
অনেকের মধ্যেই এখনো এই ভুল ধারণা প্রচলিত যে, ফ্লুতে আক্রান্ত হওয়া আর সাধারণ ঠান্ডা লাগা একই বিষয়। কিন্তু কানাডার চিকিৎসকরা ফের একবার সতর্ক করে দিয়েছেন ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু কোনো সাধারণ ভাইরাসজনিত অসুখ নয়; বরং এটি গুরুতর এমনকি প্রাণঘাতী জটিলতার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
সম্প্রতি ইনফ্লুয়েঞ্জা-সংক্রান্ত জটিলতায় অটোয়া এলাকায় তিন শিশুর মৃত্যুর ঘটনার পর বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। বুধবার সিটিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘ইওর মর্নিং’-এ এই নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন মন্ট্রিয়লভিত্তিক সংক্রামক রোগ ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ক্রিস্টোফার লাবোস।
অটোয়া পাবলিক হেলথ সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, মৃত তিন শিশুর বয়স ছিল ৫ থেকে ৯ বছরের মধ্যে এবং তারা ইনফ্লুয়েঞ্জা ‘এ’-সংক্রান্ত গুরুতর জটিলতায় ভুগছিল। অন্টারিওসহ পূর্ব কানাডাজুড়ে চলতি ফ্লু মৌসুমে রেকর্ড সংখ্যক মানুষের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে আগেই সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তার মধ্যেই শিশুদের মৃত্যুর এই খবর উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
ডা. লাবোস বলেন, “অনেকে ফ্লুকে হালকা ঠান্ডা লাগার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। কিন্তু বাস্তবে এটি ভয়াবহ আকার নিতে পারে। ফ্লু থেকে মারাত্মক নিউমোনিয়া হতে পারে, কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। এমনকি বয়স্কদের ক্ষেত্রে ইনফ্লুয়েঞ্জার সংক্রমণের পর হৃদরোগের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, ভাইরাসের কারণে শরীরের একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ একসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। “এই কারণেই ফ্লুকে শুধুমাত্র ঠান্ডা লাগা বলে অবহেলা করা বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ইনফ্লুয়েঞ্জা সত্যিই একটি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর ভাইরাল সংক্রমণ,” বলেন তিনি।
এ বিষয়ে একই ধরনের মত প্রকাশ করেছেন টরন্টোভিত্তিক সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আইজ্যাক বোগোশ। তিনি জানান, “আমরা সবাই জানি, ইনফ্লুয়েঞ্জা একটি অত্যন্ত মারাত্মক ভাইরাস। বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর এর কারণে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।”
ডা. বোগোশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর কানাডায় আড়াই থেকে তিন হাজার মানুষ ইতোমধ্যেই ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, “এই ভাইরাস সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নেয় শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম বা যাদের আগে থেকেই অন্য কোনো গুরুতর স্বাস্থ্যগত সমস্যা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে।”
চিকিৎসকরা তাই বারবার ফ্লুকে অবহেলা না করার আহ্বান জানাচ্ছেন। সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া, প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ইনফ্লুয়েঞ্জাজনিত গুরুতর জটিলতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
