
যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল শহরের ডাউনটাউন এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতির জেরে একটি ম্যাকডোনাল্ডস শাখায় গ্রাহকদের জন্য স্বাভাবিক প্রবেশ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙচুর, মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড ও সহিংস অপরাধের ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ ডাইনিং রুম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে গ্রাহকরা আর সামনের দরজা দিয়ে ঢুকতে পারছেন না; বরং একটি প্লেক্সিগ্লাসে ঢাকা ছোট হ্যাচের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
পাইক প্লেস মার্কেট থেকে কয়েক ব্লক দূরে, ৩য় অ্যাভিনিউ ও পাইন স্ট্রিটের কোণায় অবস্থিত এই শাখাটি শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এলাকাটি অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠায় দোকানটির চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে। দোকানের কাচ ভাঙচুর ঠেকাতে জানালার অংশে প্লাইউড লাগানো হয়েছে এবং প্রবেশপথ স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এ শাখাটি নিয়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। এলাকাবাসীর একটি অংশ মজা ও উদ্বেগ মিশিয়ে দোকানটির নতুন নাম দিয়েছেন “McStabby’s”। এই নামের মধ্য দিয়েই এলাকায় সহিংসতা ও ছুরিকাঘাতের মতো ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ পাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ৩য় অ্যাভিনিউ ও পাইন স্ট্রিট এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই মাদক সেবন, প্রকাশ্য ঝগড়া ও সহিংস ঘটনার জন্য কুখ্যাত। তার ভাষায়, “দিনের বেলায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও রাত নামলেই ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।”
এই ম্যাকডোনাল্ডস শাখার আশপাশে অতীতেও একাধিক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। ২০২০ সালে শাখাটির কাছেই গুলিবর্ষণের ঘটনায় এক নারী নিহত হন এবং অন্তত সাতজন আহত হন, যা সে সময় জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দেয়। এরপরও সহিংসতা থামেনি। ২০২৪ সালে একই এলাকায় একজন ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করার অভিযোগ ওঠে, যা আবারও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
কর্মচারীরাও এই অনিরাপদ পরিবেশের সরাসরি শিকার। দোকানের এক কর্মী জানান, প্রায়ই দোকানের সামনে শারীরিক হামলা, চিৎকার-চেঁচামেচি ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে। এতে কর্মীদের মানসিক চাপ বেড়েছে এবং নিরাপত্তা নিয়ে ভয় কাজ করে।
শাখাটির মালিক ডেভিড সান্টিলানেস বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির সময় প্রথমে ডাইনিং রুম বন্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় কর্মীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সেটি আর খোলা হয়নি। তিনি জানান, “আমরা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে চাই না। তাই সীমিত আকারে হলেও খাবার সরবরাহ চালু রেখেছি, যাতে কর্মী ও গ্রাহক দু’পক্ষই তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকে।”
এদিকে সিয়াটল পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, ডাউনটাউন এলাকায় ২৪ ঘণ্টা টহল জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে ৩য় অ্যাভিনিউ ও পাইন স্ট্রিট এলাকাকে ‘হাই প্রায়োরিটি জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সেখানে নিয়মিত বাইক টহল, ফুট বিট, ওয়ারেন্টভিত্তিক গ্রেপ্তার অভিযান এবং মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হচ্ছে।
তবুও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে নিরাপত্তা জোরদার করা সত্ত্বেও কেন একটি জনপ্রিয় ফাস্টফুড রেস্তোরাঁকে এমন চরম পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে? স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু একটি দোকানের সমস্যা নয়, বরং ডাউনটাউন সিয়াটলের সামগ্রিক নিরাপত্তা সংকটের প্রতিফলন।
