
অ্যাথলেটদের কাছ থেকে সংগৃহীত বায়োলজিক্যাল নমুনা সংরক্ষণ, ব্যবহার ও তথ্য প্রকাশ সংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়ে কানাডার ফেডারেল প্রাইভেসি ওয়াচডগের চলমান তদন্তের আইনি ভিত্তিকে চ্যালেঞ্জ করেছে বিশ্ব মাদকবিরোধী সংস্থা (ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সি ওয়াডা)। বিষয়টি ঘিরে কানাডার ফেডারেল কোর্টে আইনি লড়াই শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে গোপনীয়তা ও তথ্য সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
গত বছরের নভেম্বরে কানাডার প্রাইভেসি কমিশনার ফিলিপ ড্রাফ্রেনের কার্যালয় এক ঘোষণায় জানায়, বিশ্ব মাদকবিরোধী সংস্থার অ্যাথলেটদের কাছ থেকে বায়োলজিক্যাল নমুনা সংগ্রহের পদ্ধতি, সেসব নমুনার ব্যবহার এবং তথ্য প্রকাশের চর্চা কানাডার বেসরকারি খাতের জন্য প্রযোজ্য ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন পার্সোনাল ইনফরমেশন প্রোটেকশন অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ডকুমেন্টস অ্যাক্ট (পিপিডা)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে।
প্রাইভেসি কমিশনারের কার্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগ উঠেছে যে বিশ্ব মাদকবিরোধী সংস্থা অ্যাথলেটদের ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল উপাত্ত আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর কাছে প্রকাশ করেছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট অ্যাথলেটদের স্পষ্ট সম্মতি না নিয়েই ওই তথ্য লিঙ্গভিত্তিক যোগ্যতা বা অংশগ্রহণের উপযুক্ততা নির্ধারণে ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি অ্যাথলেটদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবাধিকার প্রশ্নে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখ্য, মাদকমুক্ত ক্রীড়ার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী আন্দোলন জোরদার করতে ১৯৯৯ সালে বিশ্ব মাদকবিরোধী সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সংস্থাটির সদরদপ্তর কানাডার মন্ট্রিয়লে অবস্থিত এবং এটি আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি, বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশন ও সরকারগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে থাকে।
তবে ফেডারেল কোর্টে দাখিল করা এক নোটিশে ওয়াডা দাবি করেছে, যে বিষয়গুলো নিয়ে প্রাইভেসি কমিশনার তদন্ত করছেন, সেগুলোর ওপর কমিশনারের এখতিয়ার নেই। সংস্থাটির যুক্তি হলো, তারা একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক কাঠামোর অধীনে কাজ করে এবং তাদের কার্যক্রম আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলো ও সরকারি কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে নীতি, নিয়ম ও বিধিমালা সমন্বয়ের অংশ।
ওয়াডার আবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্ব মাদকবিরোধী বিধি (ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি-ডোপিং কোড) অনুসরণ করা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ফেডারেশন ও জাতীয় মাদকবিরোধী সংস্থাগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক। এই বিধি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও দিকনির্দেশনা দেওয়া ওয়াডার দায়িত্ব। ফলে তাদের কার্যক্রমকে সাধারণ বেসরকারি খাতের তথ্য ব্যবস্থাপনার কাঠামোর মধ্যে ফেলা সঠিক নয় বলে তারা দাবি করছে।
অন্যদিকে, প্রাইভেসি কমিশনার ফিলিপ ড্রাফ্রেনের কার্যালয় সম্প্রতি বিশ্ব মাদকবিরোধী সংস্থাকে পাঠানো এক চিঠিতে তাদের তদন্তের এখতিয়ার রয়েছে এমন যুক্তি তুলে ধরেছে। কমিশনারের দপ্তরের মুখপাত্র ভিটো পিলিয়েচি জানিয়েছেন, তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। তবে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় এ নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে তারা অপারগ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আইনি লড়াইয়ের ফলাফল ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহারের নীতিমালায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে অ্যাথলেটদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষার প্রশ্নে নতুন মানদণ্ড নির্ধারণের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
