ম্যানিটোবায় অসংখ্য পাখির মৃত্যু

কানাডার দক্ষিণ ম্যানিটোবায় ফের বুনোহাসের কানাডিয়ান গুজ গণমৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে

কানাডার দক্ষিণ ম্যানিটোবায় ফের বুনোহাসের (কানাডিয়ান গুজ) গণমৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। এবারে ঘটনাটি ঘটেছে উইনিপেগ শহরের উত্তরে লকপোর্ট এলাকায়। সোমবার স্থানীয় বাসিন্দারা বরফে ঢাকা রেড রিভারে প্রায় ৫০টির মতো মৃত বুনোহাস পড়ে থাকতে দেখেন। এলাকাটি উইনিপেগ শহর থেকে আনুমানিক ১৫ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।

এর আগে, গত সপ্তাহেই একই ধরনের আরেকটি বড় ঘটনা ঘটে ম্যানিটোবার নিভারভিল এলাকায়। উইনিপেগ থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত একটি পুকুর থেকে ১৬৫টি মৃত রাজহাস অপসারণ করা হয়। পরীক্ষাগারে করা বিশ্লেষণে নিশ্চিত করা হয়েছে, এসব পাখির মৃত্যু হয়েছে উচ্চমাত্রার প্যাথোজেনিক এইচ৫এন১ ধরনের এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে।

- Advertisement -

কানাডিয়ান ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিসের প্রাণিবিজ্ঞানী ফ্রাঙ্ক ব্যাল্ডউইন মঙ্গলবার জানান, লকপোর্ট এলাকায় পাওয়া মৃত হাসগুলো পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা হয়নি। তবে মৃত পাখির সংখ্যা, অবস্থান এবং সাম্প্রতিক নিভারভিলের ঘটনার সঙ্গে মিল দেখে গবেষকেরা ধারণা করছেন, এই মৃত্যুগুলোর কারণও একই—এইচ৫এন১ এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা।

ব্যাল্ডউইন বলেন, “শুধু একটি নির্দিষ্ট স্থানে এত বিপুল সংখ্যক বুনোহাসের মৃত্যু অত্যন্ত অস্বাভাবিক। নিভারভিল ও লকপোর্ট দুটি জায়গাতেই একই সময়ে এ ধরনের ঘটনা বিরল এবং আমাদের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।”

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রথম শনাক্ত হয় ১৮৭৮ সালে ইতালিতে। সে সময় একে ‘ফাউল প্লেগ’ নামে ডাকা হতো। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাসটি বিবর্তিত হয়েছে। বর্তমানে যে এইচ৫এন১ ধরনটি বিশ্বব্যাপী আধিপত্য করছে, সেটি প্রথম শনাক্ত হয় চীনে ১৯৯৬ সালে। এরপর ধীরে ধীরে ভাইরাসটি বিভিন্ন মহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং শুধু পাখি নয়, বিভিন্ন প্রাণীকেও সংক্রমিত করতে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভাইরাস পাখিদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিবর্তিত হলেও এবছরের পরিস্থিতি ব্যতিক্রমী। এর আগে কখনো এত অল্প সময়ে এবং একই এলাকায় এত বিপুল সংখ্যক বুনোহাসের মৃত্যু দেখা যায়নি। এ কারণে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংস্থা ও গবেষকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ভাইরাসটি কি আরও আক্রমণাত্মক রূপ নিচ্ছে, নাকি পরিবেশগত কোনো নতুন উপাদান এই গণমৃত্যুকে ত্বরান্বিত করছে।

কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের মৃত বা অসুস্থ পাখির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে এবং যেকোনো অস্বাভাবিক ঘটনা সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে জানানোর অনুরোধ করেছে। বন্যপ্রাণী ও জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে।

- Advertisement -

Read More

Recent