কোভিড-১৯ বেনিফিটের ১০.৩৫ বিলিয়ন ডলার পাওনা সিআরএর

কানাডায় কোভিড ১৯ মহামারিকালে দেওয়া সরকারি আর্থিক সহায়তার একটি বড় অংশ এখনো ফেরত আসেনি

কানাডায় কোভিড-১৯ মহামারিকালে দেওয়া সরকারি আর্থিক সহায়তার একটি বড় অংশ এখনো ফেরত আসেনি। কানাডা রেভিনিউ এজেন্সি (সিআরএ) জানিয়েছে, কোভিড-১৯ বেনিফিট বাবদ বিতরণ করা অর্থের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৩৫ কোটি ডলার এখনো বকেয়া রয়েছে।

সিআরএর মুখপাত্র নিনা লুসোপোভা এক বিবৃতিতে জানান, ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত কোভিড-১৯ সংক্রান্ত বিভিন্ন বেনিফিট হিসেবে কানাডীয় নাগরিকদের মধ্যে মোট ৮ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ, প্রায় ৪ হাজার ৫৩০ কোটি ডলার, দেওয়া হয় কানাডা ইমার্জেন্সি রেসপন্স বেনিফিট (সিইআরবি) কর্মসূচির আওতায়।

- Advertisement -

লুসোপোভা বলেন, মহামারির শুরুর দিকে খুব অল্প সময়ের মধ্যে লাখ লাখ মানুষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে এই সহায়তা পৌঁছে দিতে হয়েছিল। সে সময় পরিস্থিতির তীব্রতা বিবেচনায় দ্রুত অর্থ বিতরণই ছিল সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তবে পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, কিছু ক্ষেত্রে প্রাপ্যতার শর্ত পূরণ না করেও অনেকে এই সুবিধা পেয়েছেন। ফলে সেই অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়।

তিনি জানান, ২০২৩ সাল থেকেই যাঁরা কোভিড-১৯ বেনিফিট বাবদ অতিরিক্ত বা অনুপযুক্ত অর্থ পেয়েছেন, তাঁদের কাছে ঋণ পরিশোধের অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানো শুরু করেছে সিআরএ। এরই অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

সিআরএর তথ্য অনুযায়ী, ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১৪ লাখ মানুষ স্বেচ্ছায় প্রায় ৩৩০ কোটি ডলার পরিশোধ করেছেন। তবে এই পরিশোধের হিসাব কেবল সিআরএর মাধ্যমে দেওয়া আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট কানাডা থেকে প্রদত্ত সুবিধাগুলো এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত নয়।

লুসোপোভা আরও বলেন, যাঁরা ইচ্ছাকৃতভাবে বকেয়া অর্থ পরিশোধ এড়িয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সিআরএ কঠোর কিন্তু দায়িত্বশীল অবস্থান নিচ্ছে। যদি তদন্তে দেখা যায় যে কোনো করদাতার পুরো অর্থ পরিশোধের সক্ষমতা রয়েছে, কিন্তু তারপরও তিনি ঋণ শোধ করছেন না, সে ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা সিআরএর হাতে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মহামারিকালীন জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে গিয়ে যে আর্থিক জটিলতা তৈরি হয়েছে, তার দায় এখন ধীরে ধীরে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে কানাডা সরকার। তবে বিপুল অঙ্কের বকেয়া অর্থ পুরোপুরি আদায় করা সিআরএর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই থেকে যাচ্ছে।

- Advertisement -

Read More

Recent