এই টরন্টো শহরে

মাথায় একঝাঁক ঘন কালো কুঁকড়ানো চুল

মাথায় একঝাঁক ঘন কালো কুঁকড়ানো চুল। লম্বা একহারা গড়নের মাইকে বক্তৃতারত তরুণের নাম গোলাম মর্তুজা। আশির দশকের এরশাদের সামরিকতন্ত্রের বিরুদ্ধে অসমসাহসী কিংবদন্তি এক ছাত্রনেতা। সিলেট জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি।

একদা বিয়ানীবাজারে এক প্রান্ত থেকে আরেকপ্রান্তে মোটরসাইকেল নিয়ে নিরন্তর ছুটে চলা মর্তুজাকে যে কেউ দেখলে প্রথমে ভাবতে পারেন, এই মানুষ না জানি কত ভয়ংকর। কিন্তু একবার যিনি মর্তুজার সান্নিধ্য পেয়েছেন, তারা জানেন কী মায়াময় উদ্বেলিত প্রাণ তার। মানুষের প্রসংশায় পঞ্চমুখ। মনে আছে, একানব্বইয়ের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ভোট দিতে আমি ঢাকা থেকে বিয়ানীবাজার গিয়েছি। নুরুল ইসলাম নাহিদ আমাদের প্রার্থী। নির্বাচনে নাহিদ ভাইকে সমর্থন দিতে ও নির্বাচনে বিভিন্ন প্রকার সাহায্য সহযোগিতা ও গণসংযোগ রক্ষা করতে বেশ কয়েকটি গাড়ি বরাদ্দ হয়েছে শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের পক্ষ থেকে। এদের কেউ কেউ ঢাকা থেকে গাড়ি এনে কর্মীদের জন্য বরাদ্দ করেছেন। মর্তুজার জন্যও একটি গাড়ি বরাদ্দ হয়েছে। সেই গাড়ির ড্রাইভার ঢাকা থেকে এসেছেন। মর্তুজার সঙ্গে বেশ কিছুদিন থেকে তার ভীষণ ভক্ত হয়ে গেছেন৷ আমি ঢাকা থেকে এসেছি ভোট দিতে। মর্জুতার সঙ্গে দেখা হতেই ড্রাইভারের সঙ্গে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন৷ আমার যেহেতু অন্য পরিচয় দেওয়ার মতো কিছুই নেই, তবুও মর্তুজা ড্রাইভারের সঙ্গে পরিচয়ের সময় জোর দিয়ে বলছেন- আমার বন্ধু দেলওয়ার। ঢাকায় থাকে। অর্থাৎ, ঢাকায় থাকাও একটা গুণ!

- Advertisement -

মর্তুজা যে বছর ছাত্র ইউনিয়নের সিলেট জেলা সভাপতি নির্বাচিত হয়, গাড়িতে মোটরসাইকেলে আমরা বন্ধুরা সিলেটে যাই। বিখ্যাত সারদা হলে কাউন্সিল হয়েছিল। সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত মর্তুজার নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের আনন্দ কে দেখে! মর্তুজা তো নয়, যেন আমরা বন্ধুরা একেকজন রাজ্য জয় করে রাজার আসনে বসার অধিকার পেয়েছি। আসলে মর্তুজা যার সঙ্গেই মিশেছেন মনপ্রাণ উজাড় করে দিয়ে সেই বন্ধুত্ব বা সম্পর্ক রক্ষা করেছেন। কত শত-সহস্র মধুর স্মৃতি আছে মর্তুজার সঙ্গে!

আজ থেকে ছাব্বিশ বছর আগে আমি টরন্টো আসি। মর্তুজা মানিক টরন্টোয় এসেছেন মাস ছয়েক আগে। আমি তাদেরকে না জানিয়ে এয়ারপোর্ট থেকে সোজা মর্তুজাদের টরন্টোর ডাউনটাউনের এপার্টমেন্টে এসে দরোজার কড়া নাড়ি।

এই টরন্টো শহরে যারা মর্তুজার সঙ্গে মিশেছেন, তারা প্রায় প্রত্যেকেই তার সান্নিধ্যের উষ্ণ স্মৃতির কথা বারবার উল্লেখ করেন। তার অভাব অনুভব করেন। আমার ব্যক্তিগত ভাবনা ভিন্ন। আমার কোন সময়ই মনে হয়না মর্তুজা দূরে কোথাও। সে তো সবসময়ই আমার কাছাকাছি! হৃদয়ের কাছাকাছি৷ প্রাণের কাছাকাছি।

 

টরন্টো, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent