
কানাডার শীত সাধারণ মানুষের জন্য যেমন কঠিন বাস্তবতা, তেমনি অনেকের কাছেই প্রশ্ন প্রচণ্ড ঠান্ডায় কীভাবে টিকে থাকে চিড়িয়াখানার প্রাণীরা? তবে টরন্টো জু-এর কর্তৃপক্ষ বলছে, এই শীত তাদের প্রায় তিন হাজার প্রাণীর জন্য বড় কোনো সমস্যা নয়।
চিড়িয়াখানার ওয়াইল্ডলাইফ কেয়ার বিভাগের ব্যবস্থাপক মার্ক ব্র্যান্ডসন জানান, স্কারবোরোভিত্তিক এই চিড়িয়াখানার বহু প্রাণীর শিকড় বিশ্বের নানা প্রান্তে বিশেষ করে উষ্ণ ও নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুর অঞ্চলে। তবু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব প্রাণী কানাডার চার ঋতুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে।
ব্র্যান্ডসনের ভাষ্য অনুযায়ী, টরন্টো চিড়িয়াখানায় থাকা প্রায় ২০০ প্রজাতির প্রাণীর বড় একটি অংশের জন্মই হয়েছে এই চিড়িয়াখানায়। ফলে তারা জন্ম থেকেই স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত। তিনি বলেন, “আমাদের অনেক প্রাণীই আসলে টরন্টোর। তাদের বেড়ে ওঠা এখানেই, তাই শীত তাদের জন্য অচেনা নয়।”
তিনি আরও জানান, চিড়িয়াখানার বহু প্রাণী আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘স্পিসিজ সারভাইভাল প্ল্যান’-এর আওতায় পরিচালিত হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিপন্ন প্রজাতির টিকে থাকা নিশ্চিত করা হয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি সুমাত্রান ওরাংওটাং এবং ওয়েস্টার্ন লোল্যান্ড গোরিলার কথা উল্লেখ করেন। এসব প্রাণীর উৎপত্তি আফ্রিকার গভীর জঙ্গলে হলেও বর্তমানে দক্ষিণ অন্টারিওর আবহাওয়ায় তারা সারা বছরই সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে।
শীতকালে প্রাণীদের আরাম ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই বিশেষ প্রস্তুতি নেয়। ব্র্যান্ডসন বলেন, “আমরা আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু করি, যাতে হঠাৎ তাপমাত্রা খুব কমে গেলেও প্রাণীরা কোনো ধরনের ক্ষতির মুখে না পড়ে।”
এই প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ‘হিট জোন’ ব্যবস্থা। চিড়িয়াখানার বিভিন্ন এলাকায় উষ্ণ স্থান তৈরি করা হয়, যেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাণীরা আশ্রয় নিতে পারে। এই ব্যবস্থা ইনডোর ও আউটডোর উভয় জায়গাতেই রয়েছে। শুধু শীতকালেই নয়, গ্রীষ্মকালেও একই ধরনের পরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়। তখন প্রাণীদের ঠান্ডা ও স্বস্তিদায়ক রাখতে বিশেষ ছায়াযুক্ত ও শীতল এলাকার ব্যবস্থা করা হয়।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের মতে, প্রাণীদের প্রাকৃতিক আচরণ ও স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রেখেই আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। আর সে কারণেই কানাডার কঠিন শীতেও টরন্টো চিড়িয়াখানার প্রাণীরা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারছে।
