিবিদ হিসাবে  হলেও ক্যাডার পরিবর্তন করে সে যোগ দিয়েছিল বাংলাদেশ পুলিশে। হয়ত উদ্দেশ্য আরো বেশী জনসেবা করা। সেই সুযোগ আমার বন্ধু কতটা পেয়েছে সেই তা ভাল বলতে পারবে। তবে আমি জানি তার চেষ্টার ত্রুটি ছিলা না। শুনেছি সে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার থাকা অবস্থায় সেখানকার জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রনে আনতে পেরেছিল এবং তখনকার সরকার তাকে পিপিএম পদকে ভূষিত করেছিল।

পুলিশ সম্পর্কে আমাদের সবারই হয়ত এক ধরনের নেতিবাচব ধারনা আছে। তবে সবাইতো আর সেই ধারনায় পড়ে না। আমার বন্ধুকে আমি এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম বলব। সে প্রায়শই বলে, দেশে মানুষ শুধু শুধুই মিথ্যা কথা বলে।  দরকারে বলে, বে-দরকারেও বলে।

আমি মনে মনে ভাবলাম বিদেশে আসলে মানুষ হয়ত ভাল হয়ে যায়। আর দেশে থাকলেই গরমের চাপে পিষ্ট হয়ে মিথ্যা বলে। আমি বললাম – দোস্ত একটা উদাহরন দিয়ে বুঝিয়ে বল।

মজার ব্যপার হল এর মধ্যেই একটি প্রমান সামনে এল।

আমার বন্ধু আর সাবেক এক সহকর্মীকে ফোন করল হোয়াটস অ্যাপে। শোনা যায় সে কর্মকর্তা এখন সপরিবারে কানাডায় আছেন। আমার বন্ধুর সাথে টরেন্টো থেকে দুজন দেখা করতে এসেছে। তারাও জানাল একই কথা।

আমার বন্ধু তাই তার এক কালের সহকর্মি মনোজকে হোয়াটস এপ কল দিল, একটি ভিন দেশী ফোন নম্বর থেকে। অবাক ব্যপার ফোন বাজতেই কল রিসিভ হল অন্য প্রান্তে।

: মনোজ (ছদ্ম নাম) কেমন আছ? আমি ভাবলাম কানাডায় যখন বেড়াতে এসেছি একটু খবর নেই তোমার। কেমন যাচ্ছে কানাডার দিনকাল

অন্য প্রান্ত থেকে খুব পরিস্কার গলা।

মনে হচ্ছে পাশে বসেই কেউ কথা বলছে।

: আপনার ফোন নম্বর এরকম উল্টাপাল্টা কেন?   

আমিতো কানাডায় থাকি না। বউ বাচ্চা ওখানে থাকলেও আমি থাকি গ্রামের বাড়ি বরিশালে। আমার পাসপোর্ট বাতিল হয়ে গিয়েছে। এখন তো আর বের হতে পারছিনা।

আমার ধারনা, অচেনা রাশিয়ান একটি ফো্ন নম্বর থেকে ফোন পেয়ে মনোজ হয়ত ভেবেছে এটি তার বন্ধুপ্রতিম কোন গোয়েন্দা সংস্থার  ফোন। তাই হয়ত কাল বিলম্ব না করে সাথে সাথেই ব্যতিব্যস্ত হয়ে ফোন ধরেছে।

কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি।

আমাদের এখানে সময় তখন বিকেল চারটা আর বাংলাদশে রাত দুইটা। এত রাতেতো দেশ থেকে ফোন ধরার কথা না। আর ধরলেও ঘুম ঘুম থাকার কথা। কিন্তু ঘুমের লেশ মাত্র নেই।

এত স্পষ্ট ভাষায় অতি সাবলীলভাবে নির্জলা মিথ্যা বলার যে বঙ্গীয় খাছিলত, তা মনোজের বিদেশে এসে এক বিন্দুও বদলায়নি।

হুদাই মিছা কতা কয় – দরকারে ও কয়, বে-দরকারেও কয়।”

কি অবাক এই পৃথিবী!!

 

উইন্ডসর, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent